
স্প্যানিশ লা লিগার একটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজনের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি মাঠে নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন খেলোয়াড়রা। বার্সেলোনা ও ভিয়ারেয়ালের মধ্যকার লা লিগা ম্যাচটি আগামী ২০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হবে কর্তৃপক্ষের এমন ঘোষণার পরেই শুরু হয় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া।
এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রিয়াল ওভিয়েদো ও এসপানিওলের মধ্যকার ম্যাচে প্রথমবারের মতো দেখা যায় মাঠে সরাসরি প্রতিবাদ। ম্যাচ শুরু হওয়ার পরই দুই দলের খেলোয়াড়রা খেলা বন্ধ রেখে প্রথম ১৫ সেকেন্ড নীরব থেকে প্রতিবাদ জানান। যদিও টেলিভিশনে ম্যাচের প্রথম ২৫ সেকেন্ড সম্প্রচার না করায় সেই প্রতিবাদ সরাসরি দেখানো হয়নি।
স্প্যানিশ ফুটবলারদের সংগঠন (এএফই) এই প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, নবম রাউন্ডের প্রতিটি ম্যাচেই একই রকম প্রতিবাদ চলবে, যাতে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার অভাব ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা না করার বিষয়টি সামনে আনা যায়।
এক বিবৃতিতে এএফই বলেছে, খেলোয়াড়রা প্রতীকী উপায়ে প্রতিবাদ জানাবেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার অভাব, সংলাপের ঘাটতি ও নীতিগত অসঙ্গতি প্রকাশ পায়।” তারা আরও জানিয়েছে, লা লিগার ২০টি দলের অধিনায়কই এই প্রতিবাদে একমত হয়েছেন।
যদিও বার্সেলোনা ও ভিয়ারেয়ালই যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ খেলবে, এই দুই দলের খেলোয়াড়দের সরাসরি মাঠে প্রতিবাদে অংশ নিতে বলা হয়নি। তবে এএফই জানিয়েছে, তারা প্রতিবাদের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে একমত।
বার্সেলোনা আজ মুখোমুখি হবে জিরোনার, আর ভিয়ারেয়াল খেলবে রেয়াল বেতিসের বিপক্ষে। এই ম্যাচগুলোতেও একই ধরনের প্রতিবাদ দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে।
এদিকে বার্সা কোচ হানসি ফ্লিক ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, তিনি এবং তার খেলোয়াড়রা লা লিগার এই সিদ্ধান্তে খুশি নন। ৭২০০ কিলোমিটার ভ্রমণ করে একটি লিগ ম্যাচ খেলতে যাওয়া মোটেও যুক্তিসংগত নয়, বলেছেন ফ্লিক।
তবে ভিন্ন অবস্থানে রয়েছেন বার্সেলোনা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা। তিনি এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, “আমেরিকার বিশাল ক্রীড়া বাজারে বার্সেলোনার ব্র্যান্ড ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এটি একটি বড় সুযোগ।
খেলোয়াড়দের প্রতিবাদ, কোচের অসন্তুষ্টি এবং ক্লাব সভাপতির বিপরীত মত সব মিলিয়ে স্প্যানিশ লিগে এবার মাঠের বাইরের বিতর্কও নজর কেড়েছে।
আরটিভি/এসকে




