ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশের নড়বড়ে ক্রিকেটে যুক্তরাষ্ট্রের ধাক্কা

ডয়েচে ভেলে

প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৪, ০৩:২৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

হারমিত সিং যখন মাহমুদউল্লাহর বল সীমানা ছাড়া করে উল্লাসে ফেটে পড়লেন টেক্সাসের প্রেইরি ভিউ ক্রিকেট কমপ্লেক্সে তখন খুব বেশি দর্শক নেই। সাড়ে আট হাজার মাইল দূরে যুক্তরাষ্ট্রের এই জয় বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে বড় এক ধাক্কা৷ নাজমুল হোসেন শান্তদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্নটা আরও বড় করে দিলো এই হার৷

হিউস্টনে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মঙ্গলবার রাতে ৫ উইকেটের হারটা আসলে বাংলাদেশের জন্য অশনি সংকেতই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতিতেও তা বড়সড় একটা হোঁচট। বিশ্বকাপ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচটা হতে পারতো বাংলাদেশ দলের জন্য, বিশেষ করে রানখরায় ভুগতে থাকা ব্যাটারদের জন্য আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার উপলক্ষ। কিন্তু কোনো ব্যাটার বা বোলারই নিজের কাজটা ঠিকঠাক করতে পারলেন না। ৩ বল বাকি থাকতেই তাই যুক্তরাষ্ট্র পেয়ে গেল এক ঐতিহাসিক জয়।

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ইতিহাস বিবেচনা করলে এই হারটা যে অনেক বড় বিস্ময়, সেটাও বলা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ দল এর আগে ২০ ওভারের ফর্ম্যাটে আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, স্কটল্যান্ড, এমনকি হংকংয়ের কাছেও হেরেছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মনে রাখার মতো তেমন কিছুই করতে পারেনি বাংলাদেশ, সর্বশেষ আসরেও শুধু জিম্বাবুয়ে আর নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েছিল বিস্তর কাঠখড় পুড়িয়ে।

তবে র‌্যাংকিংয়ের ১৯ নম্বরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের এই দলের কাছে এমন আত্মসমর্পণ বলে দেয় এবারের বিশ্বকাপে হয়তো আগের বারের চেয়েও খারাপ কোনো অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে। অথচ এই যুক্তরাষ্ট্র দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটারই অভিবাসী, এক কোরি অ্যান্ডারসন ছাড়া বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতাও খুব বেশি ক্রিকেটারের নেই। এমনকি হিউস্টনের মাঠের কন্ডিশনও বাংলাদেশের খুব অচেনা ছিল না। মন্থর আউটফিল্ড, উইকেটে বল ধরে আসছে- এমন পিচে খেলতে কম-বেশি অভ্যস্তই বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। কিন্তু মাঠে সেই অভ্যস্ততার কোনো চিহ্নও খুঁজে পাওয়া গেল না। বাংলাদেশ দলের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা এখন অবশ্যই ব্যাটিং।

দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ে সিরিজে রানের দেখা পাননি লিটন দাস আর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। যুক্তরাষ্ট্রের অনভিজ্ঞ বোলিংয়ের বিপক্ষেও তাদের খুঁজে পাওয়া গেল না। ওপেনার লিটন দাস দুইবার জীবন পেয়েও ১৫ বলে ১৪ রানের দৃষ্টিকটু এক ইনিংস খেলেছেন। আর নাজমুল নিজে আউট হয়েছেন ১১ বলে ৩ রান করে। বলে বলে রান নিতেই জেরবার বাংলাদেশের টপ অর্ডার, আর টি-টোয়েন্টির মারকাটারি ব্যাটিং তো বাংলাদেশ দলের জন্য অনেক দূরের গল্প।

কালকের ম্যাচের পর অধিনায়ক নাজমুলের স্ট্রাইক রেট ১০৯-এর কাছাকাছি। এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সব অধিনায়কের মধ্যে একমাত্র উগান্ডার অধিনায়ক ব্রায়ান মাসাবার স্ট্রাইক রেটই তার চেয়ে কম। আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক পল স্টার্লিং বা যুক্তরাষ্ট্রের মোনাংক প্যাটেলের স্ট্রাইক রেটও ১৩০-এর ওপর। জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পরীক্ষায় ব্যর্থ নাজমুলের সামনে তাই নিজের ফর্ম খুঁজে পাওয়ার পাশাপাশি দলকে উদ্দীপ্ত করার ডাবল চ্যালেঞ্জ। পরের চ্যালেঞ্জের সময়ও এখন নাজমুলের পায়ের নিচের মাটি বেশ নড়বড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচের পর যদিও বলেছেন, ব্যাটারদের তাড়নার অভাব ছিল না, মূল সমস্যা ছিল মানসিকতার।

কিন্তু বিশ্বকাপের আগে এমন চাপহীন ম্যাচে কেন মানসিকতার সমস্যা থাকবে, তার উত্তরও নাজমুলদের খুঁজে বের করা জরুরি। ব্যাটিং মূল সমস্যা হলেও বোলিং আর ফিল্ডিং নিয়েও উঠবে প্রশ্ন। কাল সাকিব আল হাসানের ওভার বাকি থাকলেও শেষ ওভারে মাহমুদউল্লাহকে আনলেন নাজমুল, স্পষ্টতই ক্রিজে দুজন বাঁ-হাতি থাকায় একজন বাঁ-হাতি বোলারকে তিনি আনেননি। কিন্তু এই যুগে এমন মান্ধাতা আমলের টি-টোয়েন্টি কৌশল বাংলাদেশ ছাড়া আর কয়টা দেশের আছে, সেটাও প্রশ্ন। দলের মূল বোলারদের একজনকে বাদ দিয়ে কেন একজন পার্ট টাইমারকে শেষ ওভার দেওয়া হলো সেই প্রশ্নও আসবে। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের শরীরী ভাষাতেই যে আত্মসমর্পণের সুর ছিল, সেটা চোখ এড়ায়নি ইএসপিএনক্রিকইনফোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি মোহাম্মদ ইসামের, এই ম্যাচে দুই দলের মধ্যে বিশাল একটা ব্যবধান ছিল। খুবই হতাশ বাংলাদেশ দলের শরীরী ভাষা, পরিকল্পনা ও কৌশলে। ছোটখাটো ব্যাপারসহ অনেক কিছু দেখেই মনে হয়েছে তাদের মাঠেই থাকার ইচ্ছা ছিল না।

যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু প্রথম থেকেই ম্যাচে প্রাধান্য বিস্তার করেছে। ফলটাও তাই একদমই বিস্ময়কর মনে হয়নি। তিনি বরং প্রশ্ন তুললেন বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিবেদনের অভাব নিয়ে, বাংলাদেশ দলকে দেখে মনে হয়নি তারা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলছে। ২০০৩ বিশ্বকাপের আগে ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাদেশিক দল কোয়াজুলু নাটালের কাছে হেরেছিল। কিন্তু আপনি যখন একটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবেন, সেটা যার সাথেই হোক, সেই মর্যাদা দিয়ে খেলতে হবে।

আমার মনে হয়, এই দলে দেশের হয়ে খেলাটা যে গর্বের ব্যাপার, সেই বোধের অভাব আছে। ক্রিকেট কোচ ও ক্রিকেট বিশ্লেষক নাজমুল আবেদীন ফাহিম এই দলের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাবই দেখছেন সবার আগে, টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে আত্মবিশ্বাস। এখানে পিছনে ফিরে তাকানোর কোনো সুযোগ নেই। জিম্বাবুয়ের সাথে আমাদের সর্বশেষ সিরিজ দেখুন, সেখানেও আমরা খুব সাহসী ছিলাম না। জিম্বাবুয়ের সাথে আমরা টসে জিতেও ব্যাটিং করলাম না। আমাদের সেই সাহস নেই আগে ব্যাটিং করে বড় স্কোর করবো। এভাবে হয়তো সিরিজটা জিতেছি, কিন্তু যে আত্মবিশ্বাস আমরা নিয়ে গেছি সেটাকে আমি বলবো ফেক কনফিডেন্স।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সামর্থ্যের তুলনা করলে ওদের চেয়ে আমরা দ্বিগুণ এগিয়ে। কিন্তু পিছিয়ে গেছি আত্মবিশ্বাসে এবং বিশ্বকাপের আগে এটা ফিরে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। সত্যি বলতে এখন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কেউ বড় কথা নয়, আমরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিপক্ষ। কিন্তু নির্মম বাস্তবতা হচ্ছে, এই আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগতে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়েই বাংলাদেশ দলকে পরিকল্পনা সাজাতে হবে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু একরকম অসহায়ত্ব নিয়েই বলেছিলেন, বাংলাদেশের বাস্তবতায় দল ঘোষণার জন্য খুব বেশি অপশন তাদের হাতে থাকে না। ২০-২৫ জনের মধ্যে থেকেই তাদের বাছাই করতে হয়। তাই কালকের একাদশের বাইরে থাকা বা এই স্কোয়াডের বাইরে থাকা কেউ যে কাল বড় কিছু করে ফেলতেন, সেটাও জোর গলায় বলার উপায় নেই। কিন্তু ক্রিকেট দুনিয়ায় এত সময় পার করার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে এই ১১ জনও কেন জিততে পারবেন না, এই বাস্তবতাও বোঝা জরুরি।

বিশ্বকাপের যখন মাত্র কয়েক দিন বাকি, এমন সময়ে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম বুলবুল সমস্যা দেখছেন মানসিকতায়, এখন আমাদের কাজ করতে হবে মানসিকতা আর ট্যাকটিকস নিয়ে। এখন আমাদের শান্ত বা লিটনের ব্যাটিং গ্রিপ নিয়ে কাজ করার সুযোগ নেই। আমার কাছে মনে হচ্ছে দলের মানসিকতার জায়গাটা বেশ দুর্বল। যে ছেলেটা অংকে শূন্য পায়, সেও কিন্তু পরীক্ষায় পাশ করার পড়ে। এখন আমরা সেই পরীক্ষার মধ্যে ঢুকে গেছি। আমাদের কাজ হবে এখন দলের মানসিকতা ঠিক করার জন্য ওদের পাশে থাকা।

আর টিম ম্যানেজমেন্টকে ভাবতে হবে যে ভেন্যুগুলোতে খেলা হবে সেখানকার উইকেট, কন্ডিশন, প্রতিপক্ষ বিবেচনা করে কৌশল সাজানো। তবে সব মিলে এই অবস্থায় বাংলাদেশ দলের সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে, সেটাই মনে করেন ইএসপিএনক্রিকইনফোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি মোহাম্মদ ইসাম, এই সিরিজ হয়তো বাংলাদেশ দল জিতে যেতে পারে। কিন্তু এই ম্যাচের ধকল থেকে বের হওয়া কঠিন হবে। বাংলাদেশ দল শ্রীলংকা আর দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচ খেলবে, তার আগে এই ধাক্কা ভুলতে কষ্ট হবে।

এর আগে হংকং, আয়ারল্যান্ডের মতো দলের কাছে হারের পর সেটা কাটিয়ে উঠতেও বাংলাদেশের সময় লেগেছিল।

ইতিহাস বলে, বাংলাদেশ দল ছোট দলের কাছে হারের পর সেটা চট করে কাটিয়ে উঠতে পারে না। বিশ্বকাপ শুরুর আগে তাই বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করছে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্গম গিরি আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুস্তর পারাবার পাড়ির চ্যালেঞ্জ।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিপিএল ২০২৫ / নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ব্যাক টু ব্যাক জয় রংপুরের
ঢাকা ক্যাপিটালসকে হারিয়ে বিপিএলের ১১তম আসরে শুভসূচনা করেছে গ্লোবাল সুপার লিগের চ্যাম্পিয়ন দল রংপুর রাইডার্স। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও। সিলেটকে ৩৪ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে ব্যাক টু ব্যাক জয় পেয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের দলটি। চার উইকেট তুলে নিয়ে এই জয়ের অন্যতম নায়ক নাহিদ রানা। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) আগে ব্যাট করে সিলেটকে ১৫৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল রংপুর। জবাব দিতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২১ রান তুলতে পারে সিলেট। এতে ৩৪ রানের জয় পায় রংপুর রাইডার্স। চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি সিলেট। ৩ বলে ২ রান করে দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরে ফেরেন জর্জি মানজি। তিনে ব্যাট করতে নেমে ইনিংস বড় করতে পারেননি জাকির হাসানও। ১২ বলে ১৮ রান করে বোল্ড আউট হন এই বাঁহাতি ওপেনার। এদিন ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে পারেননি পল স্ট্রালিংও। ৫ বলে ৬ রান করে এই আইরিশ ব্যাটার আউট হলে ৪৩ রানে ৩ উইকেট হারায় সিলেট। তবে জাকের আলীকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন ওপেনার রনি তালুকদার। দুজনের ব্যাটে জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকে সিলেট।  কিন্তু ১৫তম ওভারে রনি তালুকদারকে বোল্ড করেন খুশদিল শাহ। এর আগে ৩৬ বলে ৪১ রান করেন রনি। পরের বলে আরিফুল হককে ডাক আউট করে রংপুরকে খেলায় ফেরান খুশদিল শাহ। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করতে থাকেন জাকের আলী। তবে ১৬তম ওভারে দ্বিতীয় বলে ২৪ রান করে এই উইকেটরক্ষক ব্যাটারকে ফিরিয়ে উল্লাস শুরু করে পেসার নাহিদ রান। এরপর তানজিম হাসান সাকিব (৩), নাহিদুজ্জামান (১) এবং শিনওয়ারি ৮ রান করে আউট হন। শেষ পর্যন্ত রিস টপলি ৫ রানে এবং আল আমিন ৩ রানে অপরাজিত থাকলেও নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২১ রান তুলতে পারে সিলেট। এতে ৩৪ রানের জয় পায় সোহান-মাহেদীরা। রংপুর রাইডার্সের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট শিকার করেন নাহিদরা। এ ছাড়াও খুশদিল শাহ ও সাইফউদ্দিন দুটি করে উইকেট নেন। আর এক উইকেট নেন কামরুল হাসান। এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি রংপুর। ৭ বলে ৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন ইংলিশ ওপেনার অ্যালেক্স হেলস। ৭ বলে ৪ রান করে তাকে সঙ্গে দেন সাইফ হাসান। এদিন ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে পারেননি আরেক ওপেনার স্টিভেন টেইলর। ১৫ বলে ১২ রান করেন তিনি। তবে ইফতেখার আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন খুশদিল শাহ। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। ১৬ বলে ২১ রান করে বাউন্ডারি লাইনে কাটা পড়েন এই পাক অলরাউন্ডার। ষষ্ঠ উইকেপ ইফতেখারকে সঙ্গ দেন নুরুল হাসান সোহান। দুজনের ব্যাটে ভর করে ১৬তম ওভারে ১০০ রানের কোটা পার করে রংপুর। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি লাইনে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরে সোহানকে সাজঘরে ফেরান আরিফুল ইসলাম। ২৪ বলে ৪১ রান করেন তিনি। এরপর পিচে এসে বলে বলে বাউন্ডারি মারতে থাকেন শেখ মাহেদী। শেষ দিকে মাহেদী ৮ বলে ১৬ রান করে আউট হলেও ইফতেখারের ২৪ বলের অপরাজিত ৪২ রানে ভর করে ১৫৫ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পেয়েছিল রংপুর। আরটিভি/এসআর/এআর  
নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ব্যাক টু ব্যাক জয় রংপুরের
পুলিশকে হারিয়ে জয়ে ফিরল কিংস
জয় দিয়ে বছরটা রাঙিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। বছরের শেষ ম্যাচে কষ্টার্জিত হলেও জয়ে ফিরল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। বসুন্ধরা কিংস ফেডারেশন কাপ শুরু করেছিল ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে জয় দিয়ে। মাঝখানে ফর্টিস এফসির কাছে হেরেছে। আজ কিংস অ্যারেনায় নিজেদের গ্রুপের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ পুলিশ এফসিকে ৩–২ গোলে হারিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। ঘরের মাঠে কিংস অ্যারেনায় জয়ে পেতে মরিয়া বসুন্ধরা ম্যাচের শুরুতেই গোলের দেখা পায়। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে তপু বর্মণের গোলে এগিয়ে গেলেও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি বসুন্ধরার উল্লাস। ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই পুলিশ সমতা ফেরে আল আমিনের গোলে। তবে পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের ১১তম মিনিটে ব্রাজিলিয়ান মিগুয়েল ফেরেইরার গোলে আবারও এগিয়ে যায় কিংস। ২৫ মিনিটে গোলরক্ষক রাকিবুল তুষার ও সাগর মিয়ার ভুমিকায় পুলিশ গোল হজম করা থেকে রক্ষা পায়। ৩৪ মিনিটে রাকিবকে আরেকবার হতাশ করেন গোলরক্ষক তুষার। প্রথমার্ধের খেলা ২–১ ব্যবধানে থেকে শেষ করে দুই দল। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ৫২ মিনিটে স্কোরলাইন ৩–১ করেন কিংসের আরেক ব্রাজিলিয়ান জোনাথন ফার্নান্দেজ। ৫৪ মিনিটে পুলিশের আল আমিন নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ব্যবধান ৩–২ করে খেলা জমিয়ে তুলেছিলেন। তবে পাল্টাপাল্টি আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে কিংসকে চোখ রাঙালেও শেষ পর্যন্ত দারুণ কিছু করতে পারেনি পুলিশ। এ ম্যাচে পুলিশ হারলেও চলতি মৌসুমে দারুণ ফর্মে থাকা দলটির স্ট্রাইকার আল আমিনের ২টি গোলই নজর কেড়েছে। অষ্টম মিনিটে ঈসা ফয়সালের ক্রস থেকে আল আমিনের প্রথম গোলটি ছিল সুযোগের সন্ধানে থাকার ফল। প্রিমিয়ার লিগে ৬ গোল করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা আল আমিনের দ্বিতীয় গোলটি ছিল অসাধারণ। সৈয়দ কাজেমের ডিফেন্সচেরা থ্রু ধরে কিংসের গোলকিপার মেহেদী হাসানকে কাটাতে গিয়ে বাঁ পাশে সরে গেলেও বেশ কঠিন অ্যাঙ্গেল থেকে বল জালে পাঠান আল আমিন।  কুমিল্লার ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে দিনের অন্য খেলায় জয় কুমারের জোড়া গোলে বড় জয় পেয়েছে ফর্টিস এফসি। ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে তারা হারিয়েছে ৩–০ গোলে।  আরটিভি/এমএম
পুলিশকে হারিয়ে জয়ে ফিরল কিংস
সোহান ও ইফতেখারের ব্যাটে ভর করে সিলেটকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দিলো রংপুর
নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে রংপুর রাইডার্স। এই ম্যাচে আগে ব্যাট করে সিলেটকে ১৫৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছে নুরুল হাসান সোহানের দল। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি রংপুর। ৭ বলে ৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন ইংলিশ ওপেনার অ্যালেক্স হেলস। ৭ বলে ৪ রান করে তাকে সঙ্গে দেন সাইফ হাসান। এদিন ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে পারেননি আরেক ওপেনার স্টিভেন টেইলর। ১৫ বলে ১২ রান করেন তিনি। তবে ইফতেখার আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন খুশদিল শাহ। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। ১৬ বলে ২১ রান করে বাউন্ডারি লাইনে কাটা পড়েন এই পাক অলরাউন্ডার। ষষ্ঠ উইকেপ ইফতেখারকে সঙ্গ দেন নুরুল হাসান সোহান। দুজনের ব্যাটে ভর করে ১৬তম ওভারে ১০০ রানের কোটা পার করে রংপুর। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি লাইনে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরে সোহানকে সাজঘরে ফেরান আরিফুল ইসলাম। ২৪ বলে ৪১ রান করেন তিনি। এরপর পিচে এসে বলে বলে বাউন্ডারি মারতে থাকেন শেখ মাহেদী। শেষ দিকে মাহেদী ৮ বলে ১৬ রান করে আউট হলেও ইফতেখারের ২৪ বলের অপরাজিত ৪২ রানে ভর করে ১৫৫ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পায় রংপুর। সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে দুই উইকেট শিকার করেন আল আমিন হোসেন ও তানজিম সাকিব। এ ছাড়াও সাইমুল্লাহ শিনওয়ারি ও রিস টপলি এক করে উইকেট নেন। আরটিভি/এসআর/এআর  
সোহান ও ইফতেখারের ব্যাটে ভর করে সিলেটকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দিলো রংপুর
বিপিএলে ধারাভাষ্য দিলেন বিসিবি সভাপতি
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ১১তম আসরে ধারাভাষ্যকার হিসেবে দেখা গিয়েছে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদকে। এই সময় ধারাভাষ্য কক্ষে বেশ কিছু সময় পার করেন তিনি।   মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) খুলনা টাইগার্স এবং চট্টগ্রাম কিংসের মধ্যকার ম্যাচের কিছু সময় ধারাভাষ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি ফারুক আহমেদ। এদিন ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ধারাভাষ্য কক্ষে প্রবেশ করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ফারুক। এরপর কিছুক্ষণ বাংলায় ধারাভাষ্য দেন তিনি। এসময় খুলনার ছুঁড়ে দেওয়া ২০৪ রানের টার্গেট তাড়া করছিল চট্টগ্রাম। ধারাভাষ্য কক্ষ থেকে বের হয়ে প্রেস বক্সে সাংবাদিকদের সাথে দেখা করেন ফারুক। সেখানে ধারাভাষ্য করার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ফারুককে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাকে বল-টু-বল ধারাভাষ্য করতে হয়নি। আমি একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছি।’ আরটিভি/এমএম
বিপিএলে ধারাভাষ্য দিলেন বিসিবি সভাপতি
থমাসের নো বল নিয়ে সন্দেহ, আবারও দেখতে চান কোচ তালহা
বিপিএলের তৃতীয় ম্যাচে চিটাগংকে ৩৭ রানে হারিয়েছে খুলনা টাইগার্স। এই ম্যাচের দ্বিতীয় প্রথম ইনিংসে বোলিংয়ে এসে ১ বলে ১৫ রান খরচ করে রেকর্ড গড়েছেন ওশানে থমাস। তবে তার একটি নো বলের সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন খুলনার কোচ তালহা জুবায়ের। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) খুলনার দেওয়া ২০৪ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই আউট হন নাইম শেখ। তবে নো বল হওয়ায় সে যাত্রায় বেঁচে গিয়েছেন। আর নো বলের ভিডিওটা টিভিতে না দেখানোই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তালহা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে খুলনার কোচ বলেন, প্রথম বলে দেখলাম উইকেট পড়েছে গেছে; তারপর দেখি যে নো বল। আমার ওই নো বল নিয়ে একটি সন্দেহ আছে। কারণ, আমি এটি রিপ্লেতে দেখতে পারিনি। এটা দেখানো উচিত ছিল। আমি এটি দেখতে চাইব। এক বলে ১৫ রান দেওয়া নিয়ে তিনি বলেন, এরকম আগে দেখিনি নো বল ওয়াইড আবার নো বল, ফ্রি হিট। আর হয়তো থমাসও শুরুটা ভালো করতে পারেনি। আর এমনিতেই ওর নো বল দেওয়ার প্রবনতা রয়েছে। জাতীয় দলের হয়েও প্রায় নো বল করতে দেখা যায়। নো বল দেওয়ার জন্য থমাসের ফিটনেসকে দায়ী করেছেন তালহা। তার ভাষ্য, আসলে ওর যে ফিটনেস সেটা পেস বোলার হিসেবে ঠিক নেই। আর নিজের ফিটনেস এবং রানিং নিয়ে হয়তো এর আগে কোনো কাজ করেনি। তাই নো বল দেওয়ার প্রবনতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। তবে ১ বলে ১৫ রান এটা নতুন। নাইম ইসলামের বিপক্ষে ওশান থমাস ইনিংসের প্রথম বলেই ক্যাচ লুফে নেন তিনি। আম্পায়ারের কলে সেটা ছিল নো বল। ফ্রি-হিটের পরের বলে ছিল ডট। সেটা ছিল লিগ্যাল ডেলিভারি। এরপরেই আসে ওশান থমাসের লিগ্যাল ডেলিভারির জন্য লম্বা সংগ্রাম। নো বলে ৬ রান হজম করেছেন। এরপর দুই ওয়াইড বল। পরের নো বলে হজম করেছেন ৪ রান। ততক্ষণে চলে এসেছে ১৪ রান। স্কোরবোর্ডে ১ বলের পাশে ১৫ রান। শেষ পর্যন্ত বৈধ বল ওশান থমাস করেছেন। সেটায় ছিল ডট। তারপর ফের একটা নো-বল। সেই বলেও ক্যাচ হয়েছিলেন নাইম। দ্বিতীয়বার জীবন পান ওই এক ওভারেই। ফ্রি-হিটের পর অবশ্য নিজেকে আর বাঁচাতে পারেননি অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। বোসিস্টোর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় তাকে। এর আগে এক বলে ১৩ রান নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন ভারতের ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল। চলতি বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমন কীর্তি গড়েছিলেন ভারতের এই ওপেনার। অবশ্য সেবার ৭ রান তিনি পেয়েছিলেন নো-বল থেকে আর ১টা ছিল ছক্কার মার। এর আগে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) এর ম্যাচে ১ বলে ১৪ রান তুলেছিলেন ওশান থমাস। আরটিভি/ এসআর  
থমাসের নো বল নিয়ে সন্দেহ, আবারও দেখতে চান কোচ তালহা
আরও পড়ুন
জুয়ার প্রচারণায় তোপের মুখে যা বললেন পিয়া জান্নাতুল
এসএসসি পাসে নিয়োগ দেবে বিসিবি
ইয়াসির ও বিজয়ের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে বড় পুঁজি রাজশাহীর
মুগ্ধ কর্নারসহ যেসব নতুনত্ব দেখা গেল মিরপুরে