ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউএনও-পিআইওর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

যশোর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:৪৪ এএম
ফাইল ছবি

যশোরের অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) বিরুদ্ধে উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামারকে যৌন হয়রানি ও মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী নারী কর্মকর্তা প্রতিকার চাওয়ায় তাকে 'রক্ষা করতে' বদলির আদেশ দিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর। অথচ বহাল তবিয়তে রয়েছেন ওই দুই কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, যৌন প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মানসিক নিপীড়নের পাশাপাশি তাকে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা।

এদিকে জেলা প্রশাসক বলছেন, বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযোগের একদিন পরই প্রথম শ্রেণির ওই নারী কর্মকর্তাকে মানিকগঞ্জ শিবালয় উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।

অভয়নগর উপজেলার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের সহকারী প্রোগ্রামার ওই নারী কর্মকর্তা গত ২২ ডিসেম্বর অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর কর্মস্থলে যৌন হয়রানি ও জীবননাশের হুমকির অভিযোগ দাখিল করেন। তিনি জানান, গত ৪ মার্চ তিনি অভয়নগর উপজেলায় সহকারী প্রোগ্রামার হিসেবে যোগদান করেন। কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু শুরু থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসেইন খান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ সম্পর্কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তাকেসহ অন্য সহকর্মীদের গালিগালাজ করেন যা ভাষায় প্রকাশের অযোগ্য।
এছাড়া অফিসের নির্ধারিত সময়ের পর গভীর রাত পর্যন্ত তাকে অফিসে থাকতে বাধ্য করেন। একপর্যায়ে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শরিফ মোহাম্মদ রুবেলের মাধ্যমে কুপ্রস্তাব পাঠান। তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সর্বশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। যে কারণে তিনি সম্মান ও আত্মমর্যাদা নিয়ে চাকরি করতে মহাপরিচালকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ওই নারী কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রথমে তাদের যৌন লালসার ইঙ্গিত বুঝতে পারতাম না। পরে তারা সরাসরি সঙ্গ দেয়ার প্রস্তাব দেয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইউএনও স্যারের হয়ে বলতেন আমি কেন স্যারের হতাশা দূর করি না। এই হতাশা অন্য কোনও নারী মেটাতে পারে, স্ত্রী নয়। ইউএনও স্যার আমাকে বলেছেন, প্রশিক্ষণে যাবার সময় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে আমার সাথে পাঠাবেন। করোনা প্যান্ডামিকের সময় আমি যেন পিআইওর সাথে মোটরসাইকেলে খুলনায় আসা-যাওয়া করি। কারণ আমরা দুজনই খুলনা থেকে অফিস করতে আসতাম। আমি যেতে রাজি হইনি। তাছাড়া আমার মা-বাবা আমাকে নিতে আসতেন। স্যার একদিন বললেন, ওনাদের আসার কেন দরকার? রাতে আপনাকে আকিজে সিট করে দিতে বলি। পিআইও, আমরা সবাই একসাথে না হয় থাকলাম! আমি প্রথম বুঝিনি আকিজ কী। পরে জানতে পেরেছি, আকিজ অফিসের পাশেই একটি সিটি। যেখানে হোটেলসহ অনেক কিছুই আছে। এ ধরনের অনেক নোংরা ইঙ্গিত করা হতো আমাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পিআইও সাহেব ঈদের মধ্যে আমাকে অনেককিছু কিনে দিতে চেয়েছেন। সেদিন যখন হতাশা দূর করার কথা বললেন, তখন তাকে বলেছি ভাই একেকজনের হতাশা একেকভাবে দূর হয়। আমিও হতাশ হই। তখন ঘুরে, ছবি তুলে, শপিং করে, সিনেমা দেখে হতাশা কাটাই। তিনি আমাকে তখন বললেন, তাহলে একটা ডিল করা যাক আপনি যখন হতাশ থাকবেন, তখন আমরা আপনার হতাশা কাটাবো। মানে, আমাদের টাকায় ঘুরলাম। শপিং করলাম, সিনেমা দেখলাম। আর আমরা যখন হতাশায় থকবো, তখন আপনি আমাদের একটু সঙ্গ দেবেন। এরপর আমি তার কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাই। কাজের অজুহাতে আমাকে বিকেল পাঁচটার পরও অফিস থাকতে বাধ্য করা হয়। যখন অফিসে অন্য কেউ থাকেন না। গত ২২ ডিসেম্বর বিকেল চারটা ৫২ বাজে আমি গুছিয়ে অফিস থেকে বের হচ্ছিলাম। সেসময় পিআইও সাহেব আমাকে ফোন দিয়ে জানতে চান কোথায় আছি। আমি বলি, অফিসে আছি। কি হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামীকালের জন্য একটা কাজ আজকেই করতে হবে। পাশে থেকে ইউএনও স্যার বলে দিচ্ছিলেন দুপুর ১২টার মধ্যে লাগবে। এমনিতে আমাকে কাজের নামে অনেক প্রেশার দিয়ে রাখা হতো। আমিতো আমার চাকরি, আমার দপ্তরের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। সারাক্ষণ ইউএনও স্যারের কাজে ব্যস্ত রাখা হতো।

ওই নারী কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সর্বশেষ আমি বললাম, ঠিক আছে আমি কাজটা করবো। কিন্তু আমাকে একটা জনবল দেন। ওটাতো কম্পিউটার অপারেটরের কাজ। তিনি জনবল হিসেবে জয়নাল নামে একজনের কথা বলে। আমি বলি, জয়নালকে অ্যাসিস্ট করবো, যাতে উনি কাজটা করতে পারেন। তাছাড়া আমার ওপর আপনাদের অফিসের অনেক কাজের লোড রয়েছে। তখন পিআইও বলেন, ওকে কাজ দেখালে হবে না। আপনাকেই করতে হবে। আমি জানাই, আমাকে তো ফিল্ডে রাখা হয়েছে। আমি ফিল্ডে থাকি কি না তা তদারকি করা হয়। ৪০ দিনের কর্মসৃজনের কাজে প্রতিদিন মাঠে যেতে হয়। আবার বিকেল চারটার মধ্যে ইউএনও‘কে রিপোর্ট করতে হয়। আমি ফিল্ডে না গেলে আমাকে শোকজ করা হবে। এ কাজ না করলে শোকজ করা হবে। আমি কই যাবো? আমি সেজন্য জনবল চাইলাম। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে মারপিট করে আমাকে ছিঁড়ে ফেলে দেয়ার হুমকি দেন। বলেন, তিনি খুলনার বড় রংবাজ। আমাকে দেখে নেবে। উনি আমাকে এভাবে বলতে পারেন না। আমি একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা আর পিআইও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা। উনি মূলত ইউএনও স্যারের শেল্টারে এসব বলেন। কিছুক্ষণ পর ইউএনও স্যার পিআইওকে ফোন কেটে দিতে বলেন। এরপর পাঁচটা তিন মিনিটের দিকে ইউএনও স্যারের অফিস থেকে একজন লোক একটা চিঠি নিয়ে এসে বললেন, আপনাকে থাকতে হবে। তখন আমি তালা দিয়ে অফিস থেকে বের হয়েছি। আমার সাথে আমার মা ছিলেন। তিনি বললেন, পাঁচটার পরও থাকতে হবে? তখন ওই লোকটা বললেন, কী করবো, আমরা তো হুকুমের গোলাম। তখন আমি আমার সিনিয়র স্যারদের ফোন করে বিষয়টি জানালাম। বললাম, আজও আমাকে পাঁচটার পরে থাকতে বলা হয়েছে। তখন স্যাররা আমাকে জানান, যেন আমি চলে যাই। এরপর আবার ফোন করে পিআইও আমাকে মারপিট করাসহ প্রাণনাশ এবং অভয়নগরে না ঢোকার জন্যেও হুমকি দেন। একপর্যায়ে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে এসেছি। এরপর আর অফিসে যাইনি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ছুটি নিয়েছি এবং মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগ দিয়ে সহায়তা চেয়েছি।

তিনি বলেন, ‘ডিপার্টমেন্ট আমাকে সেফ করার জন্য বদলি করছে। তবে আমি এর বিচার চাই। আমাকে এ বিষয়ে কথা না বলতে ও ফোন বন্ধ রাখতে চাপ দেয়া হচ্ছে। আমি চাপ উপেক্ষা করে ফোন খোলা রেখেছি। দুঃখ হয়, মেয়ের নিরাপত্তা চেয়ে আমার মা-বাবা থানায় জিডি করতে গিয়েছিল কিন্তু পুলিশ তা নেয়নি। আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি এর আগের স্টেশনে ইউএনও স্যারের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ছিল। আর পিআইও তো তার আগের স্টেশনে ইউএনও'র মাথা ফাটিয়েছিলেন। এজন্য তার দুই বছর বেতনও বন্ধ ছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিআইও শরিফ মোহাম্মদ রুবেল তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি। আমি কোনও কুপ্রস্তাব দিইনি। ওনাকে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করেছেন ইউএনও স্যার। আমি কাজ বুঝে নিতে চাইলে কাজ বুঝিয়ে দিতেন না। অফিস ফাঁকি দিতেন। আমি তাকে 'বোন' বলে সম্বোধন করতাম। আমি তাকে কোনও ধরনের বাজে কথা বলিনি। ইউএনও স্যার একজন ভালো মানুষ অথচ উনি (উত্তরা) আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন। এ কথা শোনার পর আমি আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম। আমার স্ত্রী সন্তান আছে। এভাবে উনি আমাদের হেয় না করলেও পারতেন।

জানতে চাইলে ইউএনও নাজমুল হুসেইন খান বলেন, সহকারী প্রোগ্রামার কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকে অফিসে সময় দিতেন না। মহান বিজয় দিবসের দায়িত্ব। করোনার দায়িত্ব তিনি পালন করেন না। সর্বশেষ তাকে ৪০ দিনের কর্মসৃজনের কাজে ট্যাগ অফিসার নির্ধারণ করা হয়। এতে তিনি ফাঁকি দিতে পারছিলেন না। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ঘর দেয়ার প্রকল্পের একটি চিঠি দেয়ার শেষ দিন ছিল ২৩ ডিসেম্বর। ২২ ডিসেম্বর পিআইও তাকে ফোন দিয়েছিলেন। তাকে কাজটা করে দিতে সহযোগিতার অনুরোধ করেন। কিন্তু পাঁচটা বাজায় সহকারী প্রোগ্রামার উত্তরা শতদ্রু অফিস ত্যাগ করেন। এনিয়ে তাদের কথা কাটাকাটি হয়েছে। এসময় উভয়ে কিছু আপত্তিকর কথা বলেছে। কিন্তু উত্তরা অডিও এডিট করে অপপ্রচার শুরু করেছে।

তিনি বলেন, কোনও প্রমাণ ছাড়াই আমাকে জড়িয়েও আপত্তিকর অভিযোগ দেয়া হয়েছে। আমার রুমে সিসি ক্যামেরা দেয়া আছে। আমিসহ অফিসে আগত সকলকে দেখা যায় ও সবকিছু রেকর্ড করা হয়। কেউ কখনো বলতে পারবে না, আমি কোনও নারী সহকর্মী বা পুরুষ সহকর্মীর সাথে বাজে ব্যবহার করেছি। আপনারা গোপনে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন।

ইউএনও আরও বলেন, ছুটি কাটাতে না পারায় তিনি আমাকে জড়িয়ে এসব অভিযোগ করছেন। আমার জানা মতে, পিআইও তাকে কখনো উত্ত্যক্ত করেননি। তারপরও বিষয়টি তদন্ত হোক। তাহলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। এছাড়া এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন আমি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠিয়েছি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, আমি অভিযোগটি শুনেছি। এটা তদন্ত না করে কিছু বলা যাবে না। তবে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

জিএম/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শিক্ষকের পরিবারের নারী সদস্যকে গালিগালাজ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন
মাদারীপুরে একেডি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র নাগ ও তার পরিবারের নারী সদস্যকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থী-শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।  বৃহস্পতিবার কালকিনি উপজেলার ডাসার থানাধীন দর্শনা বাজারে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে প্রধান শিক্ষক ও তার পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়ার প্রতিবাদ জানানো হয়।  এ সময় বক্তারা দ্রুত এই ঘটনার সাথে জড়িত ও অভিযুক্ত ডাসার ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজের বিচার দাবী করেন। গত ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের কমিটি করাকে কেন্দ্র করে কালকিনি উপজেলার ডাসার ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজ একেডি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র নাগের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের নারী সদস্যসহ প্রধান শিক্ষককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরই প্রতিবাদ ও দোষীর বিচারের দাবীতে অনুষ্ঠিত হয় এই মানববন্ধন। উল্লেখ, ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর ইয়াবাসহ ডাসার থানা পুলিশের হাতে আটক হয় ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজ। পরে পুলিশের দায়ের করা মামলায় তাকে পাঠানো হয় কারাগারে। এর আগে ২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর চুরি, ডাকাতি ও অস্ত্র মামলায় তাকে গ্রেফতার করে জেলার  গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বিক্রিসহ নানা অভিযোগে এনে পদত্যাগ দাবী করে একাধিকবার বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। তবুও টনক নড়েনি প্রশাসনের। জিএ
শিক্ষকের পরিবারের নারী সদস্যকে গালিগালাজ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন করা হয়েছ। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে উপকূলীয় জেলা বরগুনায় নির্মাণ করা হয়েছে এ জাদুঘরের। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন নকশার একশ’টি নৌকার অনুকরণে শুরু হল এই জাদুঘরের। বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন ৭৮ শতাংশ জমির ওপর স্থাপন করা হয়েছে জাদুঘরটি। বিশাল নৌকার আদলে তৈরি এ জাদুঘরটির দৈর্ঘ্য ১৬৫ ফিট এবং প্রস্থ ৩০ ফিট। এখানে থাকবে নৌকা গবেষণা কেন্দ্র, আধুনিক পাঠাগার, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, শিশু বিনোদন কেন্দ্র এবং ফুড কর্নারসহ নানা আয়োজন। জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টায় মহামারি করোনা প্রতিকূলতার মাঝেও মাত্র ৮১ দিনে সম্পন্ন হয় দেশের প্রথম নৌকা জাদুঘর নির্মাণের কাজ। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকালে জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। এসময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদীমাতৃক দেশের প্রধান বাহক হিসেবে হাজার হাজার বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে এই নৌকা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দুঃসাহসিক বিভিন্ন অভিযানে নৌকা ব্যবহার করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে এই নৌকা। বঙ্গবন্ধু জাদুঘরটির মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন অনুকরণের নৌকার দেখা পাবে দেশের নতুন প্রজন্মরা- এমনটাই ভাবছেন স্থানীয় সচেতন মহল। জিএ 
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক হত্যকান্ডে জড়িত এক ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ।  বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে শহরের চন্ডিবের খাঁ বাড়ি এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৮ঘন্টা পর পুলিশ ঘটনার মুলহোতা এবং শহরের চিহ্নিত ছিনতাইকারী ইমনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ইমন পৌর শহরের ভৈরবপুর মধ্যপাড়ার আড়াই বেপারীর বাড়ির মৃত মাসুদ মিয়ার ছেলে।  আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন।  জানা গেছে, শহরের দুর্জয় মোড়ের পূর্ব পাশে গত সোমবার রাত সাড়ে দশটার দিকে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নিহত শ্রমিক সুনামগঞ্জের বিশম্ভপুর উপজেলার বাঘগাঁও গ্রামের হিরু মিয়ার ছেলে। বিয়ের মাত্র দুই মাস পর নিহত এহসানুল তার এক চাচাসহ তারা দু’জন গত দু’সপ্তাহ আগে ভৈরবে কাজের সন্ধানে এসে ছিলেন। পরে কয়েক দিন শ্রমিকের কাজ করে কিছু টাকা জমান। পরে জমানো টাকা নিয়ে গত সোমবার রাতে তারা দুর্জয় মোড় থেকে বাড়ী যাবার সময় বাসে উঠার আগে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে। একই সাথে ছিনতাইকারীদের ধারালো ছুরির আঘাতে এহসানুল গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।  এ ঘটনায় পরের দিন মঙ্গলবার দুপুরে উত্তেজিত শত শত কয়লা শ্রমিকরা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ফেরিঘাট থেকে মিছিল নিয়ে শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্জয় মোড় প্রদক্ষিণ করে ভৈরব থানায় প্রবেশ করে। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিলে তারা ফিরে যায় এবং কাজে যোগ দেয়।  এছাড়াও এদিন (মঙ্গলবার) রাতেই নিহতের চাচা আজিজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দু’জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুঠোফোনে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ মাঠে নামে এবং প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। জিএ
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
চট্টগ্রামের আকবরশাহ এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী নুরুর ১১ সহযোগীকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর ৫টার দিকে ঝিল এলাকার গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, ছুরি, চাপাতি সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। গত শনিবার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ১৭ মামলার আসামি নুরুকে খুঁজতে গেলে পুলিশের উপর হামলা চালায় তার সহযোগীরা। এ সময় ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। এসময় আটক করা হয় নুরুর সেকেন্ড ইন আজমকে।  আটককৃতদের মধ্যে হামলার ঘটনায় কয়েকজন জড়িত বলে জানিয়েছেন আকবরশাহ থানার ওসি জহির হোসেন।   পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় শনিবার রাতে আকবর শাহ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঝিল এলাকায় সরকারী পাহাড়া কেটে আলিশান বাড়ী, সেমিপাকা ঘর, মসজিদ, এতিমখানা ও গরু-ছাগলের খামার তৈরি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে নুরুর বিরুদ্ধে। জিএ
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ: সিআইডির চার্জশিট, নাম নেই তিতাস কর্মকর্তাদের
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রায় চার মাস তদন্ত শেষে পুলিশের দায়ের করা মামলায় ২৯ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি পুলিশ। তবে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে তিতাস গ্যাসের অভিযুক্ত ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির নারায়ণগঞ্জ শাখার তদন্ত দল। চার্জশিটে প্রধান আসামি করা হয়েছে ওই মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল গফুর মিয়াকে (৬০)।  মামলায় প্রধান আসামি আবদুল গফুর মিয়া ছাড়াও অন্যান্য আসামিরা হলেন- সামসুদ্দিন সরদার (৬০), শামসু সরদার (৫৭), শওকত আলী (৫০), অসিম উদ্দিন (৫০), জাহাঙ্গীর আলম (৪০), শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল (৪৫), নাঈম সরদার (২৭), কাইয়ুম (৩৮), মামুন মিয়া (৩৮), আলমগীর সিকদার (৩৫), মাওলানা আল আমিন (৪৫), সিরাজ হাওলাদার (৫৫), নেওয়াজ মিয়া (৫৫), নাজির হোসেন (৫৬), আবুল কাশেম (৪৫), দেলোয়ার হোসেন, বশির আহমেদ (হৃদয়) (২৮), তানভীর আহমেদ (৪৫), আল আমিন (৩৫), আবদুল মালেক (৫৫), মনিরুল (৫৫), স্বপন মিয়া (৩৮), আসলাম আলী (৪২), আলী তাজম (মিল্কী) (৫৫), রিমেল (৩২), আরিফুর রহমান (৩০), মোবারক হোসেন (৪০) ও রায়হানুল ইসলাম (৩৬)।  তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। সিআইডি পুলিশের নারায়ণগঞ্জ জেলার বিশেষ পুলিশ সুপার নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরকারি বিধিনিষেধ থাকায় তিতাসের অভিযুক্ত আট কর্মকর্তা-কর্মচারিকে আপাতত চার্জশীটে লিপিবদ্ধ করা না হলেও তাদেরকে মামলায় রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে  অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন পেলেই তাদেরকে আসামি হিসেবে চার্জশীটে সম্পৃক্ত করা হবে। তবে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি তিনি। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, সিআইডি আদালত পুলিশের কাছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চার্জশিট জমা দিয়েছে। রোববার তা আদালতে পেশ করা হবে। উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে এশার নামাজ চলাকালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মসজিদের অভ্যন্তরে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ থেকে স্পার্ক ও অবৈধ গ্যাস পাইপ লাইনের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসের মিশ্রনে এই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি পুলিশ। এই বিস্ফোরণে ৩৭ জন গুরুতর দ্বগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তাদের মধ্যে ৩৪ জন মারা যান। জিএ
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ: সিআইডির চার্জশিট, নাম নেই তিতাস কর্মকর্তাদের
আরও পড়ুন
রাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ: তদন্ত কমিটিতেই সীমাবদ্ধ
রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যা মামলা: কেন গাম্বিয়ার পাশে কানাডা-নেদারল্যান্ডস?
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ছেলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা
নারীর সামনে বিবস্ত্র হয়ে ‘ভাইরাল’ সেই কিশোর কারাগারে