ঢাকাবৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

ব্যাটার সাকিবকে ছাড়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কি অর্জন করল টাইগাররা?

মো. সাঈদুর রহমান

শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ , ০৯:৪৬ পিএম


loading/img
ছবি: এএফপি

শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে দেশে ফিরতে হয়েছে টাইগারদের। ভারত ও নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে। নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা থাকলেও বৃষ্টিতে ভেসে গেছে ম্যাচটি।

বিজ্ঞাপন

এবারের আসরে ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে পারেননি শান্ত-মিরাজরা। যেটা ম্যাচ হারের অন্যতম কারণ। বড় পুঁজি না পাওয়ায় বোলাররাও চাপে পড়েছে। তাই ব্যাটারদের দিকে আঙুল তুলেছেন সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষকরা। এদিকে ধারাভাষ্যকারদের মতে ব্যাটিংয়ে সাকিব আল হাসানের অভাব পূরণ করতে পারেননি দুই সিনিয়র মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

মাহমুদউল্লাহ ভারতের বিপক্ষে না খেললেও মুশফিক ছিলেন দুই ম্যাচের একাদশে। প্রথম ম্যাচে গোল্ডেন ডাক মেরে দ্বিতীয় ম্যাচে ৫ বলে ২ রান করে হারিয়েছেন উইকেট। মুশফিকের আউট দেখে ইয়ান স্মিথ তো বলেই বসলেন এতো অভিজ্ঞ ব্যাটারের কাছে থেকে এটা আশা করা যায় না। আর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৪ বলে ৪ রান করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

বিজ্ঞাপন

দলের সিনিয়রদের এই ব্যর্থতা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ভারতের সাবেক ওপেনার ওয়াসিম জাফর। আইসিসি ইভেন্টে বাংলাদেশ দলের সিনিয়রা যে পারফর্ম করতে পারেন না তা সরাসরি তুলে ধরেছেন তিনি। তবে এই তালিকায় সাকিবকে বাদ দিয়ে রেখেছেন জাফর। 

সেই সঙ্গে সাকিবের ২০১৯ বিশ্বকাপের নান্দনিক পারফরম্যান্সের উদাহরণও টেনেছেন তিনি। 

জাফরের ভাষ্য, আমরা শুধুমাত্র সম্ভবত সাকিবকে ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে দেখেছি, যেখানে তিনি ব্যতিক্রমী পারফরমার ছিলেন। আমি জানি না এটি চাপের কারণে হয় কি না, নাকি তারা (বাংলাদেশের সিনিয়র ক্রিকেটারা) নিজেরাই অতিরিক্ত চাপ নিয়ে ফেলে, তারা যেন ঠিক পারফর্ম করতেই পারে না।

বিজ্ঞাপন

 

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের মাটিতে পর্দা উঠেছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির নবম আসরের। টুর্নামেন্টটি সদ্য শুরু হলেও এই আসরে বাংলাদেশের যাত্রাটা শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের নভেম্বরে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির টিকিট পাওয়ার সমীকরণে বোঝা কাঁধে নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে ভারতের বিমানে উঠেছিল টাইগাররা।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে দাপুটে ক্রিকেট খেলে বিশ্বকাপের শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল সাকিব বাহিনী। এরপরই শুরু হয় টাইগার পতন, টানা ছয় ম্যাচ হেরে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলার সমীকরণ জটিল করে ফেলেছিল বাংলাদেশ দল। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে শ্রীলঙ্কা ম্যাচে জিততে হবে এমন সমীকরণ দাঁড়ায় টাইগারদের সামনে।

বাংলাদেশ ম্যাচের আগে ৭ ম্যাচ খেলে দুটি ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলের সপ্তম স্থান ছিল শ্রীলঙ্কা। সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলে এক জয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৯ নম্বরে। নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বকাপে পয়েন্ট টেবিলে আটে থাকতে পারলে পাকিস্তানে টুর্নামেন্ট খেলার টিকিট মিলেবে। আয়োজক হিসেবে পাকিস্তান সরাসরি খেলবে। বাকি থাকবে সাতটি জায়গা। সেই লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে শেষ দুটি ম্যাচে দুই দলেরই জয়ের বিকল্প ছিল না। সেই সঙ্গে রানরেটেও নিজেদের এগিয়ে রাখতে হতো।

এতো সমীকরণের বোঝা নিয়েই লঙ্কানদের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। এই ম্যাচে টস জিতে লঙ্কানদের ব্যাটিং পাঠায় টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। দুর্দান্ত বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে ২৭৯ রানে অলআউট করেছিল বাংলাদেশ। সেই ইনিংসে ম্যাথিউসকে টাইমড আউট করে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

১৩৫ রানে ৫ উইকেট হারানো শ্রীলঙ্কার জন্য বড় আঘাত হয়ে আসে ম্যাথিউসের আউট। দলকে জেতাতে সেদিন কোনো ছাড় দেননি সাকিব। বোলিংয়ে ২ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৮২ রানের ইনিংস খেলে দল জেতাতে বিশেষ ভূমিকা করেছিলেন তিনি। ম্যাচসেরাও হয়েছিলেন তিনি। তবে টাইমড আউটের জন্য সমালোচনার শিকার হন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে সাকিব বলেছিলেন, আমি যুদ্ধে নেমেছি জেতার জন্য, আর জিতার জন্য নিয়মের মধ্যে থেকে সবকিছু করতে পারি। অথচ সেই নায়ককে ছাড়াই চ্যাম্পিয়নস ট্রফির বিমানে উঠেছিল বাংলাদেশ দল।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে ফিরতে পারেননি সাকিব আল হাসান। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হওয়ায় দেশে ফেরা নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভুগছেন তিনি। এর মধ্যে বোলিং নিষেধাজ্ঞা পান সাকিব। তবে শুধু মাত্র ব্যাটার সাকিবকে স্কোয়াডে রাখতে অস্বীকৃতি জানায় বিসিবির প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।

আসন্ন আইসিসি ইভেন্টে সাকিবকে বাদ দেওয়া প্রসঙ্গে লিপু বলছিলেন, সাকিবের বোলিং অ্যাকশন বৈধতা নিয়ে যে সমস্যা, সেটি থেকে তিনি উত্তরণের প্রক্রিয়ায় আছেন। বোলিং পরীক্ষার রেজাল্ট নেগেটিভ হওয়ার কারণে তিনি এখন শুধু একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে পারবেন। ফলে সিলেকশন পজিশনেও সাকিবের অবস্থান ছিল কেবল একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে। আমাদের টিম কম্বিনেশনটা সাজাতে গিয়ে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে তাকে ১৫ জনের দলে রাখতে পারিনি।

তবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শেষে হিসাব করে দেখা যায় ব্যাটার সাকিবের অভাব পূরণ করতে পারেনি শান্ত মিরাজরা। প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর হৃদয়ের সেঞ্চুরি ও জাকেরের ৬৮ রানে ভর করে ২২৮ রানের লড়াকু পুঁজি পায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৭ রানের ইনিংস খেলেন শান্ত। আর জাকেরের ৪৫ রানের লড়াকু ইনিংসে ভর করে ২৩৮ রানের পুঁজি পায় টাইগাররা।

অথচ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গত আসরে বাংলাদেশ দলকে সেমিফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। যেখানে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন সাকিব আল হাসান। সেবার ডু আর ডাই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল টাইগাররা।

আগে ব্যাট করে টাইগারদের ২৬৬ রানের লক্ষ্য দেয় কিউইরা। জবাব দিতে নেমে ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। কিন্তু সেই খাদ থেকে দলকে টেনে তোলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সাকিব আল হাসান। দুজনের মিলে ২২৪ রানে জুটি গড়ে দল সেমিফাইনালে তোলেন। তবে ম্যাচসেরা হন সাকিব। বোলিংয়ে উইকেট না পেলেও ১১৪ করে দলের রানরেটকে গতিশীল রেখেছিলেন তিনি।

এবারের বড় কিছু আশা করেছিল সাকিব ও মাহমুদউল্লাহর কাছ থেকে। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ খেলতে পারলেও শেষ পর্যন্ত স্কোয়াডে জায়গা পাননি দেশসেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। দলের ব্যর্থতার জন্য তার না থাকাকে দায়ী করছেন অনেকেই। তবে অধিনায়ক শান্তর মতে এই আসরের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিজ্ঞাপন


© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৬-২০২৫ | RTV Online |