
যশোরঞ্চলে পরিবেশ অধিদপ্তরের চলমান অভিযানকে আইওয়াশ হিসেবে অবহিত করেছেন যশোরের ইটভাটা মালিক সমিতি। অধিদপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা আয়ের মিশনে নেমেছেন বলে অভিযোগ।
তবে পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, অবৈধভাবে গড়ে তোলা বৃহত্তর যশোরের চার জেলায় প্রায় ৪০০ ইটভাটা ভেঙে দেওয়া হবে। ধারাবাহিকভাবে এ অভিযান চলবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কিন্তু অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইটভাটার মালিকরা। তারা বলছেন, রাস্তার এক পাশের ভাটা ভেঙে দিলেও অন্য পাশের অবৈধ ভাটা ঠিক রক্ষা করে চলছে।
অভিযোগ উঠেছে, যশোর পরিবেশ অধিদপ্তরের নমুনা সংগ্রহকারী দিদারুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান প্রতি শুক্র ও শনিবার প্রাইভেটকারে করে বৃহত্তর যশোরের বিভিন্ন ইটভাটায় যান। সেখানে ভাটা মালিকদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। এসময় মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। যেসব ভাটা মালিক তাদের চাহিদামতো ঘুষ দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। সেগুলোই অভিযানের নামে ভাংচুর চালানো হয়েছে।
ভাটা মালিকদের দাবি, সিঙ্গেল সেকসন ভাটা থেকে দুই লাখ। ডবল সেকসন ভাটা থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। অফিসের উপ-পরিচালক, সহকারী পরিচালকসহ অফিস খরচ বাবদ এসব টাকা নেওয়া হচ্ছে।
ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর যা শুরু করেছে তা অবৈধ। নোটিশ ছাড়াই তারা একটি ভাটায় গিয়ে সন্ত্রাসীদের মতো সবকিছু লণ্ডভণ্ড করতে পারেন না। তারা যা করছে তা সন্ত্রাসীদের চেয়ে কোনও অংশে কম নয়।
তিনি আরও বলেন, একটি ইটভাটায় কমপক্ষে ৪০০ জন শ্রমিক কাজ করে। বৃহত্তর যশোরে তারা ৪০০ ভাটা উচ্ছেদ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। তাহলে ৪০০ ভাটায় ১ লাখ ৬০ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে। করোনাকালে মানুষ দীর্ঘদিন বেকর ছিল। ইট ভাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। এখন কাজের জন্য মানুষ আসছে। আর এসব বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা কারা করবে ?
ভাটা মালিক আব্দুর রশিদ অভিযোগ করেন, হাইকোর্টের নির্দেশের কথা বলে কোনও নোটিশ ছাড়াই ইটভাটা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমি বলেছিলাম আপনারা সিলগালা করে দেন। আমি ভাটা চালাবো না। কিন্তু তারা ভাটা ভেঙে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি করে গিয়েছে। আমার এখানে ৫০০ শ্রমিক কাজ করে। সবাই আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। এদের কি হবে?
তিনি বলেন, ইটভাটা থেকে রক্ষিত জ্বালানি তেল লুট করে নিয়ে গেছে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ আরটিভি নিউজকে বলেন, আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। বুধবার নড়াইলে ১০টি ভাটা উচ্ছেদ করা হয়েছে। চারটি ভাটায় ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের অভিযান চলবে। বৃহস্পতিবার মাগুরায় অভিযান হবে।
তিনি আরও বলেন, ডিডি সাহেবের নির্দেশ আছে, ড্রাম চিমনি এবং ফিক্সট চিমনি উচ্ছেদ করতে হবে। এর পাশাপাশি অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে।
যশোর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাঈদ আনোয়ারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
জিএম/জেবি




