ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

আজ উচ্ছেদ অভিযান, কালই কেন দখল হচ্ছে রাজধানীর ফুটপাত?

ইউএনবি

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার ফুটপাতগুলো হকারদের কবল থেকে মুক্ত করতে মাঝেমধ্যেই অভিযান চালাতে দেখা যায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু উচ্ছেদ অভিযানের দিন কয়েকের মধ্যেই ফুটপাতগুলোতে ফিরে আসে পুরোনো সেই চিত্র— পণ্যের ডালি সাজিয়ে হকারদের হাঁকডাক, ফুটপাতের অর্ধেকের বেশি অংশ দখলে নেওয়ায় অতি সংকীর্ণ পথ ধরে গাদাগাদি করে পথচারীদের চলাচল এবং চলতি পথে নানাজনের প্রশাসনকে গালাগাল।

রাজধানীর নিউ মার্কেটসহ বেশ কয়েকটি জায়গার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলো এক সপ্তাহও হয়নি, এরই মধ্যে নিউ মার্কেটে ফিরে এসেছে পুরোনো জীর্ণ চেহারা। ডিএমপির অভিযানের পর এক সপ্তাহ তো দূর, ওই দিনই ফুটপাতে ফিরে আসতে শুরু করেন হকাররা; দিন দুয়েকের মধ্যে ফের দেখা যায় দোকানের সারি।

বারংবার অভিযানের পরও হকারদের কেন দমন করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

চলতি মাসের ১ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত ডিএমপির আটটি ট্রাফিক বিভাগের নেতৃত্বে এ সমন্বিত অভিযানে সড়ক ও ফুটপাতের অবৈধ দোকান, ভ্রাম্যমাণ হকার এবং অননুমোদিত পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা এবং বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে মোট ৪০৫টি মামলা করা হয়েছে, জরিমানা আদায় করা হয়েছে ১১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এছাড়া ৫৭ জনকে সতর্ক করা হয়েছে এবং ৯৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এত কিছুর পরও দমানো যায়নি হকারদের।

গুলিস্তান, ধোলাইখাল, উত্তরা, শনির আখড়া ও ধানমণ্ডির কলাবাগানসহ বেশকিছু এলাকায় অল্প সময়ের জন্য নাগরিকরা স্বস্তি পেলেও অভিযান শেষ হওয়ার দুই দিনের মধ্যেই অধিকাংশ জায়গায় আবার ফুটপাত দখল হয়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, গুলিস্তানে হকাররা আগের মতোই ফুটপাত দখল করেছেন। অবশ্য কেউ কেউ এখন কিছুটা সতর্কতার সঙ্গে ব্যবসা করছেন। গোলাপ শাহ মাজারের সামনে আগে স্থায়ী দোকান বসানো অনেকেই এখন চট বিছিয়ে পণ্য বিক্রি করছেন, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত সরে যেতে পারেন। পল্টন, মতিঝিল ও নিউমার্কেট এলাকাতেও দেখা গেছে একই দৃশ্য।

সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে নীলক্ষেত মোড় পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে শত শত হকার বসে আছেন। ফলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে ব্যস্ত সড়কের ভেতর দিয়ে হাঁটছেন। এতে যেমন ঝুঁকি বাড়ছে, তেমনি যানজটও তীব্র হচ্ছে।

উচ্ছেদ আর ফেরার চক্রে আটকে রাজধানী

উচ্ছেদ অভিযানের পর অল্প সময়ের জন্য ফুটপাত খালি থাকলেও দ্রুতই আবার হকারদের দখলে চলে যাচ্ছে। এই চক্র এখন নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিউমার্কেট ছাড়াও মোহাম্মদপুর, শ্যামলী রিং রোড, মগবাজার, বাংলামোটর, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার ও গুলিস্তানসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবারও হকারদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ঘোষিত উচ্ছেদ অভিযান শেষ হয়েছে, তবে যেসব জায়গায় উচ্ছেদের পর পুনরায় ফুটপাতে হকাররা বসেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের ফলোআপ অভিযান চলমান রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ৬ এপ্রিলই ডিএমপি সায়েদাবাদ টার্মিনাল এলাকায় আবার অভিযান চালিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

যেসব জায়গায় ১ থেকে ৫ এপ্রিল অভিযান চালিয়েছে, সেসব জায়গায় আবারও ফুটপাত দখল হয়ে গেলে সেগুলোতে আবারও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা।

ফুটপাতে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন, দাবি হকারদের

বারবার ফুটপাত থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও কেন তারা আবারও সেখানে এসে বসছেন, এ বিষয়ে কথা হয় নিউ মার্কেট-নীলক্ষেত এলাকার কয়েকজন হকারের সঙ্গে। উত্তরে তারা যে কারণ ব্যাখ্যা করলেন, তাতে তাদের কর্মকাণ্ড আইনত বেঠিক হলেও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো নয়।

হকারদের দাবি, ফুটপাতের ওই দোকানটি তার ও তার পরিবারের জীবিকার একমাত্র উৎস। অনেকের আবার শহরে এবং গ্রামে একাধিক পরিবারের খরচ বহন করতে হয়। ফলে হঠাৎ করে তাদের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে একটি বড় জনগোষ্ঠীর ওপর।

আবার ফুটপাত থেকে তাদের সরিয়ে দিলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নতুন কোনো জায়গায় ব্যবসা করার ব্যবস্থা তাদের করে দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেন তাদের কেউ কেউ। ফলে বাধ্য হয়ে আবার ফুটপাতেই ফিরতে হয় বলে জানান তারা।

নিউমার্কেট এলাকার হকার সবুজ আলী বলেন, আমাদের সরিয়ে দিলে আমরা কোথায় যাব? আমরা কারও ক্ষতি করছি না। যদি উচ্ছেদ করতেই হয়, তাহলে আমাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।

পথচারীদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন

মৌচাক এলাকায় ফুটপাত ছেড়ে রাস্তার ভেতর দিয়ে হাঁটছিলেন শহীদ আলী নামের এক পথচারী। তাকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলেন, ফুটপাতে হাঁটার জায়গা আছে? পুরোটাই তো দখল হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে রাস্তায় হাঁটতে হচ্ছে। পুলিশ বলেছে ফুটপাত পরিষ্কার করেছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো পরিবর্তন তো চোখে পড়ছে না!

সমাধান কীসে

এর আগে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ফুটপাতে আর হকার বসতে দেওয়া হবে না এবং তাদের ‘হলিডে’ ও ‘নাইট’ মার্কেটের মাধ্যমে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বাস্তবায়নের অভাবে এসব উদ্যোগের প্রভাব খুবই সীমিত পড়েছে।

নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, যথাযথ বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া হকার বা অটোরিকশা হঠাৎ উচ্ছেদ করা সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ‘হকারদের হঠাৎ সরিয়ে দেওয়া কোনো সমাধান নয়, তাদের জন্য টেকসই বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি আরও জানান, শহরে আটটি নাইট মার্কেট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চালু থাকবে, যাতে দিনের বেলা ফুটপাত দখল না হয়।

এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. ইশরাত ইসলাম বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শহরে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকা প্রয়োজন, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ফুটপাত দখল হয়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সঠিক পরিকল্পনার অভাবেই বারবার উচ্ছেদ অভিযান ব্যর্থ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই অধ্যাপকের ভাষ্যে, উচ্ছেদের আগে যাদের সরানো হবে, তাদের জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে, না হলে এটি টেকসই হবে না।

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, সমস্যাটির মূল কারণ বোঝার জন্য গভীর গবেষণা প্রয়োজন। শুধু হকার সরিয়ে দিলে হবে না, এর পেছনের বাস্তবতা না বুঝলে স্থায়ী সমাধান আসবে না।

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পৃথিবীর বহু দেশেই হকাররা বৈধভাবে ব্যবসা করে থাকেন। সেজন্য ভারতসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই সরকারের আলাদা পলিসি থাকলেও আমাদের দেশে তা নেই। বাংলাদেশে এখনো এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করার জন্য অবশ্যই ফুটপাত দখলমুক্ত করা উচিত। কিন্তু তার আগেই বর্তমান হকাররা কীভাবে কাজ করছেন, সেগুলো বোঝা উচিত। পাশাপাশি তার পরিপ্রেক্ষিতে সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও নীতিমালা প্রস্তুত করে তার মাধ্যমে আমাদের কাজ করা উচিত। বিষয়টাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন এ পরিকল্পনাবিদ।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঢাকার যেসব এলাকায় আজ মার্কেট বন্ধ থাকবে
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দেখে নিন কোন কোন মার্কেট, শপিংমল ও এলাকার দোকানপাট বন্ধ থাকবে।
ঢাকার যেসব এলাকায় আজ মার্কেট বন্ধ থাকবে
গাড়ি চাপায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু / চালককে পুলিশে দিলেও মামলায় আসামি করা হয়েছে আরেকজনকে
ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান (২৪)। দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার উঠে যায় সেই ফুটপাতে। গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান মেহেদী। দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে আটকও করেছিলেন উপস্থিত লোকজন।  পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিলেও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় করা মামলায় ওই কিশোরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।  মামলায় গাড়িটির চালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তিনি ঘটনার পর থেকে পলাতক। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি কে চালাচ্ছিল এবং চালকের আসনে থাকা কিশোরকে আটক করার পরও কেন তাঁকে মামলায় আসামি করা হলো না। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মেহেদী হাসানের বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিকেলে ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন মেহেদী। এ সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে তাঁকে চাপা দেয়। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে গাড়ির নিচ থেকে মেহেদীর রক্তাক্ত দেহ বের করে আনেন।  পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকতাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম (২৮) বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলার ওই কিশোরের নাম উল্লেখ না করার বিষয়ে মোক্তাদীর ইসলামের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি। তার মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন গাড়িটির চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশও তাকে হেফাজতে নেয়। পুলিশের ভাষ্য, ক্ষুব্ধ জনতার হাতে যাতে ওই কিশোর ‘মবের শিকার’ না হয়, সে জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে তার চাচার জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। গুলশান থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোর ঢাকার গুলশান এলাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ক্যাপ্টেন। আর দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত। গাড়িটির চালকের আসনে কিশোরটি থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে দুর্ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজেও। সিসি ক্যামেরার ওই ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।  ভিডিওতে দেখা যায়, ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদীকে চাপা দেওয়ার পর প্রাইভেট কারটি একটি সড়কবাতির পোস্টে লেগে থেমে যায়। এরপর গাড়ি থেকে দুই ব্যক্তি নেমে আসেন। গাড়ির ডান পাশ অর্থাৎ চালকের আসন থেকে কালো টি-শার্ট পরা কিশোরকে নামতে দেখা যায়। গাড়ির অপর পাশ থেকে নামেন শার্ট পরা মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি। আশপাশের লোকজন ছুটে এলে দুজনই গাড়ির পাশে অবস্থান নেন।  পরে কিশোরটিকে সেখান থেকে একদিকে সরে যেতে দেখা যায়। পরে ওই কিশোরকে আটক করে পুলিশে দেন ক্ষুব্ধ লোকজন। কিন্তু এ ঘটনায় করা মামলায় ওই কিশোরের নাম নেই। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গাড়িটির চালক আকাশ মারক (৪৪) বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মেহেদীকে চাপা দেন। এতে তাঁর মাথা, বুক ও পিঠে গুরুতর জখম হয় এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ বলছে, আকাশ মারক ঘটনার পর থেকে পলাতক। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। ওই কিশোরের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। এ বিষয়ে গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘নিহত মেহেদীর বড় ভাই গাড়িটির চালক আকাশ মারকের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। ওই কিশোরের নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়নি। এ কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। আরটিভি/এসআর  
চালককে পুলিশে দিলেও মামলায় আসামি করা হয়েছে আরেকজনকে
চিকিৎসক সেজে রোগী ভাগানোর সময় নারী আটক
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকের অ্যাপ্রোন পরে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগে শারমিন আক্তার (৩৪) নামে এক নারীকে আটক করেছেন আনসার সদস্যরা। পরে তাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) মো. সাদেক হোসেন বাচ্চুর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল হাসপাতালের তৃতীয় তলায় অভিযান চালায়। আনসার সদস্যরা ৩১৩ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসকের অ্যাপ্রোন পরা অবস্থায় শারমিন আক্তারকে দেখতে পান। তার পরিচয় ও হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি প্রথমে নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেন। একপর্যায়ে তিনি জানান, তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করেন। আনসারের ভাষ্য, শারমিন চিকিৎসকের অ্যাপ্রোন পরে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় তিনি চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাদের হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে আনসার সদস্যরা নজরদারি বাড়িয়ে তাকে আটক করেন। অভিযানে পিসি মো. সাদেক হোসেন বাচ্চু, এপিসি মো. শফিকুল ইসলাম ও আনসার মো. আকিদুল ইসলাম অংশ নেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শারমিনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তায় আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। দালালি, প্রতারণা কিংবা রোগীদের বিভ্রান্ত করে অন্যত্র নেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড প্রতিরোধেও তারা সতর্ক রয়েছেন। আরটিভি/এসআর
চিকিৎসক সেজে রোগী ভাগানোর সময় নারী আটক
দুই দিন ধরে নিখোঁজ অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সাহারা!
রাজধানীর কুড়িল চৌরাস্তা এলাকা থেকে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী নিখোঁজ হয়েছে। এ ঘটনায় ভাটারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে তার পরিবারের সদস্যরা। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কাদের। তিনি জানান, জিডিটি প্রথমে অন্য এক কর্মকর্তার কাছে ছিল। পরে তিনি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন। ইতিমধ্যে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বিষয়ে দেশের সব থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে। কোথাও তার সন্ধান পাওয়া গেলে পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে। এসআই আব্দুল কাদের আরও জানান, ওই শিক্ষার্থী কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহার করত না। ফলে তার অবস্থান শনাক্তে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। তবে সে তার মা কিংবা পরিবারের অন্য কারও ফোন ব্যবহার করে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল কি না, তা জানতে কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) চাওয়া হয়েছে। সিডিআর পাওয়া গেলে সেখান থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা যাচাই করা হবে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরী জোয়ার সাহারা জসীমউদ্দীন ইনস্টিটিউটের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন আগে পড়াশোনা নিয়ে তার বাবা বকাঝকা করেন। এরপর গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে যায় সে। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার ভাটারা থানায় জিডি করেন। নিখোঁজ কিশোরীর ভাই জানান, বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তার বোনের সঙ্গে কোনো মোবাইল ফোন ছিল না। বাসা থেকে বের হওয়ার দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গেছে। সে কোনো স্বর্ণালংকার বা টাকা-পয়সাও সঙ্গে নেয়নি। ওই কিশোরীর কারও সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল কি না জানতে চাইলে তার ভাই বলেন, এ বিষয়ে তাদের কিছু জানা নেই। আরটিভি/এসআর  
দুই দিন ধরে নিখোঁজ অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সাহারা!
মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার আত্মগোপনে থাকা সাবেক এমপি
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার আত্মগোপনে থাকা সাবেক এমপি
আরও পড়ুন
চালককে পুলিশে দিলেও মামলায় আসামি করা হয়েছে আরেকজনকে
দুই দিন ধরে নিখোঁজ অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সাহারা!
বারিধারায় ফুটপাতে উঠে গেল গাড়ি, চাপা পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু
ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৬৫