
এক বছর পর আবার লিগ শিরোপা ঘরে তুললো আবাহনী লিমিটেড। সমীকরণটা এমন ছিল যে, আবাহনী শেষ ম্যাচে জিতলেই চ্যাম্পিয়ন। আরও একটা সমীকরণ ছিল, শেখ জামাল শেষ ম্যাচে খেলাঘরের কাছে হারলে আর আবাহনীর লিজেন্ড অফ রূপগঞ্জের বিপক্ষে জিতে গেলেও শিরোপা পাবে আকাশি হলুদ শিবির। তখন আবাহনী আর রূপগঞ্জের পয়েন্ট সমান (১৬ ম্যাচে ২২) হয়ে গেলেও নেট রান রেটে অনেক দূর এগিয়ে থাকা আবাহনী হবে চ্যাম্পিয়ন।
ডিপিএল লিস্ট ‘এ’ মর্যাদা পাওয়ার পর এটা আবাহনীর দ্বিতীয় শিরোপা। আর স্বাধীনতাত্তোর সিনিয়র ডিভিশন ও প্রিমিয়ার লিগ মিলে সর্বাধিক ১৯বার লিগ শিরোপা জিতল ধানমন্ডির দলটি।
এ জয়ে ১৬ ম্যাচে সর্বোচ্চ ২৪ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো আবাহনী। গত আসরে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের কাছে শিরোপা হারানোর এক আসর পরেই শিরোপা পুনরুদ্ধার করলো দলটি। তাদের কাছে হারায় রানার্স আপও হতে পারেনি রূপগঞ্জ। সমান ২০ পয়েন্ট হলেও হেড টু হেডে রানার্স আপ হয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। রানরেটে এগিয়ে থেকেও তৃতীয় স্থানে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে রূপগঞ্জকে।
বৃহস্পতিবার বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ছয় উইকেট হারিয়ে ৩৭৪ রান সংগ্রহ করে আবাহনী লিমিটেড। দলের পক্ষে সেঞ্চুরি করেন নাসির হোসেন ও নাজমুল হোসেন শান্ত। অধিনায়ক নাসির হোসেন করেন ১২৯ রান। নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ১১৩ রান।
ওপেনার এনামুল হক বিজয় করেন ৫৭ রান। আট বল খেলে চার ছক্কার সাহায্যে ২৮ রান করে অপরাজিত থাকেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের পক্ষে পারভেজ রাসুল ৩টি, মোহাম্মদ শহীদ ২টি ও আসিফ হাসান ১টি করে উইকেট নেন।
পরে আবাহনীর দেয়া ৩৭৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ওপেনার আব্দুল মজিদকে হারায় রূপগঞ্জ। এরপর দলীয় ৪১ রানে হারায় অভিষেক মিত্রকে। তবে চাপে পড়া দলের হাল মুশফিকুর রহীমকে নিয়ে ধরেন আরেক ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম। গড়েছেন ৯১ রানের জুটি।
এরপর মোহাম্মদ নাঈম আউট হয়ে গেলে চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক নাঈম ইসলামকে নিয়ে জুটি বাঁধেন মুশফিক। ৫৮ রান যোগ করেন তারা। এরপর পঞ্চম উইকেটে ভারতীয় ব্যাটসম্যান পারভেজ রসুলের সঙ্গে ৪৯ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক। কিন্তু এ জুটি ভাঙতেই যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে রূপগঞ্জের ইনিংস। শেষ ৬টি উইকেট হারায় তারা ৪১ রান তুলতেই। আর দলীয় ২৮০ রানের মাথায় আউট হন চার ব্যাটসম্যান। ৪৪ বল বাকি থাকতেই অল আউট হয়ে যায় দলটি।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৬ রানের ইনিংস খেলেছেন নাঈম ইসলাম। ৬৮ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় এ রান করেছেন তিনি। ৫৪ বলে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৭০ রান করেছেন মোহাম্মদ নাঈম। এছাড়া মুশফিক খেলেছেন ৬৭ রানের ইনিংস। ৬৬ বলে ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় এ রান করেছেন তিনি।
আবাহনীর পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, সানজামুল ইসলাম, সন্দিপ রায় ও নাসির হোসেন।
এএ




