ঢাকাবৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

ভারতকে ‘চোকার্স’ মানতে নারাজ শাস্ত্রী

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ২৭ জুন ২০২৩ , ০৮:৪৭ এএম


loading/img
ছবি- সংগৃহীত

বিশ্ব ক্রিকেটে ‘চোকার্স’ তকমাটা বরাবরই দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে জড়িয়েছে। আইসিসি আয়োজিত টুর্নামেন্ট থেকে প্রতিবারই হতাশ হয়ে ফিরেছে দলটি। এ কারণেই ‘চোকার্স’ তকমা জুটেছে তাদের কপালে।

বিজ্ঞাপন

তবে এখন ভারতীয় দলকেও ‘চোকার্স’ হিসেবে অভিহিত করছেন অনেকে। গত ১০ বছরে আইসিসি টুর্নামেন্টের মঞ্চ থেকে বারবারই খালি হাতে ফিরেছে ভারত। হতাশা ছাড়া আর কিছুই জোটেনি তাদের ভাগ্যে। 

সদ্য সমাপ্ত বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেও শিরোপা হাতছাড়া করে ভারতীয় শিবির। এই কারণে ভারতের সঙ্গে ‘চোকার্স’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন সমালোচকরা। কিন্তু ভারতকে ‘চোকার্স’ মানতে নারাজ দেশটির সাবেক খেলোয়াড় ও কোচ রবি শাস্ত্রী। তার (শাস্ত্রী) দাবি, বছরের পর বছর ধরে সাফল্য পাচ্ছে ভারত। কোনো ব্যক্তিকে দোষ দেওয়া যায় না।

বিজ্ঞাপন

সবশেষ ২০১৩ সালে বিশ্ব আসরে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা জিতেছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বাধীন ভারত। এরপর থেকেই হতাশায় পুড়েছে টিম ইন্ডিয়া। ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে হার দিয়েই শুরু ভারতের শিরোপা খরার। 

টানা দু’বার খুব কাছে গিয়েও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শ্রেষ্ঠত্বের স্মারকটা ছুঁয়ে দেখা হয়নি রোহিত-বিরাটদের। যদিও র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকে এই ট্রফি আগেই পেয়েছিল ভারত। তবে প্রতিযোগিতামূলক ফাইনালে আক্ষেপে কেটেছে ভারতের। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে হতাশার পর কোহলিদের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে, তাসমান সাগরপাড়ের আরেক দেশ অস্ট্রেলিয়ার কাছেও। এর আগে, ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের কাছেও হেরেছে রোহিত শর্মারা। সব মিলিয়ে গত ১০ বছরে চারটি ফাইনালে হেরেছে ভারত।

শুধু ফাইনালই না, এ সময়ে চারটি সেমিফাইনালেও হেরেছে ভারত। ২০১৫ সালে অজিদের পর ২০১৯ সালে কিউইদের সঙ্গে ওয়ানডে বিশ্বমঞ্চের সেমিফাইনালেই আটকে গেছে ভারতের শিরোপা মহাযজ্ঞ। ২০১৬ সালে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শেষ চার থেকেই বিদায় নিয়েছে ভারত।

বিজ্ঞাপন

এতে প্রোটিয়াদের মতো ‘চোকার্স’ শব্দটি ভারতের পাশে মানানসই বলে মনে করেন, ক্রিকেট সমালোচকরা। কিন্তু সমালোচকদের সঙ্গে একমত হতে পারছেন না শাস্ত্রী। 

ভারতের দ্য উইক পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি (শাস্ত্রী) বলেন, আমি বলতে চাচ্ছি, যে দুটি দল খেলছিল (ভারত-অস্ট্রেলিয়া) তারাই কেবলমাত্র তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ পেয়েছিল। এমন নয় আমরা (বিশ্বকাপে) বিধ্বস্ত হয়েছি। আমরা সেমিফাইনাল ও ফাইনাল খেলেছি। আমরা জিততে পারিনি; কারণ, আপনি যখন বড় কিছু জিততে চান, তখন আপনার দলীয় প্রচেষ্টার প্রয়োজন পড়ে। আপনি একজন ব্যক্তি, একজন অধিনায়ককে দোষারোপ করতে পারবেন না।

ব্যাটাররা বড় ইনিংস খেলতে না পারার কারণে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারত হেরেছে বলে মনে করেন শাস্ত্রী। তার ভাষ্যমতে, বিশ্বকাপ, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ব্যাটার কাছ থেকে সেঞ্চুরি দরকার। তাহলে বোলারদের লড়াই করার জন্য মঞ্চ তৈরি হয় এবং ট্রফি জয়ের ভালো সুযোগ থাকে। যদি আপনি সেঞ্চুরি না পান, তাহলে কমপক্ষে তিনটি হাফ-সেঞ্চুরির ইনিংস দরকার পড়ে, সেটি টেস্ট-ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি যে ধরনের ক্রিকেটেই হোক না কেন। যদি আপনি সেটি করতে না পারেন, তবে আপনি জয়ের যোগ্য নন।

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিজ্ঞাপন


© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৬-২০২৫ | RTV Online |