
নতুন বছরের প্রথমদিন বই উৎসব। এদিন শিক্ষার্থীরা সকালে স্কুল থেকে বই নিয়ে ঘরে ফেরে। কিন্তু আসন্ন বই উৎসবে যশোরের সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দেওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বই উৎসবের মাত্র ছয়দিন বাকি থাকলেও শিক্ষা অফিসে বই পৌঁছেছে অর্ধেকেরও কম।
করোনার কারণে আগামী পহেলা জানুয়ারি অনলাইনে বই উৎসবের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিন দেশের প্রতিটি স্কুলেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হবে। এলক্ষ্যে ইতোমধ্যে জেলা শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সরকারি বিনামূল্যের বই পাঠিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড- এনসিটিবি। তবে বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) পর্যন্ত যশোরের চার উপজেলায় শতভাগসহ আট উপজেলায় প্রাথমিকের বই এসেছে ৬৮ দশমিক ৮১ শতাংশ। মাধ্যমিকের বই এসেছে ৪৩ শতাংশ। আর দাখিলের বই প্রাপ্তির হার মাত্র ২০ শতাংশ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার আট উপজেলায় বইয়ের চাহিদা ১৪ লাখ ১২ হাজার ৭৩৩ পিস। এর মধ্যে এসেছে নয় লাখ ৭২ হাজার ২০৩ পিস। কেশবপুর উপজেলায় এক লাখ ২৫ হাজার ৭৩০ পিস, চৌগাছায় এক লাখ ১৩ হাজার ৪৪৫ পিস, ঝিকরগাছায় এক লাখ ৭৫ হাজার ৬৫০ পিস ও শার্শায় এক লাখ ৮৫ হাজার ৪৫৭ পিস বইয়ের চাহিদা রয়েছে। যার পুরোটাই হাতে পেয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
এদিকে বাঘারপাড়ায় ৯৭ হাজার ৮০ পিস বইয়ের মধ্যে পৌঁছেছে ৬৬ হাজার ৪৩৫ পিস বই। অভয়নগরে এক লাখ ১২ হাজার পাঁচ পিস বইয়ের মধ্যে পৌঁছেছে ৭৪ হাজার ৯৬২ পিস। মণিরামপুরে দুই লাখ চার হাজার ১২৬ পিস বইয়ের মধ্যে পৌঁছেছে ৮০ হাজার ৪৫৪ পিস। যশোর সদর উপজেলায় তিন লাখ ৯৯০ হাজার ২৪০ পিস বইয়ের মধ্যে পৌঁছেছে এক লাখ ৫০ হাজার ৭০ পিস বই।
সূত্র আরও জানিয়েছে, যশোর সদর, অভয়নগর, বাঘারপাড়া ও মণিরামপুর উপজেলায় দ্বিতীয়, তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির বই এখনও পৌঁছায়নি।
তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম জানান, এ মাসের মধ্যেই সব বই তারা পেয়ে যাবেন। যথাসময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে বইও তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, যশোরে এ বছর মাধ্যমিকে ২৭ লাখ ৭৫ হাজার ১৪৬ পিস বইয়ের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে এসে পৌঁছেছে ১১ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৮ পিস বই। প্রাপ্তির হার ৪৩ শতাংশ।
এর মধ্যে যশোর সদর উপজেলার আট লাখ ৪৭ হাজার ৫৬৯ পিস বইয়ের মধ্যে এসে পৌঁছেছে তিন লাখ ৭১ হাজার ১৬৮ পিস। শার্শা উপজেলার তিন লাখ ৪৮ হাজার পিস বইয়ের মধ্যে এসে পৌঁছেছে এক লাখ ৫৯ হাজার পিস। মণিরামপুর উপজেলার চার লাখ এক হাজার ৮৫৮ পিস বইয়ের মধ্যে এসে পৌঁছেছে এক লাখ ৮৬ হাজার ৭৭৯ পিস। বাঘারপাড়া উপজেলার এক লাখ ৬৪ হাজার ৪৩৩ পিস বইয়ের মধ্যে এসে পৌঁছেছে ৮৪ হাজার ৫১০ পিস। ঝিকরগাছা উপজেলার দুই লাখ ৮০ হাজার ৯৩ পিস বইয়ের মধ্যে এসে পৌঁছেছে এক লাখ ২৫ হাজার ২৪৪ পিস। চৌগাছা উপজেলার দুই লাখ ৪৫ হাজার ৪৬০ পিস বইয়ের মধ্যে এসে পৌঁছেছে এক লাখ ১৫ হাজার ২৪৪ পিস। কেশবপুর উপজেলার দুই লাখ ১৫ হাজার ১৫২ পিস বইয়ের মধ্যে এসে পৌঁছেছে ৪৬ হাজার ২২১ পিস। অভয়নগর উপজেলার দুই লাখ ৭২ হাজার ৫৮১ পিস বইয়ের মধ্যে এসে পৌঁছেছে এক লাখ চার হাজার ৩৩৪ পিস। এছাড়া পুরো জেলার দাখিলের বই এসেছে মাত্র ২০ শতাংশ।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এএসএম আব্দুল খালেক বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) পর্যন্ত মাধ্যমিকের ৭০ শতাংশ বই হাতে পেয়েছি। আর দাখিলের বই ২০ শতাংশ এসেছে। তবে যথাসময়ে বই প্রাপ্তির জন্য এনসিটিবির সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, যথাসময়ে বই পৌঁছে দেওয়া হবে।’
এএসএম আব্দুল খালেক আরও বলেন, ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি রয়েছে। ফলে এ বছর উৎসব করে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। তবে অভিভাবকদের হাতে অথবা বাড়িতে বই পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পি




