ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

এআই মানবজাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে—দাবি গবেষকের

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ এএম
প্রতীকী ছবি

এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যে সব সংস্থা তাদের মধ্যে অ্যানথ্রোপিক অন্যতম। সংস্থাটির একজন নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ গবেষক সতর্ক করেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এত দ্রুত উন্নত হচ্ছে যে তিনি বিশ্বাস করেন আগামী দশ বছরের মধ্যে এটি ‘সমস্ত মানুষকে হত্যা করতে পারে’ এমন আশঙ্কা ১০ শতাংশেরও বেশি।

ইভান হাবিঙ্গার এক্স-হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে বলেছেন, বর্তমানে বিদ্যমান মডেলগুলোর কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি ‘কম’; তবে তিনি এ বিষয়ে ‘উদ্বিগ্ন’ যে, এই প্রযুক্তি হয়তো শিগগিরই এমন পর্যায়ে বিকশিত ও উন্নত হয়ে উঠতে পারে, যা মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

তবে ভবিষ্যতে এআই কীভাবে মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে বলে তিনি মনে করেন, সেটা তিনি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেননি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে একের পর এক যেসব মন্তব্য আসছে, তার মন্তব্য সেই ধারাবাহিকে সর্বশেষ সংযোজন।

বিতর্কটা এখন এটা নিয়ে নয় যে এআইয়ের থেকে সত্যিই কোনো ঝুঁকি আছে কি না, বরং ঝুঁকিটা কত বড়, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।

হাবিঙ্গারের এই মন্তব্যটি ছিল অ্যানথ্রোপিকের সাবেক একজন গবেষক জেকব কক্সনের একটি পোস্টের জবাবে। কক্সন এর আগে ওপেন এআই-তে কাজ করতেন।

তিনি লিখেছিলেন, কোনো কোম্পানিই দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। এগুলো শিগগিরই এমন অতিমানবীয় সিস্টেমে পরিণত হবে যা যেকোনো কিছু হ্যাক করতে, রাতারাতি যেকোনো ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে এবং প্রকৃত ক্ষমতা ও সম্পদ অর্জন করতে পারবে।

মন্তব্যের জন্য ওপেনএআই-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

ডেম ওয়েন্ডি একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী যিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে জাতিসংঘকে পরামর্শ দেন। তিনি বিবিসিকে বলেছেন যে তিনি সামাজিক মাধ্যমে হাবিঙ্গার এবং কক্সনের পোস্ট দেখে ‘হতবাক’ হয়েছেন।

তিনি বলেন, এর কিছু অংশ ‘জনসংযোগ এবং বিপণন’-এর জন্যও হতে পারে, কারণ অ্যানথ্রোপিক এবং ওপেনএআই শেয়ার বাজারে তাদের বহু প্রতীক্ষিত আত্মপ্রকাশের জন্য দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল।

কিন্তু তিনি আরও বলেন, কেউ এমন কথা বলতে চাইবে কেন? আমি বিনিয়োগকারীদের কাছে অনুরোধ করব, যদি এটাই তাদের মূল্যবোধ হয়, তবে তারা যেন এই কোম্পানিতে বিনিয়োগ না করেন।

এই পদত্যাগের ফলে ব্রিটিশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন চিফ সেক্রেটারি এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের চিফ সেক্রেটারি ড্যারেন জোন্স প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামকে একটি খোলা চিঠি লেখেন, যেখানে তিনি নিরাপদভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশের জন্য একটি নতুন বহুজাতিক চুক্তির আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সুপার ইন্টেলিজেন্সের উন্নতির উপর ভিত্তি করে একটি চুক্তি কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে সরকারগুলোকে একত্রিত হয়ে ‘সহযোগিতার’ হাত বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারগুলো যদি এই সতর্কবার্তাগুলোকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে না নেয় এবং এর মোকাবিলায় এগিয়ে না আসে, তবে উন্নয়নের গতি এমন হতে পারে যে, এটি আমাদের জন্য কোনো সমস্যা কি না, তা খতিয়ে দেখার আগেই আমরা সমস্যায় পড়ে যাব।

অন্যদিকে, ফিনান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে যে, অ্যানথ্রোপিক যুক্তরাজ্যের এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউট (এআইএসআই)-এর কাছে তাদের সর্বশেষ মডেলটি প্রকাশ করেনি। এআই-এর ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এই সংস্থাটির কাছে অ্যানথ্রোপিক তাদের তথ্য গোপন রেখেছে।

তবে অ্যানথ্রোপিক তাদের কর্মীদের পোস্ট বা এআইএসআই-এর পরিস্থিতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

মডেলটি এআইএসআই থেকে গোপন রাখা হয়েছিল কি না সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে ক্যাবিনেট অফিসের একজন মুখপাত্র বলেছেন যে, তারা ‘মডেলগুলিকে আরও নিরাপদ করার জন্য অ্যানথ্রোপিক-সহ শিল্প অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে।

সেই পোস্ট, যা ১০ মিলিয়নেরও বেশি বার দেখা হয়েছে, সেখানে হাবিঙ্গার বলেছেন, ‘আমরা সত্যিই আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি’ যে এআই মানুষের প্রজাতি-বিলুপ্তির ঝুঁকি তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেছেন, আমি বিশ্বাস করি অ্যানথ্রোপিক সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে, কিন্তু সুপারইন্টেলিজেন্সের জন্য অ্যালাইনমেন্টের সমাধান করার কোনো পরিকল্পনা আমাদের কাছে এখনো নেই এবং আমরা সেই পথে এগোচ্ছিও না।

হাবিঙ্গার এআই অ্যালাইনমেন্ট নিয়ে কাজ করেন, যার লক্ষ্য হলো এই প্রযুক্তির মধ্যে মানুষের নৈতিক ধারণা ও নীতিগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা। এর লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিকে মানুষের মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ রাখা।

অনেক শীর্ষস্থানীয় গবেষক বলছেন যে এই প্রচেষ্টাগুলো ব্যর্থ হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে, যার প্রমাণ মেলে চলতি গ্রীষ্মকালে ঘটে যাওয়া একাধিক ঘটনায়, যেখানে এআই এজেন্টরা—অর্থাৎ স্বাধীনভাবে কাজ করার অনুমতিপ্রাপ্ত এআই সিস্টেম—সাইবার-হামলা চালিয়েছে।

ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক এবং মেটা সকলেই তাদের এআই টুলের মাধ্যমে সংঘটিত হ্যাকিংয়ের ঘটনা প্রকাশ করেছে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হোয়াটসঅ্যাপ-টেলিগ্রামে নতুন নিয়ম, সমস্যায় পড়তে পারেন যেসব ব্যবহারকারী
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, মেসেজিং অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল সিম বা ই-সিম ফোনে সক্রিয় রাখা বাধ্যতামূলক হতে পারে। এতে নিবন্ধিত সিম ছাড়া এসব অ্যাপ ব্যবহারকারীরা সমস্যায় পড়তে পারেন।
হোয়াটসঅ্যাপ-টেলিগ্রামে নতুন নিয়ম, সমস্যায় পড়তে পারেন যেসব ব্যবহারকারী
আয়কর রিটার্নের যেসব ভুল সংশোধনের সুযোগ পাবেন, মানতে হবে যেসব শর্ত
আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পর আয়ের হিসাব, কর অব্যাহতি বা কর ক্রেডিটের তথ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভুল ধরা পড়লে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে এ জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ও শর্ত মানতে হবে। মূল রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হলে সংশোধনের সুযোগ থাকবে না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে করদাতারা নিজেদের দাখিল করা আয়কর রিটার্ন সংশোধন করতে পারবেন। তাই রিটার্ন জমা দেওয়ার পর কোনো ভুল চোখে পড়লে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। আয়কর রিটার্নে মূলত তিন ধরনের ভুল সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। এগুলো হলো— ১. প্রদর্শিত আয়ের ভুল: রিটার্নে আয়ের পরিমাণ উল্লেখ করতে গিয়ে ভুল হলে তা সংশোধনের আবেদন করা যাবে। ২. কর অব্যাহতি বা কর ক্রেডিটের ভুল: কর অব্যাহতি কিংবা কর ক্রেডিট দাবি করার ক্ষেত্রে ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। ৩. অন্যান্য যৌক্তিক ভুল: উপরোক্ত বিষয়গুলোর বাইরে গ্রহণযোগ্য কোনো কারণে রিটার্নে ভুল হলে সেটিও সংশোধনের আওতায় আসতে পারে। রিটার্ন সংশোধনের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী- মূল রিটার্ন জমা দেওয়ার তারিখ থেকে ১৮০ দিন পার হয়ে গেলে সংশোধনের সুযোগ থাকবে না। একই করবর্ষের রিটার্ন একবার সংশোধন করার পর দ্বিতীয়বার সংশোধন করা যাবে না। মূল রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হলে তা আর সংশোধন করা যাবে না। ফলে রিটার্ন জমা দেওয়ার পর ভুল শনাক্ত হলে দেরি না করে সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন। অনলাইনে যেভাবে সংশোধিত রিটার্ন জমা দেবেন করদাতাদের সুবিধার্থে অনলাইনে সংশোধিত আয়কর রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা রয়েছে। এ জন্য এনবিআরের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সংশ্লিষ্ট রিটার্ন সংশোধনের অপশন ব্যবহার করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন করে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করতে হবে। সংশোধনের ফলে করের পরিমাণ বেড়ে গেলে নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে। এ ছাড়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জরিমানাও দিতে হতে পারে। টিআইএনধারীর তুলনায় রিটার্ন জমা কম প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার করদাতা আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে, দেশে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টিআইএনধারীর তুলনায় রিটার্ন জমা দেওয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। একই সঙ্গে রিটার্নে সঠিক তথ্য দেওয়া এবং ভুল হলে আইন অনুযায়ী তা সংশোধন করা করদাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সতর্কতা: রিটার্ন সংশোধনের সময়সীমা ও যোগ্যতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট করবর্ষের প্রযোজ্য আইন এবং এনবিআরের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করে নেওয়া উচিত। আরটিভি/এসকে
আয়কর রিটার্নের যেসব ভুল সংশোধনের সুযোগ পাবেন, মানতে হবে যেসব শর্ত
২০ বছর ধরে জমানো ৫৩টি আইফোন নিয়ে অ্যাপল স্টোরে এক ভক্ত
প্রথম প্রজন্মের আইফোন থেকে সর্বশেষ মডেল দুই দশকের সংগ্রহ নিয়ে অ্যাপল স্টোরে হাজির দুবাইপ্রবাসী মোহাম্মদ শাকা। নতুন ফোল্ডেবল আইফোন কিনতে গিয়ে নজর কাড়েন সবার।
২০ বছর ধরে জমানো ৫৩টি আইফোন নিয়ে অ্যাপল স্টোরে এক ভক্ত
ঘরে বসেই টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন যেভাবে, জেনে নিন নিয়ম
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ভিসার আবেদন কিংবা বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রয়োজনে অনেকেই ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) বা টিন সার্টিফিকেট করেছেন। তবে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন না থাকলেও টিআইএন সক্রিয় থাকায় আয়কর রিটার্ন দাখিলসহ বিভিন্ন বিষয়ে জটিলতায় পড়তে পারেন করদাতারা। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে টিআইএন বাতিলের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয়।  টিআইএন হলো করদাতার পরিচিতি শনাক্ত করার জন্য নির্ধারিত একটি অনন্য নম্বর। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আয়কর-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। তবে টিআইএন থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে। তাই শুধু টিআইএন ব্যবহার না করার কারণে সেটি বাতিল করা যাবে এমনটি নয়। বাতিলের জন্য নির্দিষ্ট কারণ ও শর্ত পূরণ করতে হয়। যেসব কারণে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যায় ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে: কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে। একাধিক টিআইএন তৈরি হলে: একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে ভুলবশত একাধিক টিআইএন তৈরি হলে প্রয়োজনীয় একটি রেখে অন্যটি বাতিলের আবেদন করা যায়। টিআইএন রাখার প্রয়োজন না থাকলে: নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য টিআইএন নেওয়ার পর সেটির আর প্রয়োজন না থাকলে প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করে বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে। আয় করযোগ্য সীমার নিচে নেমে গেলে: কোনো ব্যক্তির আয় কমে গেলে এবং আইন অনুযায়ী টিআইএন রাখার প্রয়োজন না থাকলে, পরিস্থিতি বিবেচনায় বাতিলের আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক: দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান এবং বাংলাদেশে করযোগ্য আয় না থাকার মতো পরিস্থিতিতে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধান ও অন্যান্য শর্ত যাচাই করা জরুরি। করদাতার মৃত্যু হলে: কোনো করদাতা মারা গেলে তার টিআইএন বাতিলের প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করতে হয়। মৃত ব্যক্তির নামে ব্যবসা বা অন্য কোনো কার্যক্রম চালু থাকলে আলাদা বিষয় বিবেচনা করতে হবে। যেভাবে টিআইএন বাতিলের আবেদন করবেন টিআইএন বাতিলের আবেদন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে করতে হয়। অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে কি না এবং কোন পদ্ধতিতে আবেদন করতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর অফিস থেকে নিশ্চিত হওয়া উচিত। আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণত নিচের বিষয়গুলো প্রস্তুত রাখতে হয়-  ১. নিজের টিআইএন নম্বর ও ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য। ২. জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি। ৩. টিআইএন বাতিলের যৌক্তিক কারণ উল্লেখ করে আবেদনপত্র। ৪. ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে থাকলে তার প্রমাণপত্র, যদি প্রযোজ্য হয়। ৫. সংশ্লিষ্ট কর অফিস চাইলে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি। অনলাইনে আবেদন করতে হলে প্রথমে এনবিআরের সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ই-সেবা ও নির্দেশনা যাচাই করতে হবে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করার নির্দিষ্ট ব্যবস্থা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদন পর্যালোচনার সময় অতিরিক্ত কাগজপত্রও চাওয়া হতে পারে। এ ছাড়া অনলাইনে আবেদন করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল বা কর অফিসে যোগাযোগ করে আবেদন জমা দেওয়ার পদ্ধতি জেনে নেওয়া যেতে পারে। আবেদন জমা দিলেই টিআইএন বাতিল হয়ে যায় না, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন। টিআইএন বাতিলের পর কী হবে? টিআইএন বাতিলের আবেদন অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বাতিলের আগে আগের কোনো আয়কর রিটার্ন, বকেয়া কর বা অন্যান্য আইনগত দায় থাকলে সেগুলো নিষ্পত্তির প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে শুধু রিটার্ন দাখিলের ঝামেলা এড়াতে তাড়াহুড়ো করে টিআইএন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। নিজের বর্তমান আয়, সম্পদ, ব্যবসা এবং ভবিষ্যতে টিআইএন প্রয়োজন হতে পারে কি না, তা বিবেচনা করা জরুরি। টিআইএন বাতিলের নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হতে এনবিআরের সরকারি ওয়েবসাইট nbr.gov.bd অথবা সংশ্লিষ্ট কর অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। প্রয়োজনে কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াও ভালো। আরটিভি/এসকে
ঘরে বসেই টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন যেভাবে, জেনে নিন নিয়ম
মাইগভের ওয়েবসাইট বন্ধ, আটকে আছে ৪৪০ সরকারি সেবা
সরকারি সেবার একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মাইগভের ওয়েবসাইট বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। প্রায় ৪৪০টি সরকারি সেবা পাওয়া যায় এ প্ল্যাটফর্মে।
মাইগভের ওয়েবসাইট বন্ধ, আটকে আছে ৪৪০ সরকারি সেবা
আরও পড়ুন
আমাজন থেকে উধাও ২৪ কোটি একরের বনাঞ্চল
এআই দিয়ে লেখা বইয়ের জন্য নতুন সাহিত্য পুরস্কার চালু
নির্বাচনে ভোট টানতে নেতানিয়াহুর নতুন অস্ত্র এআই, চলছে ভুয়া ভিডিও প্রচার 
এআই নিয়ে সর্তক করলেন বিল গেটস, আসছে বড় বিপর্যয়!