ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

এআই মানবজাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে—দাবি গবেষকের

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ এএম
প্রতীকী ছবি

এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যে সব সংস্থা তাদের মধ্যে অ্যানথ্রোপিক অন্যতম। সংস্থাটির একজন নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ গবেষক সতর্ক করেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এত দ্রুত উন্নত হচ্ছে যে তিনি বিশ্বাস করেন আগামী দশ বছরের মধ্যে এটি ‘সমস্ত মানুষকে হত্যা করতে পারে’ এমন আশঙ্কা ১০ শতাংশেরও বেশি।

ইভান হাবিঙ্গার এক্স-হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে বলেছেন, বর্তমানে বিদ্যমান মডেলগুলোর কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি ‘কম’; তবে তিনি এ বিষয়ে ‘উদ্বিগ্ন’ যে, এই প্রযুক্তি হয়তো শিগগিরই এমন পর্যায়ে বিকশিত ও উন্নত হয়ে উঠতে পারে, যা মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

তবে ভবিষ্যতে এআই কীভাবে মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে বলে তিনি মনে করেন, সেটা তিনি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেননি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে একের পর এক যেসব মন্তব্য আসছে, তার মন্তব্য সেই ধারাবাহিকে সর্বশেষ সংযোজন।

বিতর্কটা এখন এটা নিয়ে নয় যে এআইয়ের থেকে সত্যিই কোনো ঝুঁকি আছে কি না, বরং ঝুঁকিটা কত বড়, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।

হাবিঙ্গারের এই মন্তব্যটি ছিল অ্যানথ্রোপিকের সাবেক একজন গবেষক জেকব কক্সনের একটি পোস্টের জবাবে। কক্সন এর আগে ওপেন এআই-তে কাজ করতেন।

তিনি লিখেছিলেন, কোনো কোম্পানিই দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। এগুলো শিগগিরই এমন অতিমানবীয় সিস্টেমে পরিণত হবে যা যেকোনো কিছু হ্যাক করতে, রাতারাতি যেকোনো ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে এবং প্রকৃত ক্ষমতা ও সম্পদ অর্জন করতে পারবে।

মন্তব্যের জন্য ওপেনএআই-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

ডেম ওয়েন্ডি একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী যিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে জাতিসংঘকে পরামর্শ দেন। তিনি বিবিসিকে বলেছেন যে তিনি সামাজিক মাধ্যমে হাবিঙ্গার এবং কক্সনের পোস্ট দেখে ‘হতবাক’ হয়েছেন।

তিনি বলেন, এর কিছু অংশ ‘জনসংযোগ এবং বিপণন’-এর জন্যও হতে পারে, কারণ অ্যানথ্রোপিক এবং ওপেনএআই শেয়ার বাজারে তাদের বহু প্রতীক্ষিত আত্মপ্রকাশের জন্য দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল।

কিন্তু তিনি আরও বলেন, কেউ এমন কথা বলতে চাইবে কেন? আমি বিনিয়োগকারীদের কাছে অনুরোধ করব, যদি এটাই তাদের মূল্যবোধ হয়, তবে তারা যেন এই কোম্পানিতে বিনিয়োগ না করেন।

এই পদত্যাগের ফলে ব্রিটিশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন চিফ সেক্রেটারি এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের চিফ সেক্রেটারি ড্যারেন জোন্স প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামকে একটি খোলা চিঠি লেখেন, যেখানে তিনি নিরাপদভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশের জন্য একটি নতুন বহুজাতিক চুক্তির আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সুপার ইন্টেলিজেন্সের উন্নতির উপর ভিত্তি করে একটি চুক্তি কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে সরকারগুলোকে একত্রিত হয়ে ‘সহযোগিতার’ হাত বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারগুলো যদি এই সতর্কবার্তাগুলোকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে না নেয় এবং এর মোকাবিলায় এগিয়ে না আসে, তবে উন্নয়নের গতি এমন হতে পারে যে, এটি আমাদের জন্য কোনো সমস্যা কি না, তা খতিয়ে দেখার আগেই আমরা সমস্যায় পড়ে যাব।

অন্যদিকে, ফিনান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে যে, অ্যানথ্রোপিক যুক্তরাজ্যের এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউট (এআইএসআই)-এর কাছে তাদের সর্বশেষ মডেলটি প্রকাশ করেনি। এআই-এর ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এই সংস্থাটির কাছে অ্যানথ্রোপিক তাদের তথ্য গোপন রেখেছে।

তবে অ্যানথ্রোপিক তাদের কর্মীদের পোস্ট বা এআইএসআই-এর পরিস্থিতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

মডেলটি এআইএসআই থেকে গোপন রাখা হয়েছিল কি না সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে ক্যাবিনেট অফিসের একজন মুখপাত্র বলেছেন যে, তারা ‘মডেলগুলিকে আরও নিরাপদ করার জন্য অ্যানথ্রোপিক-সহ শিল্প অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে।

সেই পোস্ট, যা ১০ মিলিয়নেরও বেশি বার দেখা হয়েছে, সেখানে হাবিঙ্গার বলেছেন, ‘আমরা সত্যিই আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি’ যে এআই মানুষের প্রজাতি-বিলুপ্তির ঝুঁকি তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেছেন, আমি বিশ্বাস করি অ্যানথ্রোপিক সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে, কিন্তু সুপারইন্টেলিজেন্সের জন্য অ্যালাইনমেন্টের সমাধান করার কোনো পরিকল্পনা আমাদের কাছে এখনো নেই এবং আমরা সেই পথে এগোচ্ছিও না।

হাবিঙ্গার এআই অ্যালাইনমেন্ট নিয়ে কাজ করেন, যার লক্ষ্য হলো এই প্রযুক্তির মধ্যে মানুষের নৈতিক ধারণা ও নীতিগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা। এর লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিকে মানুষের মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ রাখা।

অনেক শীর্ষস্থানীয় গবেষক বলছেন যে এই প্রচেষ্টাগুলো ব্যর্থ হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে, যার প্রমাণ মেলে চলতি গ্রীষ্মকালে ঘটে যাওয়া একাধিক ঘটনায়, যেখানে এআই এজেন্টরা—অর্থাৎ স্বাধীনভাবে কাজ করার অনুমতিপ্রাপ্ত এআই সিস্টেম—সাইবার-হামলা চালিয়েছে।

ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক এবং মেটা সকলেই তাদের এআই টুলের মাধ্যমে সংঘটিত হ্যাকিংয়ের ঘটনা প্রকাশ করেছে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট পেতে যেসব ডকুমেন্ট লাগে
বাংলাদেশে আয়কর-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে টিআইএন বা টিন নম্বর গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট পেতে যেসব ডকুমেন্ট লাগে
হ্যাকারদের নিশানায় আইফোন, সতর্কবার্তা অ্যাপলের
আইফোন ও আইপ্যাড ব্যবহারকারীদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছে অ্যাপল। পুরোনো সংস্করণের সফটওয়্যারে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ায় দ্রুত ডিভাইস হালনাগাদ করার পরামর্শ দিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।
হ্যাকারদের নিশানায় আইফোন, সতর্কবার্তা অ্যাপলের
২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর কি সত্যিই ধ্বংস হবে পৃথিবী?
২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে এমন একটি ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ১৯৬০ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন অস্ট্রিয়ায় জন্ম নেওয়া মার্কিন অধ্যাপক ও সাইবারনেটিকস বিশেষজ্ঞ হাইঞ্জ ফন ফোরস্টার এবং তার দুই শিক্ষার্থী প্যাট্রিসিয়া এম মোরা ও লরেন্স ডব্লিউ আমিট।
২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর কি সত্যিই ধ্বংস হবে পৃথিবী?
চোখের সামনে যা দেখছি, সেটাই কি সত্য
চোখের সামনে একজন পরিচিত মানুষকে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। কণ্ঠও তারই মতো। মুখের অভিব্যক্তি স্বাভাবিক, ঠোঁটের নড়াচড়াও কথার সঙ্গে মিলছে।
চোখের সামনে যা দেখছি, সেটাই কি সত্য
সৌভাগ্যবান ১৭ জনের জন্য বাজারে এলো আইফোন, দাম কত?
প্রযুক্তি আর বিলাসিতার মেলবন্ধনে নতুন চমক দেখাল বিলাসবহুল পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্যাভিয়ার। অ্যাপলের ভাঁজযোগ্য আইফোনের বিশেষ সংস্করণ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি, যার সর্বোচ্চ দাম ২১ হাজার ৩৪০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২৬ লাখ টাকা।
সৌভাগ্যবান ১৭ জনের জন্য বাজারে এলো আইফোন, দাম কত?
আরও পড়ুন
২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর কি সত্যিই ধ্বংস হবে পৃথিবী?
চোখের সামনে যা দেখছি, সেটাই কি সত্য
‘এআই সম্রাট’ নিয়োগ দিলেন ট্রাম্প
এআইয়ের যুগে সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি: চাকরি যাচ্ছে, নাকি বদলে যাচ্ছে কাজের ধরন?