ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

টকশোতে বাগযুদ্ধের পর এবার রাশেদ ও তুষারের পাল্টাপাল্টি পোস্ট

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
সারোয়ার তুষার ও রাশেদ খাঁন। ছবি: সংগৃহীত

দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশো ‘স্বাধীন সংলাপ’-এ তুমুল বাগযুদ্ধে জড়ানোর পর এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মোহাম্মদ রাশেদ খাঁন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পৃথক ফেসবুক পোস্টে একে অপরকে ইঙ্গিত করে নানা মন্তব্য করেন দুই রাজনীতিক।

এর আগে, সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে এটিএন নিউজের নিয়মিত আয়োজন ‘স্বাধীন সংলাপ’-এর সাম্প্রতিক পর্বে বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রমের মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তর্কে জড়ান রাশেদ খান ও সারোয়ার তুষার।

৪২ মিনিটের ওই আলোচনার শেষ দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উপস্থাপিকা রাশেদকে উদ্ধৃত করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে একটি প্রসঙ্গে যেতে চাইলে তুষার রাশেদের বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

একপর্যায়ে রাশেদকে উদ্দেশ করে তুষার বলেন, ‘উনি (রাশেদ) শতভাগ চ্যালেঞ্জ করে এমন অনেক কথাই বলেন। মিথ্যা কথা বলায় ওনার বিরাট… আছে।’ এরপর থেকে মূলত টকশো আর এগোতেই পারেনি। জুলাই আন্দোলনে কার ভূমিকা কেমন ছিল, কে মামলা খেয়েছে আর কে খায়নি- সেসব নিয়ে তর্কে জড়ান দুই বক্তা।

এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার দুপুর ১টা ১৯ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে সারোয়ার তুষারের বক্তব্যের জবাব দেন রাশেদ খাঁন।

তিনি বলেন, ‘গতকাল এটিএন নিউজ টকশোতে আমি পুরোটাই গঠনমূলক কথা বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সারোয়ার তুষার শেষ পার্টে এসে আমাকে ব্যক্তিগতভাবে অ্যাটাক করে বলেছে, মিডিয়া দেখলে সবার আগে, আর পুলিশ দেখলে সবার পরে থেকেছি! এটা নাকি তাকে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা বলেছে! কোন নেতারা? যারা গণঅভ্যুত্থানের পরপর এনসিপিতে যুক্ত হয়েছে! অথচ আমি ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনাকে কটুক্তির মামলায় জেল খেটেছি, ১৫ দিন রিমান্ডের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এর প্রেক্ষিতে সে আমাকে বলেছে, জেল তো চুরির মামলায়ও হয়! তার কাছে জেল-জুলুমের কোন মূল্য নাই! অথচ আমি ২০২৪ সাল পর্যন্ত যুগপৎ আন্দোলনে রাজপথে থেকে ভূমিকা রেখেছি। সে সময় তাকে কখনো রাজপথে দেখি নাই।’

২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে নিজের ভূমিকার প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আর ২০২৪ এর আন্দোলনে আমি তো ছাত্র না যে নেতৃত্ব দেবো। শেখ হাসিনা মানুষ হত্যা শুরু করলে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীদের সাথে রাজনৈতিক সমন্বয় করেছি।’

রাশেদের দাবি, গণঅভ্যুত্থানের সময় নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আখতার হোসেনদের সঙ্গে জাতিসংঘের বাংলাদেশ প্রতিনিধির বৈঠক তার মাধ্যমে হয়েছিল।

১৮ জুলাই তিনি সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ ও আহনাফ সাঈদ খানকে আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান এবং এ নিয়ে সমন্বয়ের কাজ শুরু করেন বলেও দাবি করেন। পাশাপাশি আহনাফ সাঈদ খানের কাছে কর্মসূচি বাস্তবায়নে লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

রাশেদ আরও বলেন, ‘১৯ জুলাই নুরুল হক নুরকে গ্রেপ্তার করার পরে আমার বাসায় ২ বার অভিযান চালায়। এরপর আমি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর (সালাহউদ্দিন আহমদ) নেতৃত্বে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলন সফল করতে রাজনৈতিক কর্মপন্থা নির্ধারণে কাজ করেছি। না কি সেসময় আন্দোলন নিয়ে কাজ না করে এরেস্ট হলে এরা (নব্য বিপ্লবীরা) খুশি হতো? ভুলে যেয়েন না, সমন্বয়করাও আত্মগোপনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে।’

আন্দোলনের শেষ পর্যায়ের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, ‘এছাড়া যখন আন্দোলন প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো, নতুনভাবে আন্দোলন শুরু করার জন্য ৩১ জুলাই বিএনপিপন্থী শিক্ষক ও আইনজীবীরা যে হাইকোর্টের সামনে নামলো, সেটাও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আমি পরামর্শের ভিত্তিতে ঠিক করেছিলাম। ৩ আগস্ট আমি গ্রেপ্তার ঝুঁকি নিয়ে শহীদ মিনারে গিয়েছি এবং সমন্বয়কদের সঙ্গে কথা বলেছি, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনে সম্পৃক্ত থেকেছি। তখনও আমাকে গ্রেপ্তার করার জন্য তন্নতন্ন করে খুঁজেছে।’

টকশোতে সারোয়ার তুষারের সঙ্গে বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘যাইহোক, গতকালের টকশোতে সারোয়ার তুষার আমাকে জিজ্ঞেস করেছে প্রধানমন্ত্রী কোথায় ছিলো, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোথায় ছিলো। আমি উত্তর দিয়েছি, তারা নির্বাসিত ছিলো, সেখান থেকে কাজ করেছে। আমি এর প্রেক্ষিতে তাকে প্রশ্ন করেছি, আপনি কোথায় ছিলেন? সে উত্তরে বলেছে, ১৯ জুলাই মাঠে ছিলো। আমি বলেছি, আগে পরে কোথায় ছিলেন, সে উত্তর না দিয়ে আমাকে আক্রমণ করতেই থাকে এবং বেয়াদব ও মিথ্যুক বলে। আমি প্রথমবার তাকে কিছু বলি নাই, কিন্তু ২য় বার আবারও বেয়াদব বলাতে আমি পাল্টা জবাব বলেছি।’

এ প্রসঙ্গে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ইমতিয়াজ মির্জার একটি ফেসবুক পোস্টের কথাও তুলে ধরেন রাশেদ। এ প্রসঙ্গে তিনি পোস্টে বলেন, ‘ইমতিয়াজ মির্জা ভাই লিখেছেন, ‘‘সারোয়ার তুষারকে ২০২৪ জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির দিকে আমাদের ‘প্রগ্রেসিভ বিএএফ’ গ্রুপে যুক্ত করি। জুলাইয়ে আমাদের সব এক্টিভিটির হাব ছিলো প্রগ্রেসিভ বিএএফ, কারন ইয়াং ক্রাউড ছিলো আর দ্রুত এ্যাকশন নেয়া যেতো। ঠিক আগস্টের ২-৩ তারিখে আওয়ামী লীগ গুজব ছড়িয়ে দেয়, হোয়াটসএ্যাপ গ্রুপ গুলোতে যারা থাকবে তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে। যে শোনা সেই কাজ, সারোয়ার তুষার এর মত বিশাল বিশাল বিপ্লবীরা গ্রুপ থেকে চম্পট দেয়’’।’

সবশেষে সারোয়ার তুষারের সঙ্গে বিতর্কের বিষয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আমাকে কেউ ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করবে, আর আমি তাকে চুমু দিবো! এমন সুশীল ব্যক্তি আমি না। আপনারা শব্দের রাজনীতি করতে চান, আবার এতো চেতেন কেন? নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বলে ভণ্ডবস্তের রাজনীতির সূচনা করেছেন। এগুলো পরিহার করুন, নতুবা ইতরের সঙ্গে ভদ্রতা দেখানোর রাজনীতি বাংলাদেশের বাস্তবতায় কারও পক্ষে সম্ভবপর হবে না। ভদ্রতা আপনার পক্ষ থেকে আসলে, আমার পক্ষ থেকে আরও বেশি আসবে।’

রাশেদের ওই পোস্টের পর তাকে ইঙ্গিত করে পাল্টা জবাব দেন সারোয়ার তুষারও। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুক পোস্টে এনসিপির এ নেতা দাবি করেন, দেনদরবার বা লবিং করে তিনি টকশোতে যান না। তাকে টকশোতে ডাকতে কারও মাধ্যমে অনুষ্ঠান প্রযোজকদের তদবিরও করান না।

সারোয়ার তুষার লিখেছেন, ‘আমি দেনদরবার কিংবা লবিং করে টকশোতে যাই না। আমাকে টকশোতে যেন ডাকে সে জন্য অমুক-তমুককে দিয়ে টকশো প্রডিউসারদের তদ্বিরও করাই না। সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে টেলিভিশন হাউজগুলোকে চাপ দিয়ে নিজেকে টকশো আলোচক বানাই নাই।’

‘এমন দলছুট ভ্যাগাবন্ড কারো কারো কথা জানি, যারা হাউজগুলোতে সরকারি ক্ষমতার জোরে চাপ সৃষ্টি করে টকশোতে যায়৷ কারণ সরকারের কাছ থেকে যে খুদকুঁড়া পায়, তা হালাল করতে হবে তো! আমি কারো নাম নেই নাই, কিন্তু দেখবেন ঠিকই জায়গামতো গিয়ে ঢিলটা পড়বে!’ যোগ করেন তিনি।

‘মিডিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক শতভাগ অর্গানিক’ উল্লেখ করে তুষার বলেন, ‘বিভিন্ন নিউজের জন্য বাইট দেয়া, টকশোতে যাওয়া, কোথাও কথা বললে সেটা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা— আমার প্রতি মিডিয়ার এই মনোযোগের জন্য আমি এতটুকু দেনদরবার, তদ্বির করি নাই। এর সবচেয়ে বড় সাক্ষী হাউজগুলোর সিইও, সিএনই ও প্রডিউসাররা।’

আরও পড়ুন

শেষে ইংরেজিতে তিনি লেখেন, ‘Street dogs won't define me (রাস্তার কুকুরের কথায় আমার পরিচয় তৈরি হয় না)।’

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সরকারকে দ্বিমুখী প্রোপাগান্ডা মোকাবিলা করতে হচ্ছে: আবু হানিফ 
সরকারকে দ্বিমুখী প্রোপাগান্ডা মোকাবিলা করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ।  মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।  আবু হানিফ তার পোস্টে বলেন, সরকারকে দ্বিমুখী প্রোপাগান্ডা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একদিকে বর্তমানে সংসদে থাকা বিরোধীদল নানা বিষয়ে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্তিকর তথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে পরাজিত শক্তি, পলাতক নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বিদেশে বসে প্রতিনিয়ত সরকারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ ও বর্তমান বিরোধীদল ঐক্যবদ্ধ। এসব প্রোপাগান্ডা মোকাবিলা করার জন্য সরকারের উচিত দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রোপাগান্ডার বিপরীতে সঠিক তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা, এই কাজ করতে বিলম্ব হলে জনগণের মাঝে ভুল মেসেজ যাবে। আরটিভি/এসএস
সরকারকে দ্বিমুখী প্রোপাগান্ডা মোকাবিলা করতে হচ্ছে: আবু হানিফ 
মাওলানা আতাউলের দাবি / ‘চট্টগ্রামের মানুষ আগে জান্নাতে যাবে’
চট্টগ্রামের মানুষ আগে জান্নাতে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন সুন্নি ঘরানার বক্তা মাওলানা আতাউল বারী আলকাদেরী। তার এমন বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনার। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে মসজিদের মিম্বারে দাঁড়িয়ে এমন বক্তব্য দিতে শোনা যায়। ভিডিওতে আতাউল বারী বলেন, রাউজানের মানুষ আগে জান্নাতে যাবে। কারণ এই রাউজানের মধ্যে শতকরা ৯০ জন সুন্নি এবং শতকরা ৯০ জন আশেকে রাসুল। রাউজানের পরে রাঙ্গুনিয়া যাবে। তারপরে হাটহাজারী যাবে। তারপর বাঁশখালী যাবে। তারপরে আনোয়ারা যাবে। তারপরে পটিয়া যাবে। তিনি বলেন, এভাবে যেতে যেতে পুরো চট্টগ্রামবাসীকে আল্লাহ জান্নাত দেওয়ার পরে তারপর অন্য জেলার মানুষ যাবে। কারণ চট্টগ্রাম হচ্ছে সুন্নিয়তের ক্যান্টনমেন্ট। যেখানে শতকরা ৯০ জন সুন্নি এবং আশেকে রাসুল।। নিজের দাবির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ৭৩ দলের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এই বক্তা। তিনি বলেন, ‘হাদিসে পাকের মধ্যে আছে, আমার নবী বলেন, কেয়ামতের আগে ৭৩টা দল হবে। এই ৭৩টা দলের মধ্যে ৭২ দল জাহান্নামে যাবে। একদল জান্নাতে যাবে। সেটা হচ্ছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত।’ বক্তব্যের শেষে তিনি আরও যোগ করেন, ‘সুতরাং জান্নাতে যেতে চাইলে সুন্নি হয়ে যান। নামের আগে সুন্নি লাগায়ে দেন।’ এদিকে আতাউল বারীর এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েপড়ার পর নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে তার বক্তব্যকে মনগড়া ও ভিত্তিহীন দাবি হিসেবে উল্লেখ করছেন। আবার কেউ কেউ বক্তব্যটি নিয়ে হাস্যরসও করছেন। মাওলানা আতাউল বারী আলকাদেরী সুন্নি বা রেজভী ধারার স্থানীয় বক্তা ও শায়ের হিসেবে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্যের কারণে এর আগেও তিনি আলোচনায় এসেছেন। স্থানীয়দের তথ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকা বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, তার বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা এলাকায়। আরটিভি/এসআর
‘চট্টগ্রামের মানুষ আগে জান্নাতে যাবে’
সাদিক কায়েমকে নিয়ে রফিকুল ইসলাম মাদানীর বিস্ফোরক মন্তব্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও ছাত্রনেতা সাদিক কায়েমকে নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন আলোচিত ইসলামিক বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতার মোহে ও পশ্চিমা বিশ্বকে খুশি করার জন্য ইসলামপন্থীরাও আজ নিজেদের আদর্শ বিসর্জন দিয়ে নীতিহীন প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ফেসবুক পোস্টে রফিকুল লেখেন, ভাবছিলাম ডাকসু ও সাদিক কায়েম বিষয়ে আর কিছু লিখব না। কারণ আমরা যতই বলি, এরা দুঃখ প্রকাশ পর্যন্ত করবে না। কারণটাও স্পষ্ট- এরা এখন প্ল্যানিং করে আমেরিকা ও তাদের পশ্চিমা আব্বুদের খুশি করছে। তিনি লেখেন, এখন দেখছি, এমন ঘৃণ্য বিষয়ের পরও একদল ছাপড়ি ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর লাগিয়ে দিয়েছে সাদিক কায়িমের বক্তব্যের পক্ষে বয়ান তৈরি করার জন্য। এরা বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কি মাদ্রাসা? এখানে কি সব মেয়েদের পর্দা করতে হবে? এই মোল্লারা কি বুঝে? আরও যত থার্ডক্লাস মার্কা ফালতু যুক্তি! অথচ যারা বিরোধিতা করছে, তারা কেউ তো বলেনি মেয়েরা কেন খেলল, মেয়েরা কেন পর্দা করে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন খেলাধুলা হয়, মেয়েরাও খেলে-এটা সবাই জানে। এটা এখনই বললেই বন্ধ হয়ে যাবে না। পোস্টে তিনি আরও লেখেন, কিন্তু প্রশ্ন হলো, সাদিক কায়িমের মতো ইসলামি নামধারী সংগঠনের দায়িত্বশীল জায়গা থেকে, সেই খেলা প্রথম আয়োজন করেছে মর্মে, স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে শর্ট প্যান্ট ও টাইট ফিটিং গেঞ্জি পরা মেয়েদের সামনে তাদের খুশি করতে একেবারে গদগদ হয়ে বক্তব্য দেওয়া এবং আয়োজনে ভূমিকা রাখা আরেকজনের প্রশংসায় হাততালি দিতে বলা-এটা কেমন বিষয়। আল্লাহর সুস্পষ্ট হারামকে প্রকাশ্যে আয়োজন, স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন, তারপর উৎসাহ দেওয়া-সেটার আয়োজকের জন্য হাততালি! এই লোকের বিধান কী? দেশের অথবা তাদের পছন্দমতো বাইরের শীর্ষস্থানীয় ফতোয়া বোর্ডে এটার ফতোয়া চাওয়া হলে কী ফতোয়া আসবে-ভাবতেই গা শিউরে ওঠে! মাদানী লেখেন, আসলে আমার মনে হয়, এগুলো তারাও বুঝে। কিন্তু এখন মৌসুম হলো-আমেরিকা ও পশ্চিমকে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য খুশি করার। যেটা আওয়ামী লীগ-বিএনপিও করে! যেমন শামা ওবায়েদ জাতিসংঘে গিয়ে বলছে, আমরা পিংক বাসে মহিলা চালক দিয়েছি! মানে এটার হাজিরাও সেখানে দিতে হবে! আমার ধারণা, সাদিক কায়িম একা না-এরা সবাই আগামী ১-২ বছর পশ্চিমের কাছে নিজেদের মডারেট ও প্রগতিশীল বোঝাতে, ক্ষমতা পাওয়ার নেশায় আরও অনেক নিচে নামবে। ক্ষমা তো চাইবেই না! তিনি আরও লেখেন, বাকি একটা পরামর্শ-ক্ষমতার জন্য প্রকাশ্যে নিচে নামলেও, গোপনে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েন। তবে সেটাও আল্লাহ গ্রহণ করবেন কি না, উনার বিষয়। কারণ তিনি তো মনের খবর জানেন! আরটিভি/এসকে
সাদিক কায়েমকে নিয়ে রফিকুল ইসলাম মাদানীর বিস্ফোরক মন্তব্য
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর
জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে এ ঘটনা ঘটে।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর
‘মাদরাসা শিক্ষকের অপরাধে চুপ থাকেন কেন?’ যে জবাব দিলেন আহমাদুল্লাহ
মাদরাসায় শিশু নির্যাতনের বেশ কয়েকটি দুঃখজনক ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। শায়খ আহমাদুল্লাহ কিছু বক্তব্যে এ ধরনের অপরাধের নিন্দা করেছেন, মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ৬ দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনাও পেশ করেছেন। এরপরও অনেকে মনে করেন তিনিসহ আলেমরা এ ইস্যুতে যথেষ্ট সরব নন।  অপরাধীরা মাদরাসা শিক্ষক দেখেই তারা চুপ করে আছেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে একজন শ্রোতা সরাসরি এ রকম অভিযোগসহ প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন যে, ‘মাদরাসা শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীর প্রতি পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু এ ধরনের ঘটনায় আপনাদেরকে কথা বলতে শোনা যায় না কেন?’ উত্তরে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, এই ধরনের অভিযোগ আনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ভাই। আমাদের সমাজের বড় একটি মসিবত হলো, আমরা কোনো অপরাধ সংগঠিত হলে অপরাধীকে বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে বা নানা গ্রুপে ফেলে তার অপরাধের মাত্রাটাকে অনেক সময় হালকা করে ফেলি; কখনো জ্ঞাতসারে, আবার কখনো অজ্ঞাতসারে। আমরা এর আগেও বহুবার স্পষ্ট ভাষায় কথা বলেছি যে, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কোরআনে অপরাধের জন্য যেই নির্দিষ্ট শাস্তির বিধান দিয়েছেন, তা দেশের আর কারও প্রতি সরকার কার্যকর করতে পারুক বা না পারুক, যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আল্লাহর বিধান দ্বারা শাসিত হতে চায়—যেমন মাদ্রাসার ছাত্র, শিক্ষক, আলেম-ওলামা ও দ্বীনদার মানুষ—তাদের প্রতি তো অন্তত তা কার্যকর করা যায়। তাদেরকে তো এই বিধান দিয়ে শাসন করা সম্ভব, নাকি? আপনারা তাদের প্রতি সেই কোরআনিক শাস্তিটা কার্যকর করছেন না কেন? তাদের ওপর দৃষ্টান্তমূলক দু-চারটা শাস্তি নিশ্চিত করে কার্যকর করে দেখুন, দেখবেন অপরাধের সাথে যুক্ত সবাই এক নিমেষে সোজা হয়ে গেছে। কিন্তু কাজের বেলায় তো আপনারা সেই সঠিক পদক্ষেপটা গ্রহণ করেন না।   আমাদের বিচারব্যবস্থায় বিদ্যমান স্থবিরতা, চরম দীর্ঘসূত্রতা এবং ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া অপরাধীর তথাকথিত অধিকার রক্ষার যে কালচার সেগুলো একটা বড় সমস্যা। অবশ্য ইসলামও স্বীকার করে যে, অপরাধীর মৌলিক অধিকার রক্ষা করা জরুরি। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই অভিযুক্তকে চূড়ান্ত অপরাধীর মতো ট্রিট করাটা এক ধরনের জুলুম। কিন্তু অপরাধীর প্রতি অতিরিক্ত সহানুভূতি দেখানো এবং তথাকথিত অধিকারের দোহাই দিয়ে তাকে ছাড় দিয়ে মাথায় তোলা কিংবা একের পর এক অপরাধের রাস্তা খুলে দেওয়া এগুলো তো সমাজ থেকে অপরাধ বন্ধের সঠিক পথ হতে পারে না। এজন্য অপরাধ সংগঠনের ক্ষেত্রে অপরাধী কি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, নাকি স্কুলের শিক্ষার্থী, সে কি মাদ্রাসার শিক্ষক নাকি স্কুলের শিক্ষক এসব পরিচয় বিবেচনার বিন্দুমাত্র দরকার নেই। আমরা তো দেশের নামীদামী স্কুল ও কলেজের বহু শিক্ষকের যৌন কেলেঙ্কারির খবর শুনেছি। কিন্তু কই, কোনোটার ক্ষেত্রে আমরা দৃষ্টান্তমূলক কোনো কঠোর শাস্তি কার্যকর হতে দেখেছি? বড়জোর তদন্তের নামে তাদেরকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে, কিছুদিন তারা একটু কোণঠাসা হয়ে মুখ লুকিয়ে থেকেছে, তারপর আবার সুবিধা বুঝে অন্য কোথাও ঠিকই ব্যবস্থা করে ফেলেছে।  অপরাধী যে-ই হোক না কেন, সে যদি মাদরাসার হুজুর বা দ্বীনি ব্যক্তিত্ব হয়, প্রয়োজনে তার শাস্তি আরও বাড়িয়ে দিন এবং আরও কঠিন রূপ দিন। কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত কঠোর শাস্তির যে বিধান রয়েছে, তা অন্তত তাদের ওপর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যকর করার আইনি ব্যবস্থা করুন। অথবা দেশের প্রচলিত আইনেই যেভাবে হোক তদন্ত সাপেক্ষে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করুন, যদি তার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে দ্রুত বিচারিক উদ্যোগ গ্রহণ করুন। এই প্রক্রিয়ার ব্যাপারে বা দোষীর শাস্তির ব্যাপারে আপনাদেরকে তো আলেমদের কেউ কখনো বাধা দেয় নাই।  কোনো মাদরাসা শিক্ষকের অপকর্ম কিংবা কোনো মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর কোনো কেলেঙ্কারী প্রকাশ পাওয়ার পর, যদি সিসিটিভি ফুটেজ বা অনুসন্ধানে তা সত্যি প্রমাণিত হয় আজকাল তো আসলে ঘুরিয়ে-পেচিয়ে বানিয়ে বানিয়ে অপরাধ লুকানোর সুযোগ খুবই কম। এটি প্রযুক্তির যুগ, সিসি ক্যামেরার যুগ, এআই ক্যামেরার যুগ। প্রযুক্তি ব্যবহার করে খুব দ্রুততার সাথেই সমস্ত কর্মকাণ্ড মনিটর করা যায়, গভীর তদন্ত করা যায় এবং ঘটনার পেছনের আসল সত্য বের করে আনা যায়। তো কোনো মাদ্রাসা শিক্ষকের অপরাধ দিবালোকের মতো পরিষ্কার হওয়ার পর তাকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হয়েছে আর অমনি সমস্ত হুজুরেরা রাস্তায় নেমে এসে প্রতিবাদ জানিয়েছে যে, না, আমাদের এই হুজুর যত অন্যায়ই করুক না কেন তাকে কোনো শাস্তি দেওয়া যাবে না, বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত এমন কোনো ঘটনা কি কখনো ঘটেছে? আর ভবিষ্যতে কখনো ঘটবে বলে মনে হওয়াটাও কি সম্পূর্ণ অসম্ভব নয়?  অতএব আমাদের মূল প্রয়োজন হলো নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীকে দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি করা। সে কোন পরিচয়ের বা কোন পেশার লোক এই বিভাজনটা তৈরি করা আসলে আমাদের সমাজে অপরাধীদেরকে বেঁচে যাওয়ার সুযোগ পাইয়ে দেওয়া কিংবা বাঁচানোর এক অনভিপ্রেত অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়; যা হয়তো অনেক সময় আমাদের অজ্ঞাতসারেই ঘটে যাচ্ছে। এজন্য শিশুর ওপর কিংবা নারীর প্রতি পাশবিক নির্যাতন কে করেছে বা অপরাধীর পরনে কী পোশাক ছিল তা দেখার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন নেই। সোজা হিসাব, অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি কার্যকর করুন। একজন মাদরাসা শিক্ষক যদি অপরাধে ধরা পড়ে, তবে দিনশেষে সে-ও তো রক্তমাংসের মানুষ, সে তো আর আসমানের ফেরেশতা নয়! তার ভেতরেও নফস বা প্রবৃত্তি আছে, শয়তানের প্ররোচনা আছে। কেবল ধর্মীয় লেবাস গায়ে চাপালেই তো আর দুনিয়ার সব মানুষ রাতারাতি ভালো মানুষ হয়ে যায় না। অতএব অপরাধীর ওপর আইন অনুযায়ী শাস্তিটা প্রয়োগ করুন। আর আপনারা যে আমাদের মুখে শাস্তির দাবি শুনতে চান, এদেশে কত শত লোমহর্ষক ঘটনার পর দেশের সর্বস্তরের মানুষ কত কঠোর শাস্তির তীব্র দাবি তুলেছে, শেষ পর্যন্ত বাস্তবে কয়টা ঘটনার বিচার বা শাস্তি সঠিকভাবে কার্যকর হয়েছে? সুতরাং মূল যে বিচারিক ব্যবস্থার জায়গায় আমাদের সঠিক মনোযোগ দেওয়া দরকার, সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে আমরা কেবল অহেতুক ব্লেম গেম করি এবং অনর্থক পরস্পরকে দোষারোপ করতে থাকি যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। যদি কোনো মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার নৈতিক বা সামাজিক অপরাধের প্রমাণ সন্দেহাতীতভাবে পাওয়া যায়, তবে তাকে অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক ও যথাযথ শাস্তির মুখোমুখি করা হোক—আমরা দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের মতো এই প্রত্যাশা করি এবং জোর দাবি জানাই। বিশেষ করে, দ্বীনি ও ইসলামিক লেবাস ধারণ করে কেউ যদি ইসলাম, সাধারণ মুসলিম এবং আলেম সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে, তবে তার ক্ষেত্রে কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি কার্যকর হওয়ার প্রত্যাশা আমাদের অন্যান্যদের চেয়ে আরও অনেক বেশি এবং এই শাস্তির দাবি আমরাই সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠে করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে একটি সুন্দর, সুস্থ, নিরাপদ ও শান্তিময় বাসযোগ্য আবাসভূমি লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন। আরটিভি/এসআর
‘মাদরাসা শিক্ষকের অপরাধে চুপ থাকেন কেন?’ যে জবাব দিলেন আহমাদুল্লাহ
আরও পড়ুন
জামায়াত ‘ইসলামকে’ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে: রাশেদ খাঁন
নয়াদিল্লির অবস্থানের ওপর নির্ভর করবে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর: রাশেদ খাঁন
শেখ হাসিনা মারা গেলেও তার লাশ আনার মতো লোক নেই: রাশেদ খাঁন
রাশেদ খাঁনের বক্তব্যের মাঝে হঠাৎ হাজির লোডশেডিং, অতঃপর...