
গোপালগঞ্জ সদরে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের মালিকানাধীন সাভানা ইকোরিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কের সামনে স্থানীয়দের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
শনিবার (০১ জুন) সন্ধ্যার পরপর এ ঘটনায় স্থানীয় চার যুবক আহত হয়েছেন বলে দাবি সেখানকার বাসিন্দাদের। আহতদের নাম বিপ্লব বল, সঞ্জয় বল, সাগর বল ও রনি বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, গণমাধ্যমে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে সম্পত্তি দখল নিয়ে কথা বলায় পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করেছে।
তবে পুলিশ বলছে উল্টো কথা। তাদের দাবি, সাভানা ইকোরিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কের সামনে দোকানে স্থানীয় কিছু লোক ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। ওই এলাকায় জুয়া খেলছে এবং হইচই করছে। এতে ওই পার্কের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এমন খবর পেয়ে সন্ধ্যার পর গোপালগঞ্জের বৌলতলী ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা সেখানে যান এবং জুয়ার আড্ডা দেখতে পান। এ সময় জুয়ারিদের ধাওয়া করা হলে একজন পড়ে গিয়ে ব্যথা পান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিচুর রহমান বলেন, ওই এলাকায় পুলিশ লাঠিপেটা করেছে, এমন কোনো ঘটনা তাকে কেউ জানাননি।
পরে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয় গোপালগঞ্জের বৌলতলী পুলিশ ফাঁড়িতে। সেখানকার পুলিশ জানায়, সন্ধ্যার পরে সাভানা ইকোরিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কের কর্মচারীরা মুঠোফোনে তাদেরকে জানান যে পার্কের সামনে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়েছে। দারোয়ানকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে কয়েকজন পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়।
বৌলতলী পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, শুনছি এটা নাকি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। যেহেতু পুলিশে চাকরি করি, তাই রাষ্ট্রের সম্পত্তির কিছু হলে আমাদের ওপর চাপ আসবে, আমাদের চাকরি থাকবে না। তা ছাড়া ছোটখাটো বিষয় নিয়ে অনেকের পুরোনো রাগ জমা আছে। কিছু যুবক রিসোর্টের গেটম্যানকে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাউকে লাঠিপেটা করা হয়নি দাবি করে এরপর তিনি বলেন, দোকানের ভেতর কিছু লোককে জুয়া খেলতে দেখে তাদের ধাওয়া করা হয়েছে। কিন্তু কাউকে লাঠিপেটা করা হয়নি। কিছু সুযোগসন্ধানী লোক ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চেষ্টা করছে হয়তো।
এদিকে পুলিশের লাঠিপেটার শিকার বলে দাবি করা সঞ্জয় বল বলেন, গত দুই বছরে বেনজীর আহমেদ আমাদের গ্রামের অসহায় অনেক লোকের জমি দখল করে নিয়েছে। এ নিয়ে আমরা ভয়ে মুখ খুলতে পারিনি। দুদক অনুসন্ধানে বেনজীর ও তার পরিবারের অবৈধ সম্পদের তথ্য বেরিয়ে আসার পর দুই–তিন দিন ধরে আমরা গণমাধ্যমে কথা বলি। এ কারণে আজ সন্ধ্যার পর পুলিশ এসে আমাদের ওপর লাঠিপেটা শুরু করে। আমার মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেছে।




