
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনায় দুজনকে সন্দেহজনকভাবে আটক করা হয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদ না করার আগে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে র্যব।
আজ বুধবার র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক আশিক বিল্লাহ আরটিভি নিউজকে বলেন, যে দুজনকে আটক করা হয়েছে, সিসিটিভির ফুটেজে দেখা তাদের শারীরিক গঠন এবং প্রাথমিক অনুসন্ধানে মনে হয়েছে তারাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত হতে পারে। তবে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। স্বীকারোক্তি পেলে জানা যাবে তারা জড়িত কিনা?
আজ শুক্রবার ভোরে ওয়াহিদা খানম ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জ কষিগড়ি এলাকার আবুল কালামের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন (৪২)। অন্যজন একই উপজেলার ওসমানপুর সাগড়পাড়া এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে আসাদুল ইসলাম।
শুক্রবার ভোরে জাহাঙ্গীরকে ঘোড়াঘাট উপজেলার ওসমানপুর সাগরপাড়া এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। তিনি ওই এলাকার আবুল কালামের ছেলে।প্রায় একই সময়ে দিনাজপুর জেলার সীমান্তবর্তী হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার কালিগঞ্জ থেকে আসাদুল ইসলাম (৩৫) নামের অপর একজনকে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে বলেছিলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাকিমপুর, বিরামপুর ও ঘোড়াঘাট থানা ও র্যাবের একটি দল যৌথভাবে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। পরে শুক্রবার ভোর পাঁচটায় দিনাজপুর জেলার সীমান্তবর্তী হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার কালিগঞ্জ থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত আসামি আসাদুল ইসলাম ঘোড়াঘাট উপজেলার সাগরপুর গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে ।
গেল বুধবার মধ্য রাতে ঘোড়াঘাটে সরকারি বাসায় দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা। এরপর তাকে ও তার বাবাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার বাবা চিকিৎসাধীন আছেন। তবে ইউএনওর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় আনা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ওয়াহিদা খানমকে ঢাকায় আনা হয়। ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসাইন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ওয়াহিদা খানমকে।
অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়ায় তার অস্ত্রোপচার করা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন মেডিকেল বোর্ড। পরে অবস্থার উন্নতি হলে রাত নয়টার তার অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচার শেষে চিকিৎসক বলেন, অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে, তাকে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। আজ সকালে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের জ্ঞানও ফিরেছে। তবে এখনও তিনি শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
আরও পড়ুন: ইউএনওর বাড়ির পেছনটা সুনসান, থানা ৫ কিলোমিটার দূরে
জেবি




