
কুড়িগ্রামে শীতের তীব্রতা আর ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গভীর রাত থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো ঝড়ে শিশির।
ঘন কুয়াশার কারণে যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে সড়কে। সকাল ১১টা পর্যন্ত থাকছে কুয়াশার চাদর। এতে জেলার মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষ বেশি বিপাকে পড়েছে।
ঘন কুয়াশার কারণে সকাল সকাল কাজে যোগ দেয়া শ্রমিক, রিকশাচালক, কৃষি দিনমুজুরসহ অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষ সময়মতো কাজে যোগ দিতে পারছে না। সোনাহাট স্থলবন্দরের পাথর ভাঙা শ্রমিক হাবিব, বদি ও মেনহাজ জানান, সকাল সাড়ে সাতটায় তাদের কাজে যোগ দিতে হয়।
বাড়ি থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার বাইসাইকেল চালিয়ে বন্দরে পৌঁছতে এখন তাদের অনেক কষ্ট হয়। কাজে যোগ দিতে তাদের এক ঘণ্টা দেরি হয়। ফলে তাদের আয় কমে গেছে। কৃষি শ্রমিক মোহাম্মদ আলী, রাবেয়া খাতুন জানান অতি কুয়াশার কারণে তাদের কাজ কমে গেছে।
এদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার সাড়ে চার’শ চরাঞ্চলের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। নদ-নদী এলাকায় তাদের বসত হওয়ায় শীতে তীব্রতার অনুভূতি অনেকটা বেশি। শীতের কারণে বয়স্ক ও শিশুদের কষ্ট বেড়েছে। শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তারা।
জেলা ত্রাণ শাখা সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত নয় উপজেলায় ৩৫ হাজার কম্বল এবং ৫৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে সেগুলো এখন পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে বিতরণ করা হয়নি।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষক সুবল চন্দ্র সরকার জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকালে জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৪.০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি আর আরও জানান, চলতি মাসের ১৫ তারিখের পর তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।
জেবি




