
সিলেট টেস্টের দুই ইনিংসেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়তে হয়েছিল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৫১ রানের বড় হারের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। বোলাররা নিজেদের কাজটা করে দিলেও ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার কারণে দুই ম্যাচ সিরিজে ১-০তে পিছিয়ে যেতে হয়। ঢাকায় ফিরে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। প্রথম ইনিংসে মুশফিক-মুমিনুলরা রানোৎসব করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতকটি তুলে নেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। মুশফিকের ডাবল সেঞ্চুরি আর রিয়াদের সেঞ্চুরির সাক্ষী ছিলেন। দুই ইনিংসেই ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও পালন করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
দিন শেষে প্রেস বিফ্রিংয়ে এই অবদান নিয়ে তিনি বলেন, একজন ডাবল আর আরেকজন সেঞ্চুরি- আসলে দিন শেষে সবার আগে দল। আমরা সবাই দলের জন্যই খেলি। আমার কাছে খুব ভালো লাগছে যে, আমি একজনের ডাবল সেঞ্চুরির সঙ্গী ছিলাম আরেকজনের সেঞ্চুরির সঙ্গী ছিলাম। এই জন্য আমার মনে খুব খুশি লাগছিল। আমার সেঞ্চুরি হয় কি হয় নাই সেটা নিয়ে চিন্তা করছি না। ভবিষ্যতে সুযোগ থাকলে সেটাও হবে হয়তো।
নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত চার উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়া দলকে টেনে তুলেন মিঠুন-রিয়াদ। শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের সামনে পাহাড়সম রানের লক্ষ্য দাঁড় করান রিয়াজ-মিরাজ। দীর্ঘ আট বছর টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেয়ার পর সেজদা দিয়েছেন টাইগার দলপতি। তার সঙ্গে ক্রিজে থাকা মিরাজও সেজদা দেন।
এরকম উদযাপন প্রসঙ্গে ২১ বছর বয়সী এই তরুণ বলেন, আপনারা যদি দেখেন শেষ অনেকদিন ধরে আমাদের বোলাররা রানে ছিল না। সেক্ষেত্রে এই ম্যাচটা কিন্তু আমাদের অনেক প্রাপ্তি ছিল। দেখেন মুশফিক ভাই ডাবল সেঞ্চুরি, মুমিনুল ভাই দেড়শ, রিয়াদ ভাই সেঞ্চুরি করেছেন, মিথুন ভাই ও আমি হাফ-সেঞ্চুরি করেছি। এসব ভেবে আমার খুব ভালো লেগেছে যে, ব্যাটসম্যানরা রানে ফিরেছে, সবাই ডমিনেট করেছে। এটা কিন্তু একটা টিমের জন্য অনেক কিছু। এই খুশিতেই আসলে সেজদাটা দেয়া। সবার খুশিটা নিজের মধ্যে কাজ করছিল। নিজের অনুভূতিটা আসলে ধরে রাখতে পারি নাই। তাই রিয়াদ ভাইয়ের সঙ্গে আমিও সেজদাটা দিয়ে দিয়েছি।
দিনের শুরুতে ফলোঅনে পড়া জিম্বাবুয়েকে ব্যাটিংয়ে না পাঠিয়ে ব্যাট করতে নেমে দ্রুত উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। যদিও শেষ পর্যন্ত বড় লক্ষ্য দিকে সক্ষম হয় টাইগাররা।
এ প্রসঙ্গে মিরাজ বলেন, আসলে দেখেন আমাদের দুই দিন সময় ছিল। আর ওরাও ২১৮ রানে পিছিয়ে ছিল। তাই আমাদের চিন্তা ছিল, শেষ ইনিংসে যেন ওরা ব্যাটিং করে। কারণ শেষদিন উইকেটে অনেক কিছু হবে, উইকেট ভেঙে যাবে। তাড়াতাড়ি আউট হবার সম্ভাবনাটা বেশি ছিল। তাই আমরা সেই রিস্কটা নেই নাই। আমরা রিস্ক ফ্রি থাকতে চেয়েছি। কারণ আমরা অনেকটাই ব্যাকফুটে। কারণ শেষ ম্যাচটা হারায় এই টেস্টে আমরা সবাই জান দিয়ে খেলছি।
এই ম্যাচে জয় নিয়ে আশাবাদী উল্লেখ করে মিরাজ বলেন, জয়-এখন পর্যন্ত আমাদের দিকেই আছে। তাদের ৪৪৩ রানের টার্গেট দিয়েছি আমরা। তাছাড়া এরইমধ্যে তারা দুইটা উইকেট হারিয়ে ফেলেছে। সবকিছু মিলিয়ে ম্যাচটা এখনো আমাদের দিকেই আছে। আর আমাদের বোলাররা যদি ঠিক জায়গায় বল করতে পারে, তাহলে জয়টা আমাদেররই হবে।
ওয়াই




