
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার হাওর থেকে একজন পাখি শিকারিকে আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয় দেখিয়ে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের কর্মচারীর বিরুদ্ধে।
গতকাল রোববার এ ঘটনা ঘটে। দুপুরে বানিয়াচং উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন জানান, ঘুষ চাওয়ার সত্যতা মিলেছে। তবে বন বিভাগ জানিয়েছে তদন্তের পর এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার ভোরে বানিয়াচং উপজেলার ভবানী হাওরে বক পাখিসহ শ্রীনন্দন সরকার নামে একজন শিকারিকে আটক করে বন বিভাগ। অভিযানে ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা বন ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ফরেস্টার তোফায়েল আহমেদ চৌধুরীসহ কয়েকজন কর্মচারী। ভোরে আটকের পর সকাল দশটায় শিকারীকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফফাত আরা জামান উর্মির ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। তখন তিনি আটক ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। এরপর জরিমানার টাকা দিয়ে মুক্তি পান শ্রীনন্দন সরকার। এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে রায়ের পর দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি উপজেলা প্রশাসনকে জানান, ভোর ছয়টায় তাকে আটক করা হয়। এরপর অভিযানে থাকা বন বিভাগের এক কর্মচারী তার নিকট ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ না দিলে শ্রীনন্দন সরকারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল-জরিমানার ভয়ও দেখানো হয়।
বানিয়াচং থানা পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত বন বিভাগের কর্মচারী নিজেকে পুলিশের লোক পরিচয় দিয়ে আটক ব্যক্তির এক আত্মীয়কে বিকাশে ১০ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন। পরে তাকে নিয়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ঘুরতে থাকেন। একপর্যায়ে টাকা না পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের সামনে তাকে উপস্থিত করা হয়।
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরান হোসেন আরটিভি নিউজকে জানান, বন বিভাগের এক কর্মচারী পুলিশ পরিচয়ে পাখি শিকারের নিকট ঘুষ চেয়েছেন। এর সত্যতাও পাওয়া গেছে।
হবিগঞ্জ জেলা বন ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ রানা বিষয়টি মোবাইল ফোনে আমাকে অবগত করেছেন। তিনি বলেছেন প্রশাসনের নিকট ঘুষ চাওয়ার প্রমাণও রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেবি




