ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

‘কাজের খোঁজে গিয়ে’ মোবাইল নিয়ে উধাও, সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর শান্তিনগরে গৃহকর্মী দেওয়ার কথা বলে একটি বাসা থেকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এ ঘটনায় পল্টন থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী আসমা আক্তার।

জানা যায়, আসমা আক্তার সম্প্রতি কানাডা থেকে দেশে ফিরেছেন। তার বাসায় নিয়মিত একজন গৃহকর্মী কাজ করেন। এ ছাড়া তার বাসার দুই নিরাপত্তাকর্মী শহীদুল ও আনোয়ার গত তিন থেকে চার বছর ধরে সেখানে কর্মরত। কিন্তু এই নিরাপত্তা কর্মীরাই এ বাসার অনিরাপত্তার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। তাদের বার বার বলার পরও বাইরের মানুষ ঢুকায়, আড্ডা দেয়, গেটে প্রবেশের কোনও রেকর্ড রাখে না। মোটামুটি তাদের দাপটে মালিকদের থাকা লাগে।

ভুক্তভোগী আসমা আক্তার বলেন, গত ১৯ অক্টোবর শহীদুল তাকে জানান একজন বয়স্ক নারী কাজ খুঁজছেন। ওই নারীকে গৃহকর্মী হিসেবে রাখবেন কি না, তা জানতে চান নিরাপত্তাকর্মী। পরে ওই নারীকে নিয়ে আসতে বলেন তিনি।

তিনি বলেন, পরদিন ২০ অক্টোবর সকাল সাতটার দিকে অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে শহীদুল ফোন করে জানান ওই নারী এসেছেন। পরে দুই নারী আসমার বাসায় আসেন। তাদের নাম ও বেতনের বিষয়ে সংক্ষিপ্ত কথা বলার পর আসমা তাদের একজনকে বিকেলে পরিচয়পত্র ও ফোন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে আসতে বলেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, ওই নারী জানান তার নিজের ফোন নেই; তার স্বামীর ফোন রয়েছে এবং তিনি অটোরিকশা চালান। শহীদুল ওই নারীকে ভালোভাবে চেনেন না বলে জানালে আসমা নিরাপত্তাকর্মীদের গেটের দিকে নজর রাখতে বলেন, যাতে ওই নারী উনি আশা না পর্যন্ত বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে না পারেন।

আসমার অভিযোগ, তিনি বুঝতে পারেননি পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিল। তার দাবি, তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর শহীদুল আবার ওই নারীকে খবর দিয়ে বাসায় আনেন যেহেতু সে জানে এ সময় আমার অসুস্থ স্বামী। এবং বাসার সবাই ঘুমে থাকে এবং মোটামুটি সব দরজা খোলা থাকে। এ সময় বাসায় আসা নারীদের একজনের সঙ্গে আরেকজন অপরিচিত ব্যক্তির যোগাযোগ ও দীর্ঘ সময় অবস্থানের বিষয়টিও তার নজরে আসে। পরে বাসায় থাকা এক নারী মুখে মাস্ক পরে মোবাইল ফোন নিয়ে বেরিয়ে যান। আরেক নারীও বাসা থেকে বেরিয়ে যান।

তার দাবি, দ্বিতীয় নারী নিরাপত্তাকর্মী আনোয়ারের সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেলেও তিনি বাধা দেননি। এ ঘটনায় আনোয়ারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আসমা।

আসমা আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজে শহীদুলের সঙ্গে কথা বলার পর এক নারীকে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে দেখা যায়। শহীদুল ওই নারীকে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেও সে প্রায় চার মিনিট পর নিজে ওপরে উঠে। এই সময়ের মধ্যেই মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

আসমা আক্তার আরও বলেন, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে পল্টন থানায় মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পুলিশি তদন্ত প্রয়োজন। সিসিটিভি ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করেই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

আরটিভি/ এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
রাজধানীর মিরপুরে দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অনুসরণের অভিযোগে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো দুর্গাপূজা
‎প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ছয় দিনের পূজা-অর্চনা, আনন্দ-উৎসব, সাংস্কৃতিক আয়োজনের পর দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান তারা। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ওয়াইজঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে দেবী দুর্গার প্রতিমাগুলো বিসর্জন দেওয়া হয়।   দুপুর থেকেই ঢাক-ঢোল, কাঁসর-ঘণ্টার বাদ্যের তালে তালে রাজধানীর বিভিন্ন মন্দির ও মহল্লা থেকে শোভাযাত্রা করে প্রতিমাগুলো বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে আনা হয়। পরে নৌকাযোগে সেগুলো নদীর মাঝখানে নিয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়।এ সময় চারদিকে ছিল বিষাদের সুর। ভক্তদের কারো চোখে দেখা যায় অশ্রু, কারো ঠোঁটে শোনা যায় দেবীর বন্দনা। কেউ শেষ মুহূর্তে মায়ের কাছে মঙ্গল কামনা করেন। কেউবা নদীর পানি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের শরীরে ছিটিয়ে নেন। মহাখালী থেকে বাবার সঙ্গে ওয়াইজঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেখতে আসা নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়স্মিতা বলে, দশমীর লগ্ন শুরু হয়ে যাওয়া মানেই মন খারাপের শুরু। খুব কষ্ট লাগছে, মা চলে যাচ্ছেন। এই কয়েক দিন মা ছিলেন, তাই আনন্দে কেটেছে। মায়ের কাছে চাওয়া, মা যেন এ দেশ থেকে সব ধরনের অপশক্তি দূর করে দেশকে শান্তিময় করেন। সবাইকে ভালো রাখেন। পুরান ঢাকার হাজারীবাগ গণকটুলী থেকে আসা রীমা রানী জানান, এই কয়েকটা দিন ছিল খুবই আনন্দের। মা দুর্গা তাদের মাঝে ছিলেন, তাই চারপাশ আনন্দে ভরে উঠেছিল। কিন্তু আজ মা চলে যাচ্ছেন, সেই কষ্টে বুকটা ভরে উঠছে। আবারও এক বছর মায়ের আসার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এবারের পূজায় তিনি বিশেষ প্রার্থনা করেছেন, যেন দেশ শান্তিময় হয় এবং সবার জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি নেমে আসে। ধানমন্ডি থানা পূজা উদযাপন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শ্রী রাজিব কুন্ডু বলেন, আমরা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে মাকে বিদায় জানাতে এসেছি। মা আমাদের মঙ্গলের জন্য, অসুর বধ করার জন্য ধরাধামে এসেছিলেন। আমরা মায়ের কাছে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চাই, যাতে অশুভ শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। অন্যায়-অপরাধ দূর হোক। আগামীতে দেশ যেন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় এবং সব মানুষের মঙ্গল হয়, এটাই মায়ের কাছে প্রার্থনা। দশমীর সকালে মণ্ডপ ও মন্দিরে পূজার অন্যতম প্রধান আচারে অংশ নেন নারীরা। দুর্গার পায়ে সিঁদুর নিবেদন করে তারা দেবীর শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর একে অপরের গায়ে সিঁদুর মেখে জীবনের সমৃদ্ধি কামনা করেন। প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে রাজধানীতে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিসর্জন কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রায় পুলিশের বিশেষ দল সোয়াট ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কয়েক শ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। এ ছাড়া আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলসহ অন্যান্য দলের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন বলেন, প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে ওয়াইজঘাটসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পোশাকধারী ও সাদাপোশাকের পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের পাশাপাশি নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কাজ করছে। তিনি বলেন, গতবার বিসর্জনের জন্য একটি স্থান থাকলেও এবার তিনটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সড়ক একমুখী করা হয়েছে, যাতে প্রতিমা নিয়ে আসা ট্রাকগুলো নির্ধারিত পথে প্রবেশ করতে পারে এবং বিসর্জন শেষে সহজে বের হয়ে যেতে পারে। প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। আরটিভি/টিআর
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো দুর্গাপূজা
ঢাকার ৩৩ পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জন, নিরাপত্তায় ১৬ হাজারের বেশি পুলিশ
বিসর্জন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে ১৬ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে
ঢাকার ৩৩ পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জন, নিরাপত্তায় ১৬ হাজারের বেশি পুলিশ
ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা শুরু
‎প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ছয় দিনের পূজা-অর্চনা, আনন্দ-উৎসব, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর পূজামণ্ডপগুলোতে এখন দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকাল ৪ টার দিকে ‎রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা শুরু হয়। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি ওয়াইজঘাটে গিয়ে শেষ হবে। পরে ঢাকার ১১টি ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। এদিকে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বুধবার সকালে দশমী বিহিত পূজা, দর্পণ বিসর্জন, দেবীর বরণ এবং সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। এরপর মন্দিরে দেবীকে বরণ ও সিঁদুর খেলার আয়োজন করা হয়। সকালে মন্দিরে ভক্তরা ধূপ, ফুল, বেলপাতা ও প্রদীপ দিয়ে দেবীর পূজা করেন। এ সময় অনেকে পরিবার-পরিজনের মঙ্গল, সবার সুস্থতা এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে প্রার্থনা করেন। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে নারীরা দেবীকে সিঁদুর দিয়ে বরণ করেন। পরে তারা একে অপরের কপালে ও মুখে সিঁদুর মাখিয়ে সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি তাপস কুমার পাল বলেন, দশমী পূজা ও অঞ্জলি শেষে দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে শাস্ত্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। পরে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুকুরে ঘট বিসর্জন দেওয়া হয়। মন্দিরে আসা ভক্ত প্রিতিলতা সেন বলেন, দেবী চলে যাওয়ায় তার মন খারাপ। আগামী বছর আবারও দেবীর আগমন হবে বলে তিনি আশা করেন। একই সঙ্গে সবার সুস্থতা, পরিবারের মঙ্গল ও দেশের ভালো থাকার জন্য প্রার্থনা করেন তিনি। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস জানান, এ বছর ঢাকায় ২৫৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। আরটিভি/টিআর
ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা শুরু
২৪ ঘণ্টার অভিযানে ঢাকায় ৫১৮ জন ধরা
বুধবার (২১ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। 
২৪ ঘণ্টার অভিযানে ঢাকায় ৫১৮ জন ধরা
আরও পড়ুন
ব্যাংকের নামে ফোন, কণ্ঠস্বর নকল করে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার ডলার
আজ ডেস্কটপের ফাইল গোছানোর দিন
অজু ছাড়া মোবাইল স্ক্রিনে কোরআনের আয়াত স্পর্শ করা যাবে?
স্মার্টফোন চার্জে কভার খুলে রাখা কি জরুরি?