
রাজধানীর শান্তিনগরে গৃহকর্মী দেওয়ার কথা বলে একটি বাসা থেকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এ ঘটনায় পল্টন থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী আসমা আক্তার।
জানা যায়, আসমা আক্তার সম্প্রতি কানাডা থেকে দেশে ফিরেছেন। তার বাসায় নিয়মিত একজন গৃহকর্মী কাজ করেন। এ ছাড়া তার বাসার দুই নিরাপত্তাকর্মী শহীদুল ও আনোয়ার গত তিন থেকে চার বছর ধরে সেখানে কর্মরত। কিন্তু এই নিরাপত্তা কর্মীরাই এ বাসার অনিরাপত্তার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। তাদের বার বার বলার পরও বাইরের মানুষ ঢুকায়, আড্ডা দেয়, গেটে প্রবেশের কোনও রেকর্ড রাখে না। মোটামুটি তাদের দাপটে মালিকদের থাকা লাগে।
ভুক্তভোগী আসমা আক্তার বলেন, গত ১৯ অক্টোবর শহীদুল তাকে জানান একজন বয়স্ক নারী কাজ খুঁজছেন। ওই নারীকে গৃহকর্মী হিসেবে রাখবেন কি না, তা জানতে চান নিরাপত্তাকর্মী। পরে ওই নারীকে নিয়ে আসতে বলেন তিনি।
তিনি বলেন, পরদিন ২০ অক্টোবর সকাল সাতটার দিকে অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে শহীদুল ফোন করে জানান ওই নারী এসেছেন। পরে দুই নারী আসমার বাসায় আসেন। তাদের নাম ও বেতনের বিষয়ে সংক্ষিপ্ত কথা বলার পর আসমা তাদের একজনকে বিকেলে পরিচয়পত্র ও ফোন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে আসতে বলেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, ওই নারী জানান তার নিজের ফোন নেই; তার স্বামীর ফোন রয়েছে এবং তিনি অটোরিকশা চালান। শহীদুল ওই নারীকে ভালোভাবে চেনেন না বলে জানালে আসমা নিরাপত্তাকর্মীদের গেটের দিকে নজর রাখতে বলেন, যাতে ওই নারী উনি আশা না পর্যন্ত বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে না পারেন।
আসমার অভিযোগ, তিনি বুঝতে পারেননি পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিল। তার দাবি, তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর শহীদুল আবার ওই নারীকে খবর দিয়ে বাসায় আনেন যেহেতু সে জানে এ সময় আমার অসুস্থ স্বামী। এবং বাসার সবাই ঘুমে থাকে এবং মোটামুটি সব দরজা খোলা থাকে। এ সময় বাসায় আসা নারীদের একজনের সঙ্গে আরেকজন অপরিচিত ব্যক্তির যোগাযোগ ও দীর্ঘ সময় অবস্থানের বিষয়টিও তার নজরে আসে। পরে বাসায় থাকা এক নারী মুখে মাস্ক পরে মোবাইল ফোন নিয়ে বেরিয়ে যান। আরেক নারীও বাসা থেকে বেরিয়ে যান।
তার দাবি, দ্বিতীয় নারী নিরাপত্তাকর্মী আনোয়ারের সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেলেও তিনি বাধা দেননি। এ ঘটনায় আনোয়ারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আসমা।
আসমা আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজে শহীদুলের সঙ্গে কথা বলার পর এক নারীকে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে দেখা যায়। শহীদুল ওই নারীকে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেও সে প্রায় চার মিনিট পর নিজে ওপরে উঠে। এই সময়ের মধ্যেই মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
আসমা আক্তার আরও বলেন, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে পল্টন থানায় মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পুলিশি তদন্ত প্রয়োজন। সিসিটিভি ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করেই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
আরটিভি/ এমএ



