ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

আর্জেন্টিনার জার্সিতে রহস্যময় সংখ্যা ‘১৮৯৩’ লেখার কারণ কী

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৩০ সালে। কিন্তু বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখা যায় আরও পুরোনো একটি সাল— ‘১৮৯৩’। স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, বিশ্বকাপেরও বহু বছর আগেের এই সালটির গুরুত্ব কী?

আসলে জার্সিতে থাকা ‘১৮৯৩’ কোনো রহস্যময় সংখ্যা নয়; এটি আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার প্রতিষ্ঠাবর্ষ। দেশের ফুটবল ঐতিহ্য, শেকড় এবং দীর্ঘ ইতিহাসকে সম্মান জানাতেই জার্সিতে এই সালটি ব্যবহার করা হয়।

উনিশ শতকের শেষভাগে আর্জেন্টিনায় ফুটবল ছিল একেবারেই নতুন একটি খেলা। ব্রিটিশ অভিবাসী, ব্যবসায়ী ও রেলওয়ে কর্মীদের হাত ধরে দেশটিতে ফুটবলের প্রচলন শুরু হয়।

আরও পড়ুন

সেই সময় স্কটল্যান্ডের শিক্ষক আলেকজান্ডার ওয়াটসন হাটন আর্জেন্টিনায় এসে খেলাটির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শিক্ষা ও খেলাধুলাকে সমান গুরুত্ব দেয়া এই শিক্ষক স্কুলপর্যায়ে ফুটবল চালু করেন এবং তরুণদের মধ্যে খেলাটির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করেন।

তারই উদ্যোগে ১৮৯৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় আর্জেন্টাইন অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল লীগ। পরবর্তীতে এই সংস্থাই রূপ নেয় বর্তমানের আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)-এ। দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে এটিই ছিল প্রথম জাতীয় ফুটবল সংস্থা।

আজকের দিনে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল দেশ হিসেবে পরিচিত আর্জেন্টিনার সংগঠিত ফুটবল যাত্রার আনুষ্ঠানিক শুরু হয়েছিল সেই বছরেই। এই কারণেই ‘১৮৯৩’ সালটি আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ মর্যাদা পায়।

দেশের ফুটবল ঐতিহ্য, শিকড় ও দীর্ঘ পথচলার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় দলের জার্সিতে এই সংখ্যাটি ব্যবহার করা হয়। জার্সি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসও বিভিন্ন সংস্করণের জার্সিতে ‘১৮৯৩’ যুক্ত করে সেই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকে তুলে ধরেছে।

আরও পড়ুন

আজ আর্জেন্টিনা তিনবারের বিশ্বকাপজয়ী দল। পাশাপাশি কোপা আমেরিকাসহ আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেশটির সাফল্যের তালিকাও দীর্ঘ। দিয়াগো ম্যারাডোনা থেকে লিওনেল মেসি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অসংখ্য কিংবদন্তি ফুটবলারের জন্ম দিয়েছে দেশটি।

তবে এসব অর্জনের ভিত্তি গড়ে উঠেছিল এক শতাব্দীরও বেশি আগে, ১৮৯৩ সালের সেই উদ্যোগের মাধ্যমে। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রাচীন সংগঠন হিসেবেও এএফএর আলাদা পরিচিতি রয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশের ফুটবল ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই আর্জেন্টিনা সংগঠিত ফুটবল কাঠামো গড়ে তুলেছিল। ফলে ‘১৮৯৩’ শুধু একটি সাল নয়, এটি দেশটির দীর্ঘ ফুটবল ঐতিহ্যের প্রতীক।

আর্জেন্টাইন সমর্থকদের কাছেও এই সংখ্যার আলাদা আবেগী মূল্য রয়েছে। জাতীয় দলের জার্সিতে লেখা ‘১৮৯৩’ তাদের মনে করিয়ে দেয় যে তারা শুধু বর্তমান দলের সমর্থক নন, বরং ১৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা এক সমৃদ্ধ ফুটবল সংস্কৃতির অংশ।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ডক্টরেট উপাধি পেলেন মেসি
আর্জেন্টিনার ফুটবল আইকন লিওনেল মেসিকে বুধবারে বেনিনের বিপক্ষে বিদায়ী আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগে বুয়েনস আয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডক্টরেট উপাধি প্রদান করেছে। গত ১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়া মেসি আজ ঘরের মাঠে বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নেমেছেন। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা হয়, ‘‘আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিও মেসি আজ বুয়েনস আয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ডক্টর অনোরিস কসা’ উপাধি পেয়েছেন। অভিনন্দন, কিংবদন্তি!” স্পেনের কাছে ১-০ গোলে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের এক মাসেরও বেশি সময় পর এবং তার বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর কয়েক দিন পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। গত ৮ আগস্ট আর্জেন্টিনার মধ্যাঞ্চলীয় শহর রোসারিওতে ৬৮ বছর বয়সে মারা যান মেসির বাবা। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক মেসিই দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন এবং সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল ইতিহাসেও তিনিই সর্বোচ্চ গোলদাতা। বহু বছর ধরে একের পর এক হতাশার পর, বিশেষ করে ২০১৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হারের পর, ২০২২ সালে বিশ্বকাপের শিরোপার স্বাদ পান মেসি। ফাইনালে কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বাধীন ফ্রান্সকে হারিয়ে শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। এটি ছিল ৩৬ বছরের মধ্যে আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ জয় এবং ইতিহাসে তাদের তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা। এর আগে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে আর্জেন্টিনার ২৮ বছরের ট্রফি-খরা শেষ করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মেসি। বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০২৪ সালের আসরেও কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হারের পরও মেসি প্রথমবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তিনি এবং ছয় বছর পর কাতারে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতাতে নেতৃত্ব দেন। কিংবদন্তি এই ফুটবলার ২০০৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ছয়টি ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন। ৩৪ ম্যাচে করেছেন ২১ গোল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। ফ্রান্সের এমবাপ্পে ২২ গোল করে রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছেন। এ বছরের বিশ্বকাপে মেসি করেছেন আট গোল এবং চারটি গোলে সহায়তা করেছেন। ফলে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা পারফরমার ছিলেন তিনি। এর মধ্যে আলজেরিয়ার বিপক্ষে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফা বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিকও করেন তিনি। একসময় বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন মেসি। পরে এমবাপ্পে তাকে টপকে শীর্ষস্থান দখল করেন। তবে ক্লাব ফুটবলে এখনো খেলে যাচ্ছেন মেসি। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) দল ইন্টার মায়ামির হয়ে তিনি খেলছেন। আরটিভি/এসআর
ডক্টরেট উপাধি পেলেন মেসি
বিদায়ী ম্যাচে মেসিকে যেসব উপহার দিল বেনিন
জাতীয় দলের জার্সিকে বিদায় বলার রাত এমনিতেই লিওনেল মেসির জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকার কথা। সেই স্মরণীয় রাতেই আরও একটি বিশেষ স্মৃতি যোগ করল মেসির শেষ ম্যাচের প্রতিপক্ষ বেনিন। আফ্রিকার দেশটি নিজেদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতীক একটি ভাস্কর্যের ক্ষুদ্র সংস্করণ উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের হাতে। তবে সেই উপহার আসলে মেসির জন্য নয়, তার স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জোর জন্য। বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে টসের সময় মেসির সঙ্গে দেখা হয় বেনিন অধিনায়ক সেসি দ’আলমেইদার। সেখানেই মেসির হাতে একে একে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ কয়েকটি উপহার।  আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই উপহারগুলোর মধ্যে ছোট ভাস্কর্যের পাশাপাশি ছিল গোলাপ, বেনিনের পেন্যান্ট এবং দলটির খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে লেখা একটি চিঠি। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল ভাস্কর্যটি। সেটি বেনিনের কোটোনু শহরে থাকা বিখ্যাত ‘আমাজন মনুমেন্ট’ এর ক্ষুদ্র প্রতিরূপ। দাহোমে রাজ্যের নারী যোদ্ধাদের স্মরণে তৈরি হয়েছে এই স্মৃতিস্তম্ভ। উপহারটি দেওয়ার সময় স্প্যানিশে মেসিকে এর অর্থও বোঝানোর চেষ্টা করেন দ’আলমেইদা। তিনি জানান, এটি আন্তোনেলার জন্য এবং তাদের দেশে এটি নারীর শক্তির প্রতীক। মেসিও মনোযোগ দিয়ে তার কথা শোনেন এবং হাসিমুখে উপহার গ্রহণ করেন। বেনিনের কাছে ভাস্কর্যটির গুরুত্বও কম নয়। দেশটির সরকারের তথ্য অনুযায়ী, কোটোনুতে স্থাপিত মূল ভাস্কর্যটি ৩০ মিটার উঁচু এবং ওজন প্রায় ১৫০ টন। ২০২২ সালে উদ্বোধন করা স্মৃতিস্তম্ভটি দাহোমে রাজ্যের ‘আগোজিয়ে’ বা ‘মিনন’ নামে পরিচিত নারী যোদ্ধাদের স্মরণে নির্মিত। সাহস, দৃঢ়তা ও দেশরক্ষায় তাদের ভূমিকার কারণে এই যোদ্ধাদের বেনিনের জাতীয় গৌরবের অংশ হিসেবে দেখা হয়। মেসিকে এমন কিছু দেওয়ার পরিকল্পনা আগেই করেছিল বেনিন দল। ম্যাচের আগে দ’আলমেইদা জানিয়েছিলেন, নিজেদের কাছে অত্যন্ত প্রতীকী এই আমাজন ভাস্কর্যের একটি প্রতিরূপ তারা সঙ্গে করে এনেছেন। এরপর মাঠে বিদায়ের রাতটাও নিজের মতো করেই শেষ করেন মেসি। নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাজের দুই গোলে সহায়তা করার পর পেনাল্টি থেকে নিজেও গোল করেন। বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন তিনি। আরটিভি/এসআর
বিদায়ী ম্যাচে মেসিকে যেসব উপহার দিল বেনিন
বিদায়ী ম্যাচে হলুদ ও লাল কার্ড পেলেন মেসি
আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলোয়াড়দের অপরাধের জন্য লাল ও হলুদ কার্ড দেখান রেফারিরা। তবে ক্যারিয়ারের বিদায়ী ম্যাচে লিওনেল মেসি দেখলেন এক ভিন্ন দৃশ্য।   বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচটা তখন সবে শেষ হয়েছে মাত্র। মাঠে ক্যামেরার সব আলো তখন মেসির দিকে। শেষ বাঁশি বাজিয়ে আর্জেন্টাইন মহাতাকার দিকে এগিয়ে আসলেন ম্যাচের রেফারি ফার্নান্দো ভেখার।  ভেখারের হাতে ছিল একটি বিশেষ উপহার। লাল ও হলুদ কার্ড— যে দুটি কার্ড দিয়ে ম্যাচে খেলোয়াড়দের শাস্তি দেওয়া হয়, সেগুলোই মেসির হাতে তুলে দেন রেফারি।  তবে এই কার্ডগুলো কোন শাস্তির কার্ড নয়। মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচের স্মৃতি হিসেবে সম্মান জানিয়ে কার্ড দুটির একটি সেট তুলে দেন ভেখার। ম্যাচের শেষ স্মৃতি হিসেবে সেগুলো নিজের কাছে রেখে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।  এর আগে বিদায়ী ম্যাচটাও মেসির জন্য ছিল স্বপ্নের মতো। বেনিনকে ৩-০ গোলে হারানোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার তিন গোলেই ছিল তার সরাসরি অবদান। নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাজকে দিয়ে দুটি গোল করানোর পর ৭১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজেও গোল করেন তিনি।  বিদায়ী ম্যাচে মেসির নামের পাশে থাকল ১ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে ২০৮তম বার আর্জেন্টিনার জার্সি পরে মাঠে নেমে করলেন নিজের শেষ গোলটিও। আলবিসেলেস্তেদের হয়ে তার নামের পাশে ১২৬ গোল আর ৭০টি অ্যাসিস্ট রইলো।  শুধু কার্ডই নয়, বিদায়ী ম্যাচের বলটিও মেসির হাতে তুলে দিয়ে দিনটি স্মরণীয় করে রাখা হয়।  আরটিভি/এসআর
বিদায়ী ম্যাচে হলুদ ও লাল কার্ড পেলেন মেসি
মেসির বিদায়ের দিনে জাতীয় দল ছাড়ার কারণ জানালেন রোনালদো
লিওনেল মেসির বিদায়ের দিনে পর্তুগাল জাতীয় দল ছাড়ার নেপথ্যের কাহিনী প্রকাশ্যে এনেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এক বিবৃতিতে সরাসরি কোচ জর্জ জেসাসের বিরুদ্ধে ‘কথা না রাখার’ অভিযোগ তুললেন পর্তুগিজ মহাতারকা।  প্রায় দুই হাজার শব্দের দীর্ঘ বিবৃতিতে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। তবে একই সঙ্গে বুঝিয়ে দিয়েছেন, তার ক্ষোভের কারণও যথেষ্ট গুরুতর। রোনালদোর অভিযোগ, জাতীয় দলের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সূচি নিয়ে জেসাসের সঙ্গে তার একটি গোপন পরিকল্পনা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, নরওয়ে ও ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ম্যাচে না খেললেও পর্তুগালেই থেকে যাওয়ার কথা ছিল না তার।  অধিনায়ক হিসেবে সতীর্থরা যখন সফরে যাবে, তখন তিনি নিজে দেশে থেকে যাবেন—এমন কোনো ভুল বার্তা তৈরি করতে চাননি রোনালদো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বদলে যায়। জেসাস তাকে নরওয়ের বিরুদ্ধে অন্তত ৩০ মিনিট মাঠে নামানোর কথা জানান। এই কিংবদন্তি ফুটবলারের দাবি, ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে তিনি নিয়মমাফিক ওয়ার্ম-আপও করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে মাঠে নামানো হয়নি। কোচের কথায় পূর্ণ আস্থা রেখেই তিনি প্রস্তুত হয়েছিলেন, অথচ সেই প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি। এখান থেকেই কোচের ওপর তার ‘বিশ্বাসের ভিত নড়ে যায়’ বলে জানিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। এরপরও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বটে। রোনালদোর দাবি, জেসাসের সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকে ঠিক হয়েছিল, ডেনমার্ক ম্যাচের আগের সাংবাদিক বৈঠকে কোচ পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করবেন এবং স্বীকার করবেন যে, রোনালদো নিজে থেকে খেলার জন্য কোনো জোর দেননি। কিন্তু সেই সংবাদ সম্মেলনে কোচের বক্তব্য তাদের আগের কথাবার্তার সঙ্গে মিল ছিল না।  বরং কোচের আচরণে একধরনের ‘আগ্রাসন’ দেখেছিলেন তিনি। তার মতে, সেটাই ছিল কোচের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় বার কথা না রাখার ঘটনা। এরপরই জাতীয় দলের শিবির ছাড়ার কঠোর সিদ্ধান্ত নেন রোনা তিনি। তবে নিজের এই সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধেই নিয়েছেন তিনি।  সতীর্থ ও দেশের কোটি কোটি সমর্থকের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে বলেছেন, রাগ বা অভিমানের বশে শিবির ছেড়ে চলে যাওয়া তার একদম উচিত হয়নি। এমনকি ফেডারেশন যদি তাকে কোনো শাস্তি দেয়, তিনিও তা মাথা পেতে নেবেন। অধিনায়ক হিসেবে তার দায়িত্ব আরও অনেক বেশি ছিল বলেও স্বীকার করেছেন রোনালদো। তবে এই পুরো ঘটনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকটি লুকিয়ে রয়েছে অন্য জায়গায়। এই আল নাসর তারকা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পর্তুগালের হয়ে খেলার দরজা তার জন্য এখনই বন্ধ হয়ে যায়নি। দেশের হয়ে মাঠে নেমে জেতার খিদে তার আগের মতোই অটুট রয়েছে। ফলে কোচের সঙ্গে যতই সংঘাত বাড়ুক না কেন, দেশের জার্সিতে তার অধ্যায় যে এখনই শেষ হচ্ছে না, সেই বার্তাই তিনি দিয়ে রাখলেন। সবমিলিয়ে, এই বিস্ফোরক বক্তব্যের সময়টাই যেন পুরো ঘটনাটিকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। একদিকে যেদিন মেসির বিদায়ে আবেগ, স্মৃতি আর অশ্রুতে সিক্ত হয়েছে বিশ্ব ফুটবল, ঠিক সেই দিনেই রোনালদো এই অবস্থান স্পষ্ট করার বিষয়টি নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছে।  এক মেগা তারকার বিদায়বেলায় যখন বিষাদের সুর, অন্য মেগা তারকার কণ্ঠে তখন রাগ, অভিমান আর হিসাব-নিকাশের কড়া সুর। বিশ্ব ফুটবলের দুই মহারথীর শেষ অধ্যায় যেন লেখা হচ্ছে দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্রনাট্যে। আরটিভি/এসআর
মেসির বিদায়ের দিনে জাতীয় দল ছাড়ার কারণ জানালেন রোনালদো
মেসির সঙ্গে বিদায় নিলেন ওতামেন্দি
লিওনেল মেসির সঙ্গে বিদায় নিলেন আরও এক বিশ্বকাপ জয়ী তারকা নিকোলাস ওতামেন্দি। মেসি মতো বিদায়ী ম্যাচে গোল করেছেন এই সেন্টারব্যাক। মেসির কর্নার থেকে গোল করে যেন নিজের শেষ রাতটাকেও রাঙিয়ে রাখলেন তিনি। বুধবার (৭ অক্টোবর) গোলের আনন্দ অবশ্য বেশিক্ষণ উপভোগ করতে পারেননি তিনি। মিনিট দুয়েক পরই ওতামেন্দিকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।  মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারিজুড়ে বেজে ওঠে করতালি। ‘স্ট্যান্ডিং ওভেশন’-এ বিদায় জানায় মনুমেন্টাল। সতীর্থরাও এগিয়ে এসে হাত মিলিয়ে জড়িয়ে ধরেন দীর্ঘদিনের এই সঙ্গীকে। বিশ্বকাপের পরই জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ওতামেন্দি। তবে মেসির বিদায়ি ম্যাচকে সামনে রেখে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য তাকে বিশেষভাবে দলে ফেরান স্কালোনি। ফলে মেসির সঙ্গে একই রাতে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামার সুযোগ হয় তারও। ম্যাচের আগে এজেইজা ট্রেনিং কমপ্লেক্সে জাতীয় দলের হয়ে শেষ অনুশীলনও সেরে ফেলেছিলেন ওতামেন্দি। এরপর সামাজিক মাধ্যমে নিজের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের স্মৃতি রোমন্থন করে আবেগঘন বার্তা দেন এই ডিফেন্ডার। ‘মাঠের প্রতিটি কোণ যেন কোনো না কোনো গল্প ধরে রেখেছিল। জাতীয় দলের হয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা শুধু একটি স্বপ্ন পূরণ ছিল না; এটি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানগুলোর একটি।’ আর্জেন্টিনার সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ওতামেন্দি। তবে তার বার্তার সবচেয়ে আবেগঘন অংশটি ছিল মেসিকে ঘিরে।  সতীর্থ ও বন্ধুর বিদায়ের রাতের আগে তিনি লিখেছিলেন, আগামীকাল খুব বিশেষ একটি দিন। কারণ এটি সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়ের দিন। তোমার গল্পের অংশ হতে পারাটা আমার জন্য ছিল গর্বের, ছোট্ট মানুষ। আজ সেই ‘বিশেষ দিন’।  মেসির শেষ ম্যাচের আবেগের সঙ্গী হয়ে নিজের শেষটাও স্মরণীয় করে রাখলেন ওতামেন্দি। আর বিদায়ের আগে গোল করে রেখে গেলেন এমন এক স্মৃতি, যা আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার শেষ অধ্যায়ের সঙ্গে চিরকাল জড়িয়ে থাকবে।  আরটিভি/এসআর
মেসির সঙ্গে বিদায় নিলেন ওতামেন্দি
আরও পড়ুন
বিদায়ী ম্যাচে মেসিকে যেসব উপহার দিল বেনিন
গোল ও জোড়া অ্যাসিস্টে বিদায়ী ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখলেন মেসি
মেসিকে সম্মান জানাতে নতুন রূপে সেজেছে জন্মস্থান রোজারিও
বিদায়ের মঞ্চ প্রস্তুত, রাত পোহালেই আর্জেন্টিনায় মেসি অধ্যায়ের সমাপ্তি