
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ক্রীড়াঙ্গনের প্রতি বিশেষভাবে অনুরাগী ছিলেন। দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রামরত এই নেত্রীর স্মৃতিতে শোকাহত দেশের ক্রীড়াঙ্গন।
২০০৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ শিরোপা জয়ের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে চ্যাম্পিয়ন দলের প্রতিটি সদস্যকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৫ কাঠা করে সরকারি প্লট প্রদান করা হয়। সাফ ফাইনালে বাংলাদেশের অধিনায়ক হাসান আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আমরা প্রত্যেকে ৫ কাঠা করে প্লট পেয়েছিলাম। ক্রীড়াঙ্গনে এমন সম্মান আর কখনও পাইনি।”
তিনি আরও জানান, সাফ জয়ের জন্য প্রত্যেক ফুটবলারকে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে ৪ লাখ টাকা উপহার দেন। ফলে বাকি অর্থ কিস্তিতে পরিশোধ করে জমির মালিক হতে ফুটবলারদের কোনো সমস্যা হয়নি।
জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ছাইদ হাসান কানন খালেদা জিয়ার সঙ্গে নিজের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক প্রার্থী থাকাকালে ম্যাডাম নিয়মিত আমার খোঁজ নিতেন। রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেও খেলাধুলার প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল।”
কানন আরও জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলাধুলার উন্নয়নে খালেদা জিয়া তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে তার বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। তিনি বলেন, ম্যাডাম আমাকে দেখলে হাসিমুখে বলতেন ‘মোহামেডানের কানন’।
খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রীত্বকালে বাংলাদেশের ফুটবলে দুটি ঐতিহাসিক সাফল্য আসে। ১৯৯৫ সালে চার জাতির আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রথম শিরোপা জয় এবং ২০০৩ সালে দেশের প্রথম সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জিত হয় তার শাসনামলেই।
বাংলাদেশের তারকা অ্যাথলেট ও জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ শামীমা সাত্তার মিমো, যিনি খালেদা জিয়ার খালাতো বোন, বলেন, খেলাধুলার উন্নয়নে আপা সবসময় সচেষ্ট ছিলেন। আমার সাফল্যে তিনি গর্ববোধ করতেন। দিনাজপুর বিকেএসপি উদ্বোধন করেছিলেন তিনি নিজেই।
উল্লেখ্য, শামীমা সাত্তার মিমো সত্তরের দশক থেকে অ্যাথলেটিক্সের সঙ্গে যুক্ত এবং দীর্ঘদিন বিকেএসপিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। আত্মীয়তার পরিচয় থাকা সত্ত্বেও ক্রীড়াঙ্গনে তিনি কখনও কোনো প্রভাব খাটাননি। এমনকি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার তিনি পেয়েছেন বিএনপি ক্ষমতায় না থাকাকালীন সময়েই।
আরটিভি/এসকে




