
উজবেকিস্তানের নিরঙ্কুশ শ্রেষ্ঠত্ব ও বাংলাদেশের সম্ভাবনার আভাস দিয়ে পর্দা নামলো বঙ্গবন্ধু পঞ্চম সেন্ট্রাল সাউথ এশিয়ান আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপের। এ আয়োজন বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে বলে উল্লেখ করেন, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। আর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভাল করতে, পরিকল্পনা নেওয়ার কথা জানান জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সভাপতি।
দশ বছর পর আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিকস টুর্নামেন্টের আয়োজন করে বাংলাদেশ। মিরপুর শহীদ সোহরাওয়াদী ইনডোর স্টেডিয়ামে, ৬৮টি পদকের জন্য লড়াইতে নামেন, ছয়টি দেশের জিমন্যাস্টরা।
পুরুষ সিনিয়র ও জুনিয়র এবং নারী ক্যাটাগরিতে, ২২টি ইভেন্টে হয় এ প্রতিযোগিতা। ১৯টি স্বর্ণ, ১১টি রৌপ্য ও ৮টি ব্রোঞ্জ জিতে, পদক তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে উজবেকিস্তান।
তিনটি স্বর্ণ, ৯টি রৌপ্য ও ১২টি ব্রোঞ্জ জেতে দ্বিতীয় ভারত। আর একটি রৌপ্য ও তিনটি ব্রোঞ্জ জিতে তৃতীয় স্থান দখল করে স্বাগতিক বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা একটি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জ পেলেও পদক বঞ্চিত পাকিস্তান ও নেপাল।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। জিমন্যাস্টিকসে ভালো করতে, শিশু বয়স থেকেই প্রশিক্ষণের আওতায় আনার তাগিদ দেন তিনি।
‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে ঢাকায় এমন একটা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পারায় আমি বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিক ফেডারেশনকে ধন্যবাদ জানাই। এমন মেগা ইভেন্টে থাকতে পেরে আমি গর্বিত। অংশগ্রহণকারী সকল দেশকে ধন্যবাদ জানাই। বিজয়ীদের আমার শুভেচ্ছা। জিমন্যাস্টিকের এমন আয়োজন আমরা আরও করতে চাই। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এমন আয়োজনে সব সময় বংলাদেশ জিমিন্যাস্টিক ফেডারেশনের পাশে থাকবে।’
প্রতিযোগিতার পরিবেশ ও ভেন্যুতে সন্তোষ জানায় অংশ নেওয়া দেশগুলো। দেশীয় জিমন্যাস্টদের জন্য অনুশীলনের সংকট অনেকাংশে দূর হয়েছে জানিয়ে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা জানান ফেডারেশন সভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুন।
আয়োজনে আসরে পুরুষ বিভাগে ছয় দল এবং নারী বিভাগে পাঁচ দল অংশগ্রহণ করে। দলগুলো হলো- ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, উজবেকিস্তান এবং স্বাগতিক বাংলাদেশ।
টুর্নামেন্টের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে উদ্বোধনী দিনে উপস্থিত ছিলেন ২০১৬ রিও অলিম্পিকে রিদমিক জিমন্যাস্টিকসে স্বর্ণপদক জয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত রাশিয়ান জিমন্যাস্ট মার্গারিটা মামুন।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিকের এটিই সর্বোচ্চ আসর। ১০ বছর আগে ২০১১ সালে সুলতানা কামাল চতুর্থ সেন্ট্রাল সাউথ এশিয়ান আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করেছিল ফেডারেশন।
স্বাগতিক বাংলাদেশ ,ভারত, পাকিস্তান,উজবেকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ মোট ছয়টি দেশ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে।
ওয়াই/এসকে




