ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ক্লাব ফুটবলে সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় কোন দেশের?

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৮, ০২:০৯ পিএম

ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর ফিফা বিশ্বকাপ। কিছুদিন আগেই ফ্রান্সের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে ২১তম আসরের পর্দা নেমেছে। আগামী চার বছরের জন্য বিশ্ব ফুটবলের সেরার মুকুট ফ্রান্সের মাথায়। বিশ্বকাপ চার বছর পর পর আসে কিন্তু তার মাঝখানে সকলেই মেতে থাকে ক্লাবের খেলাগুলো নিয়ে।

আগামী আগস্ট মাস থেকে আবার শুরু হচ্ছে ক্লাব ফুটবলের আসর। সকলে এবার বুঁদ হয়ে থাকবে ক্লাব ফুটবলে। ক্লাব ফুটবলের দ্বৈরথ দেখতে ঘুম বিসর্জন দিবে ফুটবলপ্রেমীরা। পাঠকরা কী জানেন ক্লাব ফুটবলে সবচেয়ে বেশি কোন দেশের খেলোয়াড়? হয়ত কখনো চিন্তাই করেননি? আসুন জেনে নেই বিশ্বের বিভিন্ন ক্লাবে যে সকল খেলোয়াড়রা খেলে তাদের সংখ্যার ভিত্তিতে শীর্ষ পাঁচটি দেশের তালিকা।

পুরো বিশ্বে মোট ১৩৭টি লিগ চালু রয়েছে। তন্মধ্যে ৯৩টি দেশের পরিসংখ্যান যাচাই-বাছাই করে এ শীর্ষ পাঁচটি দেশের নাম তৈরী করা হয়েছে। বিদেশি লিগে খেলার ফলশ্রুতিতে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা যেমন পরিপক্ক হয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার যেমন যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করে সেই সাথে একটি দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে।

ব্রাজিল
এই তালিকার সবার শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিল। ব্রাজিলকে বলা হয় ফুটবলের দেশ। ব্রাজিলের আনাচে-কানাচে হাজার হাজার ফুটবলারের জন্ম হয়। বর্তমানে বিদেশে লিগগুলোতে সর্বমোট ১ হাজার ২০২ জন ফুটবলার খেলছেন। এদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ ফুটবলার উয়েফাভুক্ত দেশগুলোর ক্লাবের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে খেলছেন। তবে ব্রাজিলের সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ফুটবলার খেলছেন পর্তুগালে। পর্তুগালের শীর্ষ দুটি লিগে ব্রাজিলের মোট ২২১ জন ফুটবলার খেলছেন।

ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের প্রথম পছন্দ পর্তুগাল হওয়ার কারণ হচ্ছে এই দুটি দেশের ভাষা এবং সংস্কৃতি একই ধরনের। ব্রাজিল একসময় পর্তুগালের উপনিবেশ ছিলো। উপনিবেশ হওয়ার কারণে দুটি দেশের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। এই কারণেই ব্রাজিলের প্রচুর সংখ্যক ফুটবলার পর্তুগালের লিগগুলোতে খেলে থাকেন। পর্তুগালের পরেই রয়েছে জাপান। জাপানি লিগের ক্লাবগুলোতে বর্তমানে ব্রাজিলের প্রায় ৫৪ জন ফুটবলার খেলছেন। বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলাররা দেশের গৌরবময় ফুটবলের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

ফ্রান্স
তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স। কিন্তু ফ্রান্সের কোনো ক্লাব এখন পর্যন্ত কোনো ইউরোপিয়ান শিরোপা জিততে পারেনি। ফ্রান্সের সেরা ফুটবলাররা তাদের ঘরোয়া লিগের চেয়ে বিশ্বের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগগুলোতে খেলতে পছন্দ করেন। এ কারণেই হয়ত ফ্রান্সের ক্লাবগুলো ইউরোপিয়ান পর্যায়ে তেমন কোনো সাফল্য পাচ্ছে না। বর্তমানে ৭৮১ জন পেশাদার ফরাসি ফুটবলার বিদেশি লিগগুলোতে খেলছেন যার মধ্যে ১০৭ জন রয়েছেন ইংল্যান্ডের ক্লাবগুলোতে।

মোট খেলোয়াড়ের মধ্যে ৮১ শতাংশ খেলোয়াড় উয়েফা ভুক্ত দেশগুলোর ক্লাবের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে খেলছেন। এর মধ্যে প্রায় ৫১ শতাংশ ফুটবলার খেলছেন ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম, ইতালি, স্পেন, লুক্সেমবার্গ এবং জার্মানিতে। ফ্রান্সের অধিকাংশ ফুটবলারই আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত। মজার বিষয় হচ্ছে তারা অভিবাসী হয়ে ফ্রান্সে এসেছেন এবং ফুটবলার হওয়ার পরে তারা আবার আলজেরিয়ার ঘরোয়া লিগের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে খেলতে যান। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে ফরাসি ফুটবলাররা খেলছেন।

আর্জেন্টিনা
ইউরোপের প্রায় বড় বড় সব লিগগুলোতে আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা আধিপত্য বিস্তার করেছে। ফিফার সূত্রমতে বিশ্বের বিভিন্ন ফুটবল লিগে নিবন্ধিত এবং অনিবন্ধিতভাবে আর্জেন্টিনার প্রায় ২৬ লাখ ফুটবলার খেলছে। কয়েক বছর আগেও আর্জেন্টিনা ছিল শীর্ষ ফুটবলার রপ্তানিকারক দেশ। তবে বর্তমানে আর্জেন্টিনার ৭৫৩ জন ফুটবলার বিদেশী লিগগুলোতে খেলছেন।

যাদের মধ্যে ৫০ ভাগই খেলছেন চিলি, মেক্সিকো, ইতালি, স্পেন এবং বলিভিয়ায়। এই ৭৫৩ জন ফুটবলারের মধ্যে ৩৭ ভাগ ফুটবলারই দেশ ছেড়েছেন উয়েফাভুক্ত দেশগুলোর ক্লাবের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে। আর্জেন্টাইন ঘরোআ লিগ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি প্রতিটি প্রান্তের ফুটবল ক্লাবগুলোকে আকর্ষণ করে থাকে এবং এখান থেকে অনেক খ্যাতিমান ফুটবলার জন্ম নিয়েছে।

এছাড়া আর্জেন্টাইন ফুটবল লিগে খেলার সুযোগ পাওয়া অনেক কঠিন হওয়ায় অনেক খেলোয়াড় আছেন যারা এর চেয়ে সহজ লিগগুলোতে খেলার জন্য দেশ ছাড়েন। এছাড়া প্রচুর পরিমাণ খেলোয়াড় অনিবন্ধিতভাবে বিদেশি লিগে খেলতে যাওয়ার কারণে আর্জেন্টিনার মোট কত জন খেলোয়াড় বাইরের লিগে খেলছেন সেই হিসাবটা পাওয়া খুব কঠিন। তবে আর্জেন্টিনার অর্থনীতিতে বড় অবদান রেখে যাচ্ছেন এই ফুটবলাররা।

সার্বিয়া
এই তালিকার চতুর্থ অবস্থানে সার্বিয়ার নাম দেখে হয়ত অনেকেই অবাক হচ্ছেন। কারণ ইউরোপের ফুটবল খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে সার্বিয়া নিচের দিকে রয়েছে, যদিও তারা সর্বশেষ রাশিয়া বিশ্বকাপ খেলেছে। কিন্তু ইউরোপিয়ান ফুটবলের এই দেশটি প্রচুর সংখ্যক ফুটবলার রপ্তানি করে থাকে। যুগোস্লাভিয়া এবং মন্টিনেগ্রো থেকে আলাদা হওয়ার পর সার্বিয়া স্বাধীন দেশ হিসেবে ফিফা এবং উয়েফার সদস্য হয়েছে। বর্তমানে সার্বিয়ার সর্বমোট ৪৬০ জন পেশাদার ফুটবলার বিভিন্ন নিয়ে খেলছেন।

এরমধ্যে ৯১ শতাংশ ফুটবলারই উয়েফা ভুক্ত দেশগুলোতে চুক্তিবদ্ধ হয়ে খেলছেন। সার্বিয়ার অধিকাংশ ফুটবলার অভিবাসী হিসেবে পার্শ্ববর্তী দেশ বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, মন্টিনিগ্রো এবং হাঙ্গেরিতে অভিবাসী হিসেবে চলে গেছে। তবে বর্তমানে যে ফুটবলাররা বাইরের দেশের লিগগুলোতে খেলছেন তারা সার্বিয়ার মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা পালন করছে।

এ জন্য দেশটির সরকার যুব ফুটবলারদের পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করছে যাতে ভবিষ্যতে তারা আরো বেশি পরিমাণ ফুটবলার বাইরের দেশগুলোতে রপ্তানি করতে পারে। সার্বিয়া তাদের যুব ফুটবলারদের পেছনে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে বা করছে তার ফলাফল ইতিমধ্যে তারা পেতে শুরু করেছে। ২০১৩ সালে সার্বিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে এবং ২০১৫ সালে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপও জিতেছে।

ইংল্যান্ড
ফুটবলের জনক বলা হয় ইংল্যান্ডকে। সেই সাথে ইংল্যান্ড আধুনিক ফুটবলের নিয়ম-কানুনের প্রবর্তক। এছাড়া ফুটবল বিশ্বের সর্বপ্রথম দেশ হিসেবে ইংল্যান্ডে চালু হয় ফুটবল ক্লাব, জাতীয় লিগ এবং নক-আউট প্রতিযোগিতা এফএ কাপ। বিশ্বের সবচেয়ে জমজমাট লিগ হচ্ছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন দেশ থেকে শত শত ফুটবলার এসে খেলেন।

তবে অন্য দেশের ফুটবলাররা শুধু ইংল্যান্ডেই এসে খেলেন সেটা নয়। ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রাও অন্য দেশে লিগগুলোতে খেলে থাকেন। বর্তমানে ইংল্যান্ডের প্রায় ৪৫১ জন ফুটবলার অন্যদেশের লিগগুলোতে খেলছেন। এই খেলোয়াড়দের মধ্যে ৭৯ শতাংশ উয়েফাভুক্ত দেশগুলোতে খেলছেন। ৫৭ শতাংশ ফুটবলার ওয়েলস এবং স্কটল্যান্ডে খেলছেন বাকি ফুটবলাররা গ্রেট ব্রিটেনে খেলছেন।

তবে ইংলিশ ফুটবলারদের বড় একটি অংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে পছন্দ করেন কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ভাষা এবং সংস্কৃতির সাথে ইংল্যান্ডের বেশ মিল রয়েছে। ওয়েলস এবং স্কটল্যান্ডের পরে বেশিসংখ্যক ফুটবলার আমেরিকায় খেলতে পছন্দ করেন। এছাড়া ইংলিশ ফুটবলাররা দুই স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা খেলার জন্য মুখিয়ে থাকেন। তবে ইংলিশ ফুটবলাররা বিশ্বের যে কোনও লিগে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলে তারা সেটি গ্রহণ করেন।

এএ/ওয়াই

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সুসংবাদ শুনে অস্ট্রেলিয়া থেকে উড়ে স্ত্রীর পাশে রোহিত
মেয়ে সন্তানের বাবা হয়েছেন ভারতের ক্রিকেটার রোহিত শর্মা। সুখবর পেয়েই অস্ট্রেলিয়া থেকে স্ত্রী রীতিকার কাছে চলে গেছেন টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটিং লাইনের অন্যতম ভরসা। গেল ২১ ডিসেম্বর ছিল রোহিতের স্ত্রীয়ের জন্মদিন। অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকায় বিশেষ দিনটি পাশে না পারার জন্য রীতিকার কাছে সোশাল মিডিয়ায় ক্ষমা চান রোহিত। তবে বাবা হবার খবর পেয়েই ভারত ছুটে গেলেন রোহিত।  দেশে ফেরার কারণে সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চতুর্থ ও শেষ টেস্টে মাঠে নামা হচ্ছে না হিট ম্যান খ্যাত এই তারকার।   আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ম্যাচটি। চার ম্যাচের সিরিজের ফল এখন ২ -১। এগিয়ে থাকা ভারত এই সিরিজটি নিজেদের করে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। অন্যদিকে সিরিজ বাঁচাতে জেতা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই অস্ট্রেলিয়ার। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে থাকা হচ্ছে না রোহিতের। ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (বিসিসিআই) পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোহিত ভারতীয় টিমের সঙ্গে  যোগ দেবেন নতুন বছরের ৮ জানুয়ারি।  টেস্ট সিরিজ শেষে তখন ওয়ানডে সিরিজের জন্য প্রস্তুতি নেবে বিরাট বাহিনী। দুই দলের মধ্যে ১২, ১৫ এবং ১৮ তারিখ তিনটি একদিনের ম্যাচ রয়েছে।  সেই সময় উপস্থিত থাকবেন অভিজ্ঞ রোহিত। চলতি সিরিজে প্রথম ও তৃতীয় ম্যাচে ব্যাট হাতে নেমেছিলেন রোহিত। চোটের কারণে দ্বিতীয় টেস্টে দলের বাইরে ছিলেন ডান-হাতি এই ব্যাটসম্যান। ওয়াই
সুসংবাদ শুনে অস্ট্রেলিয়া থেকে উড়ে স্ত্রীর পাশে রোহিত
বিরাটের অধিনায়কত্বে বর্ষসেরা টেস্ট দলে তাইজুল
বছরের শেষ টেস্টটিও খেলা হয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়া-ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা-পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কার টেস্টগুলো একই দিনে (২৬ ডিসেম্বর) শুরু হওয়ায় এই তিনটি টেস্টই ২০১৮ সালের শেষ টেস্ট। এবার পালা বছরের সেরাদের সামনে নিয়ে আসার। বছরজুড়ে কারা কারা ক্রিকেট বিশ্বে ছড়ি ঘুরিয়েছে তাদের নিয়ে একাদশ তৈরি করছে ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বর্ষসেরা টেস্ট একাদশ করল ক্রীড়া বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘স্পোর্টসকিড়া’। জনপ্রিয় এই ওয়েবসাইটের সেরা টেস্ট একাদশে জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের স্পিনার তাইজুল ইসলাম। পুরো বছরেই বারবার নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন তাইজুল। চলতি বছরে ৪৩ উইকেট নিয়ে ছাড়িয়ে গেছেন বাংলাদেশের হয়ে মোহাম্মদ রফিকের সর্বোচ্চ ৩৩ উইকেটের রেকর্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইনিংসে সর্বোচ্চ ৬ উইকেটের পাশাপাশি ৪ বার ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট শিকার করেছেন এই বামহাতি এই অর্থোডক্স।   বছরজুড়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলারদের মধ্যে তিনি রয়েছে ৮ নম্বরে এবং স্পিনারদের মধ্যে যা তৃতীয়। আর বামহাতি স্পিনারদের মধ্যে রয়েছে প্রথমে।  তাই বর্ষসেরা টেস্ট দলে স্পিনার কোটায় তাইজুলকে বাছাই করতে দ্বিধায় ভুগতে হয়নি স্পোর্টসকিড়ার। ১৭ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয়ে অবদান রাখায় সেরাদের দলে জায়গা তাইজুলের জায়গা হয়েছে বলে উল্লেখ করে ওয়েবসাইটটি। এই দলের অধিনায়ক করা হয়েছে বর্তমান বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান ও ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে। এই দলে রয়েছেন জো রুট, কেন উইলিয়ামসন, ও জেসন হোল্ডারের মতো আরও তিন জাতীয় দলের অধিনায়ক।  ওপেনারের দায়িত্ব পালন করবেন দুই শ্রীলঙ্কান দিমুথ কারুনারত্নে ও কুশল মেন্ডিস। তিন নম্বর পজিশনের জন্য দলে নেয়া হয়েছে ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক জো রুটকে। কোহলি ও নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক উইলিয়ামসনকে রাখা হয়েছে মিডল অর্ডার সামলানোর জন্য।  উইকেটের পিছনে রাখায় হয়েছে বছরজুড়ে ফর্মে থাকা ইংল্যান্ডের উইকেটরক্ষক জস বাটলারকে। বোলিং অলরাউন্ডারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ক্যারিবীয় অধিনায়ক জেসন হোল্ডারকে।  তাইজুলের সঙ্গে স্পিন বিভাগ সামলাবেন অস্ট্রেলিয়ান নাথান লায়ন। পেস বোলিংটা দেখবেন দক্ষিণ আফ্রিকান কাগিসো রাবাদা ও পাকিস্তানের মোহাম্মদ আব্বাস।  স্পোর্টসকিড়ার বছরের সেরা টেস্ট একাদশ দিমুথ কারুনারত্নে (শ্রীলঙ্কা), কুশল মেন্ডিস (শ্রীলঙ্কা), জো রুট (ইংল্যান্ড), বিরাট কোহলি (অধিনায়ক, ভারত), কেন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড), জস বাটলার (ইংল্যান্ড), জেসন হোল্ডার (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), নাথান লায়ন (অস্ট্রেলিয়া), তাইজুল ইসলাম (বাংলাদেশ), কাগিসো রাবাদা (দক্ষিণ আফ্রিকা), মোহাম্মদ আব্বাস (পাকিস্তান)। এস/ওয়াই
বিরাটের অধিনায়কত্বে বর্ষসেরা টেস্ট দলে তাইজুল
মোরিনহোর বিদায়ে স্বরূপে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
দীর্ঘদিন ধরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ ও দলের খেলোয়াড়দের বিপক্ষে হোসে মোরিনহোর বিরোধের খবর চাউর ছিল। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে লিভারপুলের বিপক্ষে ৩-১ গোলে হারের পর ছাটাই হতে হয় মোরিনহোকে। পর্তুগালের হেভিওয়েট এই কোচের বদলে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে ওলে গানার সোলসকায়েরকে নিয়োগ দেয়া হয়। দলটির সাবেক এই ফুটবলার দায়িত্বগ্রহণের পরপরই চিত্র পাল্টে যায়। নরওয়ের জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ডের অধীনে রোববার রাতের ম্যাচে বড় জয় নিয়ে বছরটা শেষ করল রেড ডেভিলসরা। ওল্ড ট্রাফোর্ডে বোর্নমাউথের বিপক্ষে ৪-১ এ জয় পেয়েছে ইউনাইটেড। বড় এই জয়ের পর ম্যানচেস্টার ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকা এক প্রতিবেদনে শিরোনাম করেছে, ‘ওলে গানার সোলসকায়ের অধীনে স্বরূপে ফিরছে আসল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড’। ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’ খ্যাত মোরিনহোকে বিদায় জানানোর পর প্রিমিয়ার লিগের শেষ তিন ম্যাচে ১২টি গোল করেছে ম্যানচেস্টারের ঐতিহ্যবাহী দলটি। ২২ ডিসেম্বর কার্ডিফকে ৫-১ গোলের উড়িয়ে দেয় ম্যানইউ। পরের ম্যাচে হাডার্সফিল্ড টাউনের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয় পায় সোলসকায়েরের শিষ্যরা।  ওলে গানার সোলসকায়েরের সঙ্গে পল পগবা। দলের সঙ্গে গেল দুই ম্যাচে উজ্জ্বল পল পগবাও। হাডার্সফিল্ডের বিপক্ষে গেল বুধবার দুটি গোল করার পর বছরের শেষ ম্যাচেও বোর্নমাউথের জালে দুই বার বল জড়িয়েছেন ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ী এই মিডফিল্ডার। এই নিয়ে চলতি মৌসুমে ১৭ ম্যাচে সাতটি গোল করলেন ২৫ বছর বয়সী পগবা। লিগ টেবিলে ২০ ম্যাচে ১০ জয় নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। পাঁচ ড্র ও পাঁচ হারে বর্তমান পয়েন্ট ৩৫। সমান সংখ্যক ম্যাচে ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে রয়েছে লিভারপুল। এস/ওয়াই 
মোরিনহোর বিদায়ে স্বরূপে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
আইসিসির সেরা একাদশে বাংলাদেশের রুমানা
বছরজুড়ে যেমন দাপট দেখিয়েছেন বাংলাদেশের পুরুষ ক্রিকেট দল তেমনি সমান তালে সাফল্য অর্জন করেছে নারী ক্রিকেট দলও। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সাফল্যটাও এসেছে নারীদের হাত ধরে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ট্রফি ঘরে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ট্রফি এনে দিয়েছে এবছরে টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে।  ছয় বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে ফাইনালে ৩ উইকেটে হারিয়েছে সালমা-রুমানারা। এবার সেই সাফল্যের রেশ ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সেরা একাদশে জায়গা করে নিলেন টাইগ্রেস ক্রিকেটার রুমানা আহমেদ।  লাল-সবুজদের হয়ে অলরাউন্ডারের ভূমিকা পালন করলেও লেগ স্পিনার হিসেবে সুযোগ মিলেছে সেরাদের এই দলে।  সোমবার আইসিসির নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে বর্ষসেরা নারী টি-টোয়েন্টি একাদশ।  ভারতের অধিনায়ক হারমানপ্রীত কাউরকে করা হয়েছে এই দলের অধিনায়ক। ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন আরও দুই ক্রিকেটার। তবে সবচেয়ে বেশি চার নারী অজি ক্রিকেটার রয়েছে এই দলে। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের হয়ে দুজন ও ইংল্যান্ডের হয়ে একজন রয়েছেন বর্ষসেরার এই টি-টোয়েন্টি একাদশে।   বাংলাদেশের হয়ে মোট ৫৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ৬৬৩ রানের পাশাপাশি ৫২ উইকেট নিয়েছেন রুমানা। আইসিসির বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি একাদশ স্মৃতি মানদানা (ভারত), অ্যালিসা হেইলি (অস্ট্রেলিয়া), সুজি বেটস (নিউজিল্যান্ড), হারমানপ্রীত কাউর (ভারত), নাটালি স্কাইভার (ইংল্যান্ড), এলিসা পেরি (অস্ট্রেলিয়া), অ্যাশলেগ গ্রাডনার (অস্ট্রেলিয়া), লেইগ ক্যাসপেরেক (নিউজিল্যান্ড), মেগান স্কুট (অস্ট্রেলিয়া), রুমানা আহামেদ (বাংলাদেশ), পুনম পান্ডে (ভারত)।    এস/ওয়াই
আইসিসির সেরা একাদশে বাংলাদেশের রুমানা
বছরের ফ্লপ একাদশের অধিনায়ক ধোনি, ভারতের আধিপত্য
শেষ হলো ২০১৮ সালের সব আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচি। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের মধ্য দিয়ে চলতি বছরের ওয়ানডে যাত্রা শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্য দিয়ে বছরের ওয়ানডের সেই যাত্রার সমাপ্তি ঘটে। এখন বিশ্বজুড়ে চলছে বছরের দলগত ও ব্যক্তিগত পারফর্মেন্সের কাটছেরা। ক্রিকেট ভিত্তিক বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রতিনিয়ত প্রকাশিত হচ্ছে বছরের সেরা একাদশ গুলো। তবে কিছুটা ভিন্ন পথে হাঁটল ক্রিক ট্র্যাকার। এবার ক্রিকেট সংক্রান্ত জনপ্রিয় এই ওয়েবসাইট প্রকাশ করল বছরের ‘ফ্লপ’ ওয়ানডে একাদশ। বাংলাদেশের সমর্থকদের জন্য স্বস্তির খবর যে এই একাদশে নেই কোনও টাইগার ক্রিকেটার। সেরা একাদশের মতো ফ্লপ একাদশেও আধিপত্য ছিল ভারতীয় ক্রিকেটারদের। মহেন্দ্র সিং ধোনির নের্তৃত্বে এই দলে আরও রয়েছে আরও দুই ভারতীয় হার্দিক পান্ডিয়া ও ভুবেনশ্বর কুমার। ফ্লপ দলটির ওপেনিংয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নিউজিল্যান্ডের কলিন মুনরো ও ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান এভিন লুইসকে। মুনরো বছরজুড়ে ১৩টি ওয়ানডে খেলে ১৯.৫৩ গড়ে করেছেন মোটে ২৫৪ রান। এদিকে অপর ওপেনার লুইস বেশিরভাগ সিরিজে ওয়ানডে দল থেকে নাম প্রত্যাহার করলেও সারাবছরে ১০টি ম্যাচ খেলে ২৭.৪০ গড় নিয়ে করেছেন মাত্র ২৭৪ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের আরেক প্রতিনিধি হিসেবে তিন নাম্বার পজিশনে জায়গা পেয়েছেন মারলন সামুয়েলস। বছরের শেষ ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের বিপক্ষেও ফ্লপ ছিলেন এই জ্যামাইকান। ২০১৮ সালে ১৫টি ওয়ানডে খেলে করেছেন ৩৬৫ রান। এরপরই জায়গা হয়েছে ভারতের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক ধোনির। যার ২০ ওয়ানডেতে ২৫.০০ গড়ে সংগ্রহ ২৭৫ রান। তাই ‘আস্থা’ রেখেই এই দলের অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে। মিডল অর্ডার সামলাবেন বাংলাদেশের বিপক্ষে ক্যারিবিয়ানদের নেতৃত্ব দেয়া রোভম্যান পাওয়েল। চলতি বছরে ১৭টি ওয়ানডে খেলে ২৬.৬৪ গড়ে তার ঝুড়িতে রয়েছে ৩৭৩ রান। দলের অলরাউন্ডারের ভূমিকায় থাকবেন হার্দিক পান্ডিয়া। ইনজুরির কারণে বছরের সব ম্যাচ খেলতে না পারলেও ১০ ম্যাচে মাত্র ১৩.৬০ গড়ে ৬৮ রান তুলেছেন ভারতের এই উদীয়মান ক্রিকেটার। স্পিন অলরাউন্ডার হিসেবে থাকছেন মঈন আলী। ২৪ ওয়ানডে খেলে ১৭.৩১ গড়ে ২৭৭ রান সংগ্রহ করেছেন এই ইংলিশম্যান। চতুর্থ ক্যারিবিয়ান হিসেবে থাকছেন লেগ স্পিনার দেবেন্দ্র বিশু। ১০ ম্যাচ খেলে যার উইকেট রয়েছে ৬টি। পেস বোলিংয়ের দায়িত্বে থাকবেন ভুবেনশ্বর কুমার। ১৪ ম্যাচে ১১ উইকেট রয়েছে তার ঝুলিতে। দলের বাকি দুই পেস বোলার হচ্ছেন ইংল্যান্ডের মার্ক উড ও পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমির। উড ১৬ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিতে পারলেও পাকিস্তানের বোলিংয়ের সেরা অস্ত্র আমির ১০ ম্যাচে নিয়েছেন মোটে ৩ উইকেট।   ক্রিক ট্র্যাকারের ২০১৮ সালের ফ্লপ একাদশ    কলিন মুনরো (নিউজিল্যান্ড), এভিন লুইস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), মারলন সামুয়েলস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), এমএস ধোনি (ভারত), রোভম্যান পাওয়েল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), হার্দিক পান্ডিয়া (ভারত), মঈন আলী (ইংল্যান্ড), দেবেন্দ্র বিশু (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), ভুবেনশ্বর কুমার (ভারত), মার্ক উড (ইংল্যান্ড), মোহাম্মদ আমির (পাকিস্তান)।   এস/ওয়াই 
বছরের ফ্লপ একাদশের অধিনায়ক ধোনি, ভারতের আধিপত্য
আরও পড়ুন
বাংলাদেশি হামজার সৌজন্যে টানা জয় পেলো লেস্টার
টিভিতে আজকের খেলার আয়োজন
ছোট পর্দায় আজকের খেলা
চ্যাম্পিয়নস লিগের নক-আউটে কে কার মুখোমুখি