ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সালমান শাহর জন্মদিনে শাবনূরের আবেগঘন পোস্ট

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের মনে আজও উজ্জ্বল হয়ে আছে নায়ক সালমান শাহ। আর বিশেষ করে ক্যালেন্ডারের পাতায় ১৯ সেপ্টেম্বর এলেই বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের মনে পড়ে যায় এক তরুণ নায়কের মুখ। অল্প সময়ের উপস্থিতিতেই যিনি ঢালিউডের ইতিহাসে নিজের জন্য তৈরি করেছিলেন আলাদা এক অধ্যায়। তিনি সালমান শাহ। আজ তার জন্মদিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া স্বপ্নের এই নায়ক ১৯৯৩ সালে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন, তিন দশক পরও তা ম্লান হয়নি।

সালমান শাহর জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শাবনূর তার অনুভুতি প্রকাশ করেছেন।

পোস্টে সালমান শাহকে স্মরণ করে শাবনূর লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন, প্রিয় সালমান শাহ!’ এরপর নব্বইয়ের দশকের সেই দিনগুলোর কথা মনে করে তিনি জানান, সময় অনেক পেরিয়ে গেলেও শুটিংয়ের স্মৃতিগুলো এখনও তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। শাবনূরের কাছে সালমান শুধু জনপ্রিয় একজন নায়ক ছিলেন না, ছিলেন অসাধারণ হৃদয়ের একজন মানুষ।

শুটিং সেটে সহকর্মীদের সঙ্গে সালমানের আচরণ কেমন ছিল, সেই স্মৃতিও তুলে ধরেছেন শাবনূর। তার ভাষ্য, ইউনিটের কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ অভিনয়শিল্পী—কাউকেই ছোট করে দেখতেন না সালমান। বরং সবার খোঁজখবর নেওয়া, প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো এবং আপন করে নেওয়ার মধ্য দিয়েই নিজের আলাদা মানবিক পরিচয় তৈরি করেছিলেন তিনি।

শাবনূর লিখেছেন, ‘শুটিং ইউনিটের কর্মী হোক কিংবা সাধারণ অভিনয়শিল্পী কাউকেই কখনো ছোট করে দেখতে না। সবার খোঁজ নিতে, প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়াতে এবং আপন করে যত্ন নিতে।’

সালমানের সেই মানবিকতাকেই তার দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হিসেবে স্মরণ করেছেন শাবনূর। তার মতে, সুন্দর মনের এই মানুষটির কারণেই এত বছর পরও মানুষের হৃদয়ে একইভাবে জায়গা করে আছেন তিনি।

সময়ের দূরত্ব পেরিয়ে সালমান কীভাবে এখনো তার স্মৃতিতে ফিরে আসেন, সেটিও জানিয়েছেন শাবনূর। পুরনো কোনো গান কিংবা সালমান অভিনীত কোনো সিনেমার দৃশ্য চোখে পড়লেই নব্বইয়ের দশকের সেই দিনগুলো যেন আবার ফিরে আসে বলে জানান তিনি। শাবনূরের কথায়, ‘পুরনো কোনো গান শুনলে কিংবা তোমার কোনো সিনেমার দৃশ্য চোখে পড়লে মনে হয়, তুমি যেন আবার ফিরে এসেছ সেই সোনালী দিনগুলোতে।’

প্রিয় সহকর্মীর আত্মার শান্তি কামনা করে সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা ও জান্নাত প্রার্থনা করেছেন শাবনূর। একই সঙ্গে সালমান শাহকে নিয়ে কোনো ধরনের মিথ্যা অপবাদ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য কিংবা অসম্মানজনক মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শাবনূর বলেন, ‘প্রিয় সালমান শাহকে নিয়ে আমরা কেউ যেন কোনো ধরনের মিথ্যা অপবাদ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য বা অসম্মানজনক মন্তব্য না করি। একজন প্রয়াত মহান শিল্পীর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান সব সময় অটুট থাকুক। তার অমর স্মৃতিকে ভালোবাসা ও মর্যাদার সঙ্গেই হৃদয়ে ধরে রাখি।’

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে মৌসুমীর বিপরীতে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় সালমান শাহর। পর্দায় তার স্মার্ট উপস্থিতি, অভিনয়শৈলী ও আলাদা ব্যক্তিত্ব খুব দ্রুতই দর্শকের নজর কাড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি হয়ে ওঠেন নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক।

মাত্র সাড়ে তিন বছরের চলচ্চিত্রজীবনে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করেন সালমান শাহ। এর বেশির ভাগ সিনেমাই পেয়েছিল দর্শকপ্রিয়তা ও ব্যবসায়িক সাফল্য। তবে তার নায়িকাদের মধ্যে শাবনূরের সঙ্গে জুটিই ছিল সবচেয়ে বেশি। তাদের পর্দার রসায়ন নব্বইয়ের দশকের দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সালমান-শাবনূর জুটি পরিণত হয়েছিল ঢালিউডের অন্যতম আলোচিত ও জনপ্রিয় জুটিতে। সালমান শাহ চলে গেছেন বহু বছর আগে। কিন্তু তার সিনেমা, গান, অভিনয় আর ব্যক্তিত্বের স্মৃতি এখনো দর্শকের কাছে জীবন্ত।

তাই জন্মদিন এলেই নতুন করে উচ্চারিত হয় সেই নাম—সালমান শাহ। সহকর্মীদের স্মৃতিচারণা আর ভক্তদের ভালোবাসায় আজও তিনি ফিরে আসেন বাংলা চলচ্চিত্রের সেই সোনালি সময়ের প্রতিনিধি হয়ে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মাঝ আকাশে বিমানে দুই বাংলাদেশি যাত্রীর তুমুল মারামারি
যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে মাঝআকাশে একটি বিমানে দুই বাংলাদেশি যাত্রীর তুমুল মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ফ্লাইট চলাকালে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই যাত্রী হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।
মাঝ আকাশে বিমানে দুই বাংলাদেশি যাত্রীর তুমুল মারামারি
কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর ও চুল কর্তন
পূর্ব বিরোধের জের ধরে সুনামগঞ্জে মধ্যবয়সী এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর ও জোর করে মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। চুল কর্তন ও নির্যাতনের শিকার কনটেন্ট ক্রিয়েটরের নাম সোনা মিয়া ওরফে সোনাই পাগলা (৫০)। 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর ও চুল কর্তন
চেয়ারম্যান হলে ফ্রি গাঁজা-ইয়াবা বিতরণের ঘোষণা যুবকের! যা জানা যাচ্ছে
‘আমি চেয়ারম্যান হলে সবার ঘরে ঘরে বিনা টাকায় গাঁজা-ইয়াবা ফ্রি দেবো’ এমন ঘোষণা সম্বলিত পোস্টারে ছেয়ে গেছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়ন।
চেয়ারম্যান হলে ফ্রি গাঁজা-ইয়াবা বিতরণের ঘোষণা যুবকের! যা জানা যাচ্ছে
বিশ্বকাপের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে যা বললেন আসিফ নজরুল
সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে টাইগারদের ভারতে না পাঠানোর জন্য তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলকে দায়ী করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। যা এখন আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে। এর মাঝেই তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে মুখ খুলেছেন সাবেক এই উপদেষ্টা। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ভারতে দল না পাঠানোর ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। আরটিভির পাঠকদের জন্য পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো— টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: কেন ভারতে যাইনি? ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি তখনকার ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে মূলত আমারই ছিল। আমি নিজেই এ কথা একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছি। তাই এতোদিন পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিষয়টি তদন্ত করে তা প্রকাশের কি এমন কারণ ঘটলো বুঝলাম না।  ঘটনার সূত্রপাত উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের চাপের মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে অপমানজনকভাবে বাদ দেওয়া থেকে। এর পরপরই আমরা নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা এবং বাংলাদেশের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার বিষয়ে অনীহা জানাই। আমাদের আশঙ্কা যে অমূলক ছিল না, আইসিসির প্রথম রিপোর্টেই তার স্বীকৃতি ছিল। সেখানে ভারতে নিরাপত্তা-আশঙ্কার তিনটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছিল—বিশ্বকাপের দলে মোস্তাফিজ থাকলে, বাংলাদেশের সমর্থকরা মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করলে এবং বাংলাদেশে নির্বাচন এগিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে। বিবিসি বাংলা ওই রিপোর্টের হুবহু বাংলা অনুবাদও প্রকাশ করেছিল। এই পরিস্থিতিতে আমরা ভারতে খেলতে যাব কেন? আমরা শেষ পর্যন্ত অন্য কোনো ভেন্যুতে বিশ্বকাপ খেলার জন্য বহু চেষ্টা করেছি। কোনো কোনো দেশ থেকে সমর্থনও পেয়েছিলাম। কিন্তু সম্ভবত আইসিসির নেতৃত্বে ভারতীয়দের আধিপত্যে থাকার কারণে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদেরকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। আমাদের সিদ্ধান্তের পেছনে তিনটি বিষয় ছিল অত্যন্ত পরিষ্কার—দেশের মর্যাদা, আমাদের ক্রিকেটার-সাংবাদিক-সমর্থকদের নিরাপত্তা এবং আগামী নির্বাচনের আগে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা। সে সময় বলা হয়েছিল, বিশ্বকাপ না খেললে বিদেশি দলগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের খেলা বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের নানা উদ্যোগে সেই আশঙ্কাও শেষ পর্যন্ত দূর হয়েছিল। আমি মনে করি, আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। একটি ছোট দেশ বলে কেউ আমাদের ইচ্ছেমতো অপমান করবে, আর আমরা সবসময় তা মুখ বুঝে মেনে নিবো এমন প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। আমি সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সাথে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী । মাথা নত করে সব মেনে নেয়াতে না। এদিকে তদন্ত কমিটির দাবি, তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলই এককভাবে সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেন। এ ক্ষেত্রে অন্য কারও মতামত নেওয়ার প্রয়োজন তিনি অনুভব করেননি। এমনকি ক্রিকেটারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও তিনি শুধু নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কোনো একক ব্যক্তির ইচ্ছায় নেওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে, ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ এবং দেশের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর প্রত্যাশাকে সামনে রেখে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছে কমিটি। আরটিভি/এসআর  
বিশ্বকাপের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে যা বললেন আসিফ নজরুল
কক্সবাজারে হচ্ছে ব্লু ইকোনমি বিশ্ববিদ্যালয়
কক্সবাজারে ‘ইউনিভার্সিটি অব ব্লু ইকোনমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি (ইউবিইএসটি)’ নামে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
কক্সবাজারে হচ্ছে ব্লু ইকোনমি বিশ্ববিদ্যালয়
আরও পড়ুন
আজ ‘স্বপ্নের নায়ক’ সালমান শাহর জন্মদিন
ডনের আচরণে সালমান শাহ হত্যায় জড়িত থাকার প্রমাণ মিলছে: সিআইডি
তিন দশক পেরিয়ে গেলেও কমেনি সালমানের মুগ্ধতা
সালমান শাহর অসমাপ্ত সিনেমাগুলো শেষ করেছিলেন যারা