ঢাকাবৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

গ্রীষ্মের দল বদলে চমক দিতে যাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪ , ০৫:৫৬ পিএম


loading/img
ছবি- গেটি ইমেজ

আগামী ১ জুন ওয়েম্বলিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে রিয়াল মাদ্রিদ। এই ম্যাচ দিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ অধ্যায় শেষ করবেন টনি ক্রুস। কারণ, আসন্ন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের পর সব ধরনের ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন জার্মান এই তারকা মিডফিল্ডার। 

বিজ্ঞাপন

রিয়ালের সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ৩০ জুন। অনেকেই মনে করেছিল আরও কিছুদিন হয়তো তিনি রিয়ালের সাথে থাকবেন। বিশেষ করে লা লিগার শিরোপা জয়ে মাদ্রিদের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পর এই ধারনা আরও দৃঢ় হয়। কিন্তু ক্রুসকে ছাড়ায় রিয়াল মাদ্রিদকে এখন এগিয়ে যেতে হবে।

ক্রুসের বিদায়ে ১০ বছর পাশাপাশি কাটানো লুকা মড্রিচের উপর এই বিদায় কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে এখন থেকেই চিন্তিত লস ব্লাঙ্কোসরা। এই দুই অভিজ্ঞ তারকা একসাথে চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, চারটি লা লিগা ও একটি কোপা ডেল রে শিরোপা জয় করেছে। পঞ্চম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন দুজনই। 

বিজ্ঞাপন

মাদ্রিদ অধ্যায়ের সঙ্গে ক্রুস ফুটবল থেকে বিদায়ে ঘোষণা দিলেও মড্রিচ প্রায়ই বলেছেন চুক্তি নবায়ন না হলে তিনি অন্যত্র চলে যাবেন। রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ অবশ্য সবসময়ই তার পুরনো খেলোয়াড়দের উপর আস্থা রাখার চেষ্টা করেছেন। সেপ্টেম্বরে মড্রিচ ৩৯ বছরে পা রাখবেন। এ মৌসুমেই তার খেলার সময় অনেকটাই কমে গেছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নক আউট পর্বের কোন ম্যাচেই তিনি মূল দলে খেলেননি। 

ফলে ক্রুসের বিদায় ও মড্রিচের অনিশ্চিত ভবিষ্যতকে সামনে রেখে মাদ্রিদের একটি অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি হতে যাচ্ছে তা মোটামুটি নিশ্চিত। আরেক তারকা নাচো মাত্র ১১ বছর বয়সে এই ক্লাবে যোগ দেবার পর এখন প্রায় বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন। 

কোচ কার্লো আনচেলত্তি স্বাভাবিক ভাবেই একসাথে দলের তিন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে ছাড়তে চাননি। বিশেষ করে ক্রুসকে অন্তত আরও এক বছর তিনি দলে রাখতে চেয়েছিলেন। ক্রুসের বিদায়ে সমর্থকরা নি:সন্দেহে চোখের পানি ফেলেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো নিজেকে সরিয়ে নেবার এটাই সঠিক সময়। 

বিজ্ঞাপন

কারণ, আরও একটি লা লিগা শিরোপা ও  চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জয়ের পর এমন বিদায় ভাগ্যবানদের কপালেই জুটে। তিন জন খেলোয়াড়ই ফর্মের তুঙ্গে থেকেই বিদায় নিচ্ছেন, এটাও দারুণ সৌভাগ্যের। 

এদের বিদায়ে ক্লাবের আর্থিক দিকটিও একটি প্রভাব ফেলবে। ক্রুস ও মড্রিচ এই মুহূর্তে ক্লাবের সর্বোচ্চ আয়ের খেলোয়াড়। তারা দুজনের মিলে বছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার একে অপরের মধ্যে ভাগ করে নেন। বেতন, বোনাস ও কমিশনের দিক থেকে অন্যান্যদের থেকে তারা অনেকটাই এগিয়ে। 

অন্যদিকে গ্রীষ্মে ফ্রি-এজেন্ট হিসেবে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পিএসজি থেকে উড়িয়ে আনারও একটি বিষয় অপেক্ষা করছে। যদিও ২০০৩ সালের পর থেকে আর্থিক দিক থেকে রিয়াল মাদ্রিদ সবসময়ই সমৃদ্ধ একটি ক্লাব হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে এসেছে। 
প্রতি বছরই তাদের লভ্যাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

যে কারণে, বড় খেলোয়াড়দের দলে ভেড়াতে তাদের খুব বেশি চিন্তা করতে হয়নি। যদিও এবারের দল বদল একটু হলেও ব্যয়বহুল হবে। এটা শুধুমাত্র এমবাপ্পের জন্য নয় মাদ্রিদ ফুলব্যাক ফারলান্ড মেন্ডিকে অথবা একইসাথে ডানি কারভাহাল ও লুকাস ভাসকুয়েজকে ছেড়ে দিতে চাচ্ছে। 

নাচো চলে গেলে মাদ্রিদের সেন্টারব্যাক পজিশনে থাকবেন ৩১ বছর বয়সী এন্টোনিও রুডিগার, ৩২ বছর বয়সী ডেভিড আলাবা ও এডার মিলিটাও। সম্প্রতি এসিএল ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছে মিলিটাও। এর অর্থ হচ্ছে আরও একজন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার দলে প্রয়োজন। যে কিনা রাইট-ব্যাক পজিশনেও খেলতে পারবে। 

মাঝমাঠে ক্রুস ও মড্রিচ চলে গেলে অভিজ্ঞতার অভাব হলেও অপেক্ষাকৃত তরুণরা সব ফর্মে রয়েছে। জুড বেলিংহাম (২০), এডুয়ার্ডো কামভিনগা (২১), অরেলিয়েন চুয়ামেনি (২৪), ফেডে ভালভার্দে (২৫), ডানি সেবালোস (২৭) নিজেদের প্রতিদিনই প্রমাণ করে চলেছেন।

তবে আনচোলত্তির ৪-২-২ ফর্মেশনে পাঁচজন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে এখান থেকে কাউকে কাউকে পজিশন পরিবর্তন করতে হয়। কামভিনগাকে লেফট ব্যাক, চুয়ামেনিকে সেন্টার ব্যাক ও ভালভার্দেকে রাইট উইংয়ে খেলানো হয়েছে। এ কারণেই দলে অন্য কোন খেলোয়াড় মিডফিল্ডার আনার প্রয়োজন রয়েছে।  

সব মিলিয়ে গ্রীষ্মের ট্রান্সফার মার্কেটে বড় ভূমিকা রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ। ২০১৯ সালে এডেন হ্যাজার্ড, লুকা জোভিচ, মেন্ডি, মিলিটাও ও রডিগোকে নেবার পর হয়তো সবচেয়ে বড় ট্রান্সফার এবারই করতে যাচ্ছে মাদ্রিদ। 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিজ্ঞাপন


© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৬-২০২৫ | RTV Online |