
রাজধানী থেকে মোহাম্মদ শাহবাজ (২৬) নামে এক পাকিস্তানি নাগরিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার নিজবাসা থেকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শাহবাজ পাকিস্তানের মুলতান জেলার জালালপুর এলাকার নাজির আহমেদের ছেলে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীর ৩৮ নম্বর বাসার ৯/৫ নম্বর সড়কের এফ ব্লকে বসবাস করতেন এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহ ও মানসিক অবসাদের জেরে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাসার ভেতরে শাহবাজকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বাড়ির দারোয়ান। পরে তিনি পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে খিলগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ জুবায়ের গণমাধ্যমকে বলেন, দক্ষিণ বনশ্রীর একটি বাড়ির নিচ তলায় ভাড়া থাকতেন পাকিস্তানি ওই নাগরিক। তিনি বাংলাদেশি আদিবাসী এক তরুণীকে বিয়ে করেছিলেন। তাকে নিয়েই ওই বাসায় থাকতেন। তবে কিছুদিন আগে তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করে চলে যান।
তিনি আরও বলেন, দুইদিন আগে তাকে ফিরিয়ে আনতে শাহবাজ সাতক্ষীরা গিয়েছিলেন। তবে আনতে ব্যর্থ হন। পারিবারিক এসব কারণে তিনি সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতের যেকোনো সময় রুমের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দেন। খবর পেয়ে ওই বাসার দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে বিছানার চাদর প্যাঁচানো ঝুলন্ত মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের এই উপপরিদর্শক বলেন, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর বাকিটা বলা যাবে।
আরটিভি/আইএম


