
জাতির জনকের ভাস্কর্য ভাংচুরের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে হেফাজত ইসলামসহ মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক শক্তিকে সম্মিলিতভাবে চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করার ডাক দেয়া হয়েছে।
আজ বুধবার (৯ ডিসেম্বর) বিকেলে নগরীর আন্দরকিল্লা মোড় চত্বরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এই ডাক দেন।
সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ যখন উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত মাইলস্টোন স্পর্শ করতে যাচ্ছে। ঠিক তখনই পাকিস্তানি প্রেতাত্মা বিএনপি-জামায়াতের মদদপুষ্ট হেফাজত ইসলামের নেতা মামুনুল হক জাতির জনকের ভাস্কর্য নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে বিভ্রান্তির অপরাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের ইন্ধনেই কুষ্টিয়ায় জাতির জনকের ভাস্কর্য ভাংচুর করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জায়গায় জিয়ার ভাস্কর্য রয়েছে। কিন্তু সেই ভাস্কর্য নিয়ে হেফাজত ইসলামের কোনও মাথাব্যথা নেই। শুধু বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ নিয়েই তাদের যতো রাজনীতি। জাতির জনককে নিয়ে আর যদি কোনও বক্তব্য দেয়া হয়, আর যদি ধর্মপ্রাণ মানুষকে ধর্মের দোহাই দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয় তাহলে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে হেফাজত ইসলাম ও তাদের দোসরদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করা হবে।’
এসময় সমাবেশে অন্য বক্তারা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির হৃদয়ে মিশে আছেন। ভাস্কর্য ভাংচুর করে জাতির জনককে এই জাতির মণিকোঠা থেকে সরানো যাবে না। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে, ভাস্কর্য ভাংচুর করে এই দেশে টিকে থাকা যাবে না।
সমাবেশে নেতারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাংচুরের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে সরকারের কাছে দাবি জানান।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্ব ও প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নঈম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, জহিরুল আলম দোভাষ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, মসিউর রহমান, চন্দন ধর, এড.ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম ফারুক বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশ শেষে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল আন্দরকিল্লা থেকে জামালখান হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগ, স্বেচ্চাসেবকলীগসহ দলের অঙ্গসহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
এসএস




