
চলমান নারী বিশ্বকাপে সবার আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া দল। কিন্তু সেমিফাইনালে মাঠে নামার আগে এক তিক্ত অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছেন দুই অজি ক্রিকেটার। ভারতের ইন্দোরে কফিশপে যাওয়ার পথে দুই নারী ক্রিকেটারকে যৌন হয়রানির শিকার বানিয়েছে এক মোটরসাইকেল আরোহী। এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।
গত বৃহস্পতিবার সকালে কফিশপে যাওয়ার পথে এই ঘটনা ঘটে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিষয়টিকে কঠোরভাবে নিয়েছে ভারতও। পরদিনই (শুক্রবার) গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৭৪ নম্বর (নারীর মর্যাদা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে জোর প্রয়োগ) এবং ৭৮ নম্বর (পিছু নেওয়া বা অনুসরণ) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী কৈলাশ বিজয়বর্গীয় বলেন, এটি শুধু এক নারী খেলোয়াড়ের সঙ্গে অসদাচরণ নয়, এটি ভারতের ভাবমূর্তিতে কালিমা লেপন। কঠোরতম ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন সাহস না করে।’ তিনি সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের সচিব দেবজিত সাইকিয়া বলেন, ঘটনাটি খুবই নিন্দনীয়, যদিও বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা। ভারত অতিথিপরায়ণতার জন্য পরিচিত। আমরা এমন ঘটনার প্রতি জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল। মধ্যপ্রদেশ পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করি। আইন যেন যথাযথভাবে অপরাধীকে শাস্তি দেয়। প্রয়োজনে আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করব।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে, দলের হোটেল থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে। মোটরসাইকেল আরোহী প্রথমে দুই খেলোয়াড়কে অনুসরণ করে, এরপর একজনকে অশালীনভাবে স্পর্শ করে দ্রুত পালিয়ে যায়। খেলোয়াড়রা সঙ্গে সঙ্গে তাদের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ড্যানি সিমন্সকে বিষয়টি জানান। এরপর স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থার সহযোগিতায় তাদের নিরাপদে হোটেলে পৌঁছে দেওয়া হয়।
পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ, হোটেল রেকর্ড ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালায়। এক প্রত্যক্ষদর্শী মোটরসাইকেলের নাম্বার প্লেটের তথ্য দিলে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এরপর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আরটিভি/এসআর




