ভারতীয় উপমহাদেশে ২০০৮ সালের পর থেকে ওয়ানডে সিরিজ জিততে পারছিল না নিউজিল্যান্ড। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে এশিয়ার মাটিতে ওয়ানডে ম্যাচে জিতলেও সিরিজ জিততে পারেনি ব্লাক ক্যাপসরা। সেই হতাশা অবশ্য নতুন বছরের শুরুতেই কাটিয়ে উঠেছিল তারা। সম্প্রতি পাকিস্তানের মাটিতে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে ভারত সফরে গিয়েছিল কিউইরা।
কিন্তু বাবর আজমদের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের গেরো কাটলেও স্বাগতিক ভারতের কাছে রীতিমতো নাকানি চুবানি খেয়েছে সফরকারীরা। এক শুভমান গিলের কাছেই পরাস্ত হয়ে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবলো গোটা নিউজিল্যান্ড দল।
আরও পড়ুন- টি-টোয়েন্টির পর ওয়ানডেতেও শীর্ষে ভারত
আগের দুই ওয়ানডে ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করেই রেখেছিল ভারত। কিন্তু শেষ ওয়ানডে ম্যাচেও সফরকারীদের একটুও ছাড় দিলো না রাহুল দ্রাবিড়ের শিষ্যরা। তৃতীয় ওয়ানডেতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক রোহিত শর্মা ও সিরিজে উড়তে থাকা তরুণ শুভমান গিলের সেঞ্চুরিতে ভর করে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩৮৫ রানের পাহাড় গড়ে ভারত।
জবাবে রান তাড়া করতে নেমে একা ডেভন কনওয়ের লড়াকু সেঞ্চুরির পরও ৪১.২ ওভারে ২৯৫ রানে অলআউট হয়ে যায় কিউইরা। ফলে ৯০ রানের বড় ব্যবধানে হারের সঙ্গে হোয়াইটওয়াশের সঙ্গী হল টম ল্যাথামের নেতৃত্বাধীন দলটি।
মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) ইন্দোরে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায় নিউজিল্যান্ড। এই সিদ্ধান্তই যেন শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায় কিউইদের সামনে। ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা আর শুভমান গিল উদ্বোধনী জুটিতেই জোড়া সেঞ্চুরি তুলে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন।
আরও পড়ুন- কোহলিকে ছাড়িয়ে বাবরকেও ছুঁলেন গিল, তবুও এক রানের আক্ষেপ
দলীয় ২১২ রানে ৮৫ বলে ৯ চার আর ৬ ছক্কায় খেলেন ১০১ রানের ইনিংস খেলা রোহিতের বিদায়ে ভাঙে এই জুটি। এরপর ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি হাকানো গিলও বিদায় নেন ব্যক্তিগত ১১২ রানে। প্রথম ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটার এদিন ৭৮ বলের বিধ্বংসী ইনিংসে ১৩ বাউন্ডারি ও ৫টি ছক্কা হাঁকান।
এরপর বিরাট কোহলি ৩৬, ঈশান কিষান ১৭, সূর্যকুমার যাদব ১৪, হার্দিক পান্ডিয়া ৫৪ আর শেষ দিকে শার্দুল ঠাকুরের ১৭ বলে ২৫ রানের ক্যামিও ইনিংসে ৩৮৫ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় ভারত। নিউজিল্যান্ডের হয়ে বোলিংয়ে ৩টি করে উইকেট নেন জ্যাকব ডাফি আর ব্লেয়ার টিকনার।
জবাবে রান তাড়া করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই শূন্যরানে সাজঘরে ফেরেন ফিন অ্যালেন। তাকে বোল্ড আউট করেন হার্দিক পান্ডিয়া। এরপর আরেক ওপেনার কনওয়েকে নিয়ে হেনরি নিকোলস ৮৭ বলে ১০৬ রানের জুটি গড়ে ইনিংসে হাল ধরেন। তবে নিকোলস ৪২ রানে বিদায়ের আবারও চাপে পড়ে যায় কিউইরা।
আরও পড়ুন- নিজের সাফল্যের রহস্য ফাঁস করলেন শুভমান গিল
ফলে শুরুর চেয়ে আরও বেশ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন কনওয়ে। তুলে নেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। কিন্তু দলীয় ২৩০ রানে ভারতীয় পেসার উমরান মালিকের বলে এই বাঁহাতির বিদায়ের পর তাসের মতো ভেঙে পড়ে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। ১০০ বলে ১৩৮ রানের ইনিংস খেলেন কনওয়ে, যাতে ১২টি চারের সঙ্গে ছিল ৮টি ছক্কার মার।
শেষ দিকে ব্রেসওয়েলের ২৬ আর সান্টনারের ৩৪ রানে হারের ব্যবধানই শুধু কমিয়েছে সফরকারীরা। ৫২ বল বাকি থাকতেই ৪১.২ ওভারে ২৯৫ রানে অলআউট হয়ে যায় কিউইরা। বোলিংয়ে ভারতের হয়ে কুলদ্বীপ যাদব আর শার্দুল ঠাকুর উভয়ে ৩টি করে উইকেট নেন।
এদিন ম্যাচসেরা হয়েছেন ব্যাট-বলে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দেখানো পেস অলরাউন্ডার শার্দুল ঠাকুর। আর তিন ম্যাচে ১৮০ গড়ে ৩৬০ রান করে সিরিজ সেরার মুকুট গিলের দখলে।
আরও পড়ুন- ‘প্রাণনাশের ঝুঁকি’তে থাকা আলভেসকে অন্য জেলে পাঠাল পুলিশ