ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

‘আসুন এই হত্যা ও বর্বরতার জোরালো প্রতিবাদ করি’

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৯:০৯ পিএম
ফাইল ছবি

রেলে নাশকতার বর্বর ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) এক যুক্ত বিবৃতি দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৯ ডিসেম্বর ভোরে আগুন নিয়ে যে ট্রেনটি তেজগাঁ স্টেশনে থামলো, তাতে ৩ বছরের শিশু ও একজন মাসহ ৪ জন মারা গেছে। অনেকে আহত হয়েছে। এর আগে হরতাল-অবরোধকারীরা রেলের ফিস-প্লেট খুলেছে, নাট-বল্টু ক্লিপ খুলেছে, লাইন কেটে ট্রেন ফেলে দিয়েছে। দোষ দিয়েছে চোরদের। তবে চোররা এমনটি করে বলে মনে হয় না। কারণ, তারা চুরি করলেও মনে হয় তাদেরও দয়ামায়া আছে, তারা কখনও এভাবে মানুষ হত্যার ষড়যন্ত্র করেনি বা উদ্যোগ নেয়নি। তাই মনে হয় চোরেরা এই বর্বরদের চাইতে ভালো লোক, কারণ তাদের মানবিকতা আছে। তাদের যে অপকর্মের কারণে অনেক মানুষ মারা যাবে, তারা তা করছে না।

করছে হরতাল-অবরোধকারীরা। ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু, এ পর্যন্ত আরও চারবার এমনটি অর্থাৎ ট্রেনে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এ পর্যন্ত তারা প্রায় ৪০০টি বাসে আগুন দিয়েছে। তারা শুধু সম্পদেরই হানি করছে তা নয়। তারা মানুষকে অবর্ণনীয় ব্যথা দিচ্ছে, মানুষ অতি নির্মম কষ্ট পেতে পেতে মারা যাচ্ছে। আগুন দেওয়া অত্যন্ত নির্মম ও অমানবিক। চিকিৎসা-বিজ্ঞানীদের মতে মানুষ সবচেয়ে বেশি ব্যথাজনিত কষ্ট পায় আগুনে পুড়লে। তারা বলেন ব্যথা ও কষ্টের এই তীব্রতাকে কোনো ভাষা দিয়ে বর্ণনা করা যায় না। যারা আগুন দিচ্ছে তাদেরকে যদি বাধ্য করা যায় তাদের যেকোনো একটা আঙুলকে সাধারণ আগুন, যেমন মোমবাতির আগুনে মাত্র আধা মিনিট ধরে রাখতে তাহলে তারা অতি সামান্য হলেও বুঝবে আগুনে পোড়া মানুষের যাতনাটুকু কতটা তীব্র, কতটা কষ্টের। তারা হয়তো বুঝবে আঙুলটা সামান্য একটু পুড়লে যদি এত ব্যথা, তাহলে সারা শরীর পুড়ে অঙ্গার হতে থাকা মানুষের অকল্পনীয় ব্যথা ও কষ্টটা কতটুকু। সারা শরীর পুড়তে থাকার সময় অসহায় এই মানুষটি কতটা চিৎকার করে।

জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারা এটা কোন রাজনীতি? বিদেশ থেকে করা একজনের ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। সেখানে লাশ চাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে শুধু রেলের আগুন থেকেই পাঁচজন মানুষ লাশ হয়েছে। এই মানুষগুলোর প্রত্যেকেরই একটা জীবন ছিল, সংসার ছিল, সেখানে বাবা-মা, আত্মীয়-বন্ধু, ভাইবোন, স্ত্রী, পুত্র-কন্যারা ছিল, জীবিকা অর্জনের কঠিন সংগ্রাম ছিল, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যে সাংসারিক বাজেট ঘাটতির দুশ্চিন্তা ছিল, সংসারের কারও কারও আচরণে হয়তো মনে মনে দুঃখবোধও ছিল- কিন্তু সবার ওপরে ছিল মমতা। যার কারণে শুধু একটি পরিবার নয়, বরং সমাজ টিকে থাকে, সভ্যতা বিকশিত হয়।

এর আগে গ্যাস কাটার দিয়ে রেল লাইন কেটে ট্রেন ফেলে দেওয়ার ঘটনার তদন্ত হয়েছে। কিছু দোষী ধরাও পড়েছে। তাদের কেউ কেউ স্বীকারোক্তিও দিয়েছে। আদালত বাকিদের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। পুলিশ এখন বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায়ই ককটেলসহ বিভিন্ন বিস্ফোরক ও আগুন লাগানোর সরঞ্জাম উদ্ধার করছে। ২০১৪-১৫ সালে আগুন সন্ত্রাসের মামলাগুলোর যথাসময়ে বিচার হওয়া প্রয়োজন ছিল। যারা গণবিরোধী ও মানবতাবিরোধী এসব বর্বরতা তখন ঘটিয়েছিল, তারা যদি শক্ত বিচার পেতো, তাদের যদি কঠিন শাস্তি দেওয়া যেতো, তাহলে আজ নিশ্চয়ই হরতাল-অবরোধকারীদের সন্ত্রাসীরা এতোটা বর্বর ও অমানবিক কাজ করার সাহস পেতো না। সেই সঙ্গে যারা ভিআইপি পরিকল্পনাকারী, তারা যেই হোক, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা দরকার। যদি গত ৬-৭ বছরে দ্রুত এগুলো করা যেত তাহলে এখনকার আগুনগুলো হয়তো ঠেকানো যেত।

আমাদের দেশের রাজনীতিতে আগে এই আগুন-সন্ত্রাস ছিল না। পাকিস্তান আমলের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় আমরা কোথাও কোথাও ছিটে-ফোঁটা তা দেখেছি। কিন্তু একাত্তরে তারা পাকিস্তানিদের নির্দেশে এই আগুন-সন্ত্রাস ব্যাপকভাবে শুরু করে। ১৯৭১-এ তারা যা করতো, আজ আবার তাই করছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বলছে এটি নাশকতা। নিশ্চয় নাশকতাই হবে। কারণ, দুর্ঘটনার আগুন এত দ্রুত ছড়ায় না। নিমেষের মধ্যে বগিগুলোতে আগুন ধরলো দাউদাউ করে। এটা গান পাউডার বা পেট্রোল ছাড়া সম্ভব নয়। একাত্তরের আগুন দেখার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, গান পাউডারের আগুন হচ্ছে দাউদাউ করে ফুঁসে ওঠা আগুন। টিভিতে ট্রেনের আগুনটি দেখে মনে হচ্ছে এটা গান পাউডার বা মুক্তিযুদ্ধের সময় দেখা আগুনে সলতে বা তার মতো কোনো উচ্চমাত্রার দাহ্য বস্তু কর্তৃক লাগানো আগুনই। এই যুদ্ধাস্ত্র কারা বা কোন দেশ সরবরাহ করছে? এর বিশদ তদন্ত দাবি করছি। তবে, তদন্তটি হতে হবে পূর্ণাঙ্গ, নিখুঁত, নিরপেক্ষ ও দ্রুত। তদন্ত করতে হবে ঘটনাকে চাপা দেওয়ার জন্য না, বরং ঘটনাটির আদ্যোপান্ত জানার জন্য। প্রতিরোধে কী কী করা যায় তাও দ্রুত ঠিক করে আশু ব্যবস্থা নিতে হবে। এ রকম দুর্বৃত্তপনা ও খুন- এগুলো শুধু মাস্তানি না, এগুলো মানবতবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা। বিএনপি-জামায়াত যা চালিয়ে ছিল সেই ২০১৪-১৫ সালে, এখন কি তারই পুনরাবৃত্তি চলছে? নাকি নতুন আরো সন্ত্রাসী যোগ হয়েছে?

ধৃত অপরাধীদেরকে শুধু ‘দুর্বৃত্ত’ বলে চালিয়ে দিলে চলবে না। তাদেরকে গণমাধ্যমে এনে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ করতেই হবে। তাদের বিষয়ে জনগণকে সত্যটা জানাতে হবে। মানুষ বোকা নয়। মানুষ বুঝবে।

এবারের চরম বর্বরতার ঘটনার মধ্যেও মমতার একটি উদাহরণ দেখিয়ে দিচ্ছে যে বর্বরতা কখনো জয়ী হতে পারে না। এখনও মানবতা অপরাজেয়। শরীরে আগুন জ্বলছে, এর মধ্যেও এক মা তার তিন বছরের শিশু সন্তানটিকে বুকে জড়িয়ে আঁকড়ে ধরে তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। তাঁরা বাঁচেননি, জড়িয়ে ধরা অবস্থাতেই দু’জনে পুড়ে কয়লা হয়ে গেছেন। সেই ছোট্ট বাচ্চাটা ও তার মায়ের বর্ণনাতীত কষ্ট, তাদের অসহায় আর্ত চিৎকার, চিৎকার করতে করতে বাচ্চাটা মায়ের বুকেই আশ্রয় খুঁজছিল, মা-ও নিজের পুড়ে যাওয়ার তীব্র কষ্টকে ভুলে বাচ্চাটিকে আগুন থেকে আড়াল করার জন্য তাকে সম্ভব হলে একেবারে বুকের ভেতরেই নিয়ে যেতে চাইছেন। এই চিত্রটি কল্পনা করতেও ভয় হয়। কী বর্বরতা, কী নির্মম, কী বীভৎস। ভাবতে গেলে মনের ভেতর এক অসহায় ক্রোধ জন্ম নেয়, বুক ভেঙ্গে যায়, চোখ ভিজে কান্না আসে।

সেই ট্রেনটিতে, সেই অগ্নিদগ্ধ বগিটিতে আপনি আছেন বলে একবার কল্পনা করুন। নিজেকে একবার স্থাপন করুন সেই অবস্থায় যেখানে আপনি চারপাশে ফুঁসে ওঠা আগুনের মধ্যে আপনার শিশুটিকে নিয়ে আগুন থেকে বাঁচতে চাইছেন। বাচ্চাটি চিৎকার করে কাঁদছে। সে আপনার কোলে ওঠে আপনাকে জড়িয়ে ধরেছে। আপনিও কাঁদছেন। আগুন আপনাকে ও বাচ্চাটিকে স্পর্শ করছে। এই অসহায় অবস্থায় আপনি চিৎকার করছেন, অভিশাপ দিচ্ছেন ....।

মনে মনে নিজেকে সেই অবস্থায় স্থাপন না করে আপনি এর ভয়াবহতা বুঝতে পারবেন না। আর কখনও কোথাও এই ভয়াবহ অবস্থার পুনরাবৃত্তি না ঘটুক তার জন্য আসুন প্রতিবাদ করি। এই প্রতিবাদটি হোক অনেক জোরালো। নিশ্চিতভাবে এটি হবে আপনার জীবনের অনেক ভালো কাজের মধ্যে অন্যতম একটি। আসুন, এই পৃথিবীকে যারা নরক বানাতে চায় তাদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিবাদ করি। একা তো সম্ভব হবে না। তাই অনেককে নিয়ে, অনেকের সঙ্গে মিশে এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বনশ্রীতে সমমনা পরিষদের কম্বল বিতরণ
রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় সমমনা পরিষদের পক্ষ থেকে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে সমমনা পরিষদের পক্ষ থেকে বনশ্রী সোসাইটি এলাকার সকল মসজিদের মুয়াজ্জিন এবং খাদেমদেরকে শীতের কম্বল উপহার দেওয়া হয়। বনশ্রীতে জনস্বার্থে নিয়োজিত সংগঠন ‘সমমনা পরিষদ’। স্বেচ্ছাসেবী এ সংগঠন বনশ্রী সোসাইটির উন্নয়নে এবং এখানকার জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দীর্ঘ সময় ধরে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। করোনা মহামারী জনিত লকডাউনের সময় নানা সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মধ্য দিয়ে ‘মানবিক সংগঠন’ হিসেবে ‘সমমনা পরিষদ’ নজর কাড়ে। সংগঠনটি বনশ্রী রামপুরা এলাকার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসহায় মানুষের পাশে ছুটে যায়। পাশাপাশি ধর্মীয় ও জনস্বার্থমূলক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহায়তায় এগিয়ে যায়। কম্বল বিতরণ কালে সমমনা পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। রোববার (৩১ ডিসেম্বর) ইংরেজী বর্ষবরণ উপলক্ষে বনশ্রী সোসাইটির সকল শ্রেণীর স্টাফদের মাঝে শীতের কম্বল বিতরণ করা হবে বলে সমমনা পরিষদের কর্মকর্তারা জানান।
বনশ্রীতে সমমনা পরিষদের কম্বল বিতরণ
ইসলামী আন্দোলনের কর্মসূচি / বায়তুল মোকাররমে র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটসহ আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে ওই এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বাতিল, বর্তমান সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং নতুন শিক্ষা কারিকুলাম পরিবর্তনের দাবিতে আজ (রোববার) রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি পেশ করবে দলটি। এ জন্য সকাল থেকেই বায়তুল মোকাররম এলাকায় ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল জোনের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার গোলাম রুহানি বলেন, সহিংসতার কোনো আশঙ্কা নেই, তারপরেও নির্বাচন সামনে রেখে নিরাপত্তায় জোরদার করা হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা আসলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।  উল্লেখ্য, গত ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা চলবে। ভোটগ্রহণ ২০২৪ সালের সাত জানুয়ারি।
বায়তুল মোকাররমে র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন
বনশ্রীতে গৃহকর্মীর মৃত্যুর জেরে গাড়িতে আগুন-ভাঙচুর
রাজধানীর বনশ্রীতে আসমা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহকর্মীকে হত্যার অভিযোগে চারটি গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুর করেছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। রোববার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে রামপুরা বনশ্রী ‘ডি’ ব্লকের ৩২ নম্বর বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানান, ওই বাসার একটি কাজের মেয়ের মৃত্যুর সংবাদে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় এলাকাবাসী ও আশপাশে গৃহকর্মীরা বিক্ষোভ এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। পরে ওই বাড়ির নিচে থাকা চারটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন তারা। এই ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ওই বাড়ির গৃহকর্তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এদিকে বাড়ির মালিক দেলোয়ার হোসেন জানান, নিহত আসমা বেগম তার মেয়ের বাসার গৃহকর্মী। ভোরে সবাই যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন আসমা ছাদে গিয়ে সেখানে থেকে পড়ে যেতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সকালে ওই ভবনটির মূল ফটকের সামনে গৃহকর্মীর লাশ পড়ে থাকে। এ সময় তার নাক দিয়ে রক্ত পড়ছিল। লাশটি দেখে মনে হয়েছে কেউ যেন শুয়ে আছে। ছাদ থেকে পড়েছে বলে তার মনে হয়নি। ঢাকা মহানগর পুলিশের মিতিঝিল বিভগের উপ কমিশনার হায়তুল ইসলাম খান বলেন, ওই গৃহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে– এমন কথা ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। বিক্ষোভকারীরা বাড়ির নিচতলায় ভাঙচুর এবং গাড়িতে আগুন দেয়। তিনি আরও বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে আছি, পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছি। বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বনশ্রীতে গৃহকর্মীর মৃত্যুর জেরে গাড়িতে আগুন-ভাঙচুর
ঢাকার বাতাস আজও ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’, দূষণের তালিকায় তৃতীয়
বিশ্বে দূষিত শহরের তালিকায় সম্প্রতি প্রায় প্রতিদিনই শীর্ষ তিনের মধ্যে থাকছে ঢাকার নাম। আজও বায়ুদূষণের তালিকায় ঢাকার অবস্থান তৃতীয়। রোববার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় বায়ুমানের সূচক (একিউআই) অনুযায়ী ঢাকায় বাতাসের মান ছিল ২৪৪ স্কোর। বায়ুর মান বিচারে এ মাত্রাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ ছাড়া স্কোর ২৫৩ নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে চীনের সাংহাই। ২৫২ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি। ২০৩ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের করাচি এবং একই স্কোর নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে চীনের ছেংতু। তথ্যমতে, একিউআই স্কোর ১০১ থেকে ২০০ এর মধ্যে থাকলে ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং স্কোর ৩০১ থেকে ৪০০ এর মধ্যে থাকলে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়। ঢাকায় বায়ুদূষণের জন্য ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলোকে দায়ী করে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। ভয়াবহ এই দূষণের ফলে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এটা সব বয়সী মানুষের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ ও অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য বায়ুদূষণ খুবই ক্ষতিকর। নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকার বায়ু দূষণ ধারাবাহিকভাবেই উদ্বেগজনক। বায়ুদূষণের অনেক উৎসের মধ্যে ইদানিং নির্মাণযজ্ঞও উঠে এসেছে। ভবন বা অবকাঠামো নির্মাণে আদর্শ মান মানা হয় না। সরকারি ও বেসরকারি সব উন্নয়নকাজ উন্মুক্তভাবেই করা হচ্ছে।
ঢাকার বাতাস আজও ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’, দূষণের তালিকায় তৃতীয়
থার্টি ফার্স্ট নাইট : রাজধানীর যেসব সড়ক বন্ধ থাকবে
ইংরেজি নববর্ষ থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনে মানুষের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর বেশ কয়েকটি সড়কে যান চলাচলে ট্রাফিক নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।  এছাড়া প্রকাশ্য কোনো ধরনের সভা-জমায়েত বা উৎসব করা যাবে না বলেও জানিয়েছে ডিএমপি। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. ফারুক হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  আরও পড়ুন : সংসদ সদস্যকে হুমকি দেওয়ায় আ.লীগ নেত্রীকে শোকজ নগরবাসীকে নিম্নোক্ত ট্রাফিক নির্দেশনা মেনে চলার জন্য অনুরোধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।   ১. ৩১ ডিসেম্বর রাত ৮টা থেকে পরদিন ১ জানুয়ারি ভোর ৫টা পর্যন্ত গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় যানবাহনযোগে প্রবেশের জন্য কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ (কাকলী ক্রসিং) এবং মহাখালী আমতলী ক্রসিং ব্যবহার করা যাবে। ২. রাত ৮টা থেকে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে মহাখালী এলাকা-ফিনিক্স রোড ক্রসিং, বনানী ১১ নম্বর রোড ক্রসিং, চেয়ারম্যান বাড়ি ক্রসিং, ঢাকা গেট, শুটিং ক্লাব, বাড্ডা লিংক রোড, ডিওএইচএস বারিধারা-ইউনাইটেড হাসপাতাল ক্রসিং ও নতুন বাজার ক্রসিং এলাকাগুলোতে প্রবেশের জন্য ব্যবহার করা যাবে না, তবে ওই এলাকা থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে এসব ক্রসিং ব্যবহার করা যাবে। আরও পড়ুন : কেউ ভোট কেন্দ্রে যাবেন না, এটি জনগণের নির্বাচন নয় : রিজভী  ৩. ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন ১ জানুয়ারি ভোর ৫টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী ব্যতিত অন্য যেকোন ব্যক্তি বা যানবাহন কেবলমাত্র পুরনো হাইকোর্ট-দোয়েল চত্বর-শহীদ মিনার-জগন্নাথ হলের দক্ষিণ গেট-পলাশী মোড় দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে। ওই এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে অন্যান্য সব ক্রসিং বন্ধ থাকবে। ৪. ৩১ ডিসেম্বর রাত ৮টা থেকে শাহবাগ, নীলক্ষেত ক্রসিং, দোয়েল চত্বর ক্রসিং, বক্শীবাজার ক্রসিং, পলাশী ক্রসিং এবং চাঁনখারপুল/শহিদুল্লাহ হল ক্রসিং দিয়ে কোনো প্রকার যানবাহন প্রবেশ করবে না। ৫. সড়ক ব্যবহার সংক্রান্তে যে কোন জরুরি প্রয়োজনে ফোন করুন : ডিসি ট্রাফিক (গুলশান) ০১৩২০-০৪৪৩৬০, এডিসি ট্রাফিক (গুলশান) ০১৩২০-০৪৪৩৬১, এসি ট্রাফিক (গুলশান) ০১৩২০-০৪৪৩৭২, এসি ট্রাফিক (মহাখালী) ০১৩২০-০৪৪৩৭৫, এসি ট্রাফিক (বাড্ডা) ০১৩২০-০৪৪৩৭৮, ডিসি ট্রাফিক (রমনা) ০১৩২০-০৪২২৬০, এডিসি ট্রাফিক (রমনা) ০১৩২০-০৪২২৬১, ডিসি (গুলশান) ০১৩২০-০৪১৪২০ ও ডিসি (রমনা) ০১৩২০-০৩৯৪৪০।
থার্টি ফার্স্ট নাইট : রাজধানীর যেসব সড়ক বন্ধ থাকবে
আরও পড়ুন
রেলে নাশকতা, যৌথ অভিযানে আটক ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদের বিবৃতি
গাজীপুরে রেলে নাশকতা, কাউন্সিলরসহ গ্রেপ্তার ৭
অসংবিধানিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহবান বঙ্গবন্ধু পরিষদের