বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে বিতর্ক থাকবে না সেটি যেন সাম্প্রতিক সময়ে অসম্ভব এক বিষয়। দুই দলের প্রতি দেখাতেই জন্ম নেয় কোনো না কোনো বিতর্ক। ব্যতিক্রম হয়নি বিশ্বকাপের ম্যাচে এসেও।
বাংলাদেশের ছুড়ে দেওয়া সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে জয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল ভারত। পাশাপাশি ক্যারিয়ারের ৪৮তম সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে ছিলেন বিরাট কোহলি। এমন সময় ম্যাচের ৪২তম ওভারে নাসুমের একটি ডেলিভারি জন্ম দিয়েছিল বিতর্কের।
সে ওভারের প্রথম বলটি ডাউন দ্য লেগে প্লেসিং করেছিলেন নাসুম। বলটি কোহলির পা এবং ব্যাট থেকে বেশ দূর দিয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষকের হাতে। আপাতদৃষ্টিতে বলটি নিশ্চিতভাবে ওয়াইড হলেও সেটি বৈধ ডেলিভারি হিসেবে ঘোষণা দেন ফিল্ড আম্পায়ার রিচার্ড ক্যাটলবরো।
আম্পায়ারের এমন সিদ্ধান্ত দেখে ড্রেসিংরুম থেকে হেসে উঠতে দেখা যায় কুলদ্বীপ যাদবকে। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল সিদ্ধান্তটি তিনি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না।
এরপরই শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। নেটিজেনরা দাবি করতে থাকেন কোহলির সেঞ্চুরি নিশ্চিতের জন্যই এমন দৃষ্টিকটু সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন আম্পায়ার। কেননা সেঞ্চুরি থেকে কোহলি তখন ছিলেন তিন রান দূরে। আর ভারতের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল সে সময় দুই রান।
কিন্তু আম্পায়ার ক্রিকেটের নিয়ম মেনেই সেটি বৈধ ডেলিভারি ঘোষণা করেছিলেন। নিয়মটি সকলের জানা না থাকায় এ নিয়ে এতো আলোচনা।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের নীতিমালার ২২.১.২ ধারা অনুযায়ী, কোনো বল ‘নো’ না হলে আম্পায়ার বলটি ওয়াইড দিতে পারবেন এবং ব্যাটার যে পজিশনে দাঁড়িয়ে আছেন সেখান থেকে যদি সেটি ওয়াইড লেন্থে যায়।
অর্থ্যাৎ ব্যাটারের পজিশন পরিবর্তনের পরও বল ওয়াইড লেন্থে চলে গেলে সেটিকে আম্পায়ার ওয়াইড দিতে পারবেন।
কিন্তু এই ধারায় কিছুটা সংস্কার এনেছিল মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। নতুন ধারা অনুযায়ী, বোলার বল ডেলিভারি করার আগমুহূর্ত পর্যন্ত ব্যাটার যে পজিশনে দাঁড়িয়ে ছিলেন সেটাকে তার স্টান্স পজিশন (প্রকৃত অবস্থান) ধরা হবে। ডেলিভারির পর সেই পজিশন যদি ব্যাটার সরে যান আর বলটি ওয়াইড হয়, তাহলে সেটি ওয়াইড বলে গণ্য না হয়ে বৈধ ডেলিভারি হিসেবে ধরা হবে।
আইন সংশোধন করে এমসিসি যে বিবৃতি দিয়েছিল সেটিতে বলা হয়, আধুনিক ক্রিকেটে ব্যাটাররা বল ডেলিভারি হওয়ার আগপর্যন্ত ক্রিজে অনেক বেশি নড়াচড়া (মুভ) করেন। এক্ষেত্রে ব্যাটার যে পজিশনে বল ডেলিভারি হওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত স্টান্স নিয়েছিল ওই লেন্থে বোলার বল করলে সেটি ওয়াইড হবে না।
বিষয়টি আরও সহজ করে বলা যাক। নাসুম ডেলিভারি করার আগে যেই অবস্থানে দাঁড়িয়ে ছিলেন, ডেলিভারির পর সেখান থেকে অফ সাইডে দু পা সরে আসেন। যে কারণে বলটি চলে যায় কোহলির লেগ সাইড দিয়ে উইকেটের পেছনে, যে অবস্থানে (স্টান্স পজিশন) কোহলি ডেলিভারির আগ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে ছিলেন।
কোহলি যদি অফ সাইডে সরে না আসতেন আর বলটি যদি কোহলি মিস করতেন তবে সেটি গিয়ে লাগতো তার পায়ে। সেক্ষেত্রে ওয়াইড কোনভাবেই হতো না। যেহেতু সরে গিয়েছিলেন সে কারণে বলটি চলে যায় কোহলির পেছন দিয়ে। আর ডেলিভারির আগে কোহলির যে জায়গায় অবস্থান ছিল সেখান দিয়ে বল যাওয়ার কারণেই এমসিসির নিয়মনুযায়ী সেটি বৈধ ডেলিভারি হিসেবে গণ্য হয়।