
মাদারীপুরের শিবচরে কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি। নতুন করে বাঁশকান্দি ও ভান্ডারিকান্দি ইউনিয়ন থেকে আরও দুটি পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এ নিয়ে উপজেলায় গেলো তিন মাসে সাতটি ইউনিয়নে ১৯টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। ফলে এখনও একটি ১০শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রসহ অন্ধকারে রয়েছে কয়েক শত পরিবার।
এদিকে পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে স্থানীয় থানা পুলিশকে অবহিত করার পরেও মেলছে না প্রতিরোধ। প্রতিদিনেই ঘটছে নতুন কোনও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা।
সরেজমিন ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভান্ডারীকান্দি ও বাঁশকান্দি ইউনিয়নে নতুন করে গতকাল মঙ্গলবার দিনগত রাতে দুটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। একই রাতে পশ্চিম বাঁশকান্দি এলাকা থেকে ট্রান্সফরমার চুরি করার সময় গভীর রাতে জনগণের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায় একটি সংবদ্ধ চোরচক্র।
এতে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে ওই এলাকার মানুষের মধ্যে। এর আগে উপজেলার বাঁশকান্দি, নিলখী, উমেদপুর, শিরুয়াইল, বরেহাতলা দক্ষিণ, ভান্ডারিকান্দি ও পার্শ্ববর্তী সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নসহ গেলো তিন মাসে আটটি ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুতের ১৯টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। যার মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। নতুন ট্রান্সফরমারের জন্য ভর্তুকির টাকা যোগাতে হিমশিম খাচ্ছে এসব এলাকার অনেক পরিবার।
এখনও বহেরাতলার হাজী আবুল কাশেম উকিল ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রসহ ভাণ্ডারীকান্দি ও বাঁশকান্দি এলাকার শতাধিক পরিবার বিদ্যুৎবিহীন অন্ধকারে রয়েছে। এসব এলাকায় অন্ধকারে একদিকে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ব্যহত হচ্ছে।অন্যদিকে সন্ধ্যা হলেই চুরি-ডাকাতির আতঙ্কে থাকছে এলাকাবাসী।
বাঁশকান্দির নুরুজ্জামান কাজী বলেন, আমাদের এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ার ভয়ে শিকল দিয়ে খুঁটির সঙ্গে আটকে রাখছিলাম তবু চুরি হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারিনি। এখন আমরা অর্ধ শতাধিক পরিবার অন্ধকারে বসবাস করছি। আর নতুন করে ট্রান্সফরমার আনার ভর্তুকির টাকাও যোগাতে পারবে না অনেক পরিবার। আমাদের এখানে সবাই কৃষক, ভ্যানচালক, দিনমজুর। আমার এখন বড় আতঙ্কে আছি। কখন আবার বড় ধরনের চুরি-ডাকাতির মতো বড় ঘটনা ঘটে। বহেরাতলার আফজাল হোসেন বলেন, বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবেই ভালো। সব এলাকাতেই পাকা রাস্তা ঘাট আছে। রাতের বেলা পুলিশের টহল জোরদার করলে চুরির ঘটনা ঠেকানো সম্ভব হতো।
মাদারীপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমীতির (শিবচর জোনাল অফিস) ডিজিএম মো. আকমাল হোসাইন আরটিভি নিউজকে বলেন, গেলো দুই মাসে শিবচরে বিদ্যুতের ১৯টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। চুরি ঠেকাতে আমরা উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি। জনসচেতনতা বাড়াতে এলাকায় মাইকিং করেছি। ট্রান্সফরমার চুরির কারণে এখনও একটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রসহ প্রায় একশ পরিবারের মতো মানুষ অন্ধকারে রয়েছে। অনেক গ্রাহকেই আর্থিকভাবে অসচ্ছল ভর্তুকির টাকা যোগাতে পারছে না।
এ বিষয়ে মাদারীপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) আবির হোসেন বলেন, শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে সম্প্রতি শিবচরে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির একটি চক্র সক্রিয় হয়েছে। তারা বিভিন্ন যায়গায় চুরির কাজ সংগঠিত করছে। চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারগুলো উদ্ধারসহ এই চক্রটিকে ধরার জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে এই উপজেলাটিতে এক লাখ পাঁচ হাজার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে। যার মধ্যে তিনশটি শিল্প, আট হাজার বাণিজ্যিক ও ৯৬ হাজার ৭০০টি আবাসিক মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহক রয়েছে।
জেবি




