
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ৮নং ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাইয়ূমকে লক্ষ্য করে গুলি ও হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। এ সময় প্রতিবাদকারীরা বিক্ষোভ মিছিল করে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন।
রোববার (২৬ মে) দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কলতাপাড়া বাজারে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে এ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচিতে প্রায় সহস্রাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে সদ্য সমাপ্ত গৌরীপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের পরদিন গত ২২ মে ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শহীদের নেতৃত্বে একদল স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান কাইয়ূমকে লক্ষ্য করে গুলি করে স্থানীয় দোকানপাটে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শহীদ সদ্য সমাপ্ত গৌরীপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যান সোমনাথ সাহার সমর্থক। অপরদিকে বর্তমান চেয়ারম্যান কাইয়ূম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেন খানের সমর্থক ছিলেন।
ইউপি চেয়ারম্যান মো. কাইয়ূম বলেন, বিগত ইউপি নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর থেকে সাবেক চেয়ারম্যান শহীদ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরসহ নানাভাবে হয়রানি করে আসছে। এই ঘটনার জের ধরে গত ২২ মে হত্যার উদ্দেশ্যে শহীদের নেতৃত্বে একদল স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী আমাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা আমার ওপর হামলার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে স্থানীয় দোকানপাটে হামলা করে ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ দিকে ইউপি চেয়ারম্যানকে লক্ষ্য করে গুলি ও হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় ২৫ মে স্থানীয় যুবলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- তমাল পাঠান (২৮) ও রিপন শেখ (২৫)। তারা সদ্য সমাপ্ত গৌরীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যান সোমনাথ সাহার সমর্থক বলে জানা গেছে।
খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন দন্দ্র রায় বলেন, ‘হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।’




