
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যাত্রীবেশী ডাকাত দলের সরদারসহ ৪ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে পিবিআই কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
টাঙ্গাইল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমিন জানান, ২৮ ডিসেম্বর আমাদের কাছে একটি অভিযোগ আসে। তার ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি
গত ২২ ডিসেম্বর রাতে করটিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একটি প্রাইভেটকারে পাবনা জেলার সাথিয়া থানার সাথিয়া তাঁতী পাড়া এলাকার মো. মিজানুর রহমানের ছেলে মো. মাহতাব হোসেনকে ১৫০ টাকা ভাড়ায় সিরাজগঞ্জ পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে রওনা দেয়।
এসময় আরও দুই যাত্রীবেশী ডাকাত সদস্যকে প্রাইভেটকার এ তুলে। পরে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড পার হয়ে নির্জন স্থানে পৌঁছালে গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীবেশী ডাকাত দলের সদস্যরা মাহতাব হোসেনকে হাত পা কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলে। এরপরে তার দেহ তল্লাসি করে দুটি মোবাইল ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয়। পরে মাহতাবকে হত্যার হুমকি দিয়ে তার বাবার কাছ থেকে ২৪ হাজার টাকা মোবাইল এ বিকাশ করতে বলে। বিকাশে ২৪ হাজার টাকা আসার পর তা ক্যাশ করে মাহতাবকে কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক এলাকায় ফেলে চলে যায় ডাকাতরা।
অপর দিকে টাঙ্গাইল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার মহড়ায় কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক মো. বেলাল হোসেনর সাথে একই কায়দায় প্রাইভেটকারে উঠিয়ে মারধরসহ হত্যা করার ভয় দেখিয়ে নগদ ৪৪ হাজার টাকা ও পরে বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা আদায় করে বেলাল হোসেনকে রাস্তার পাশে ফেলে চলে যায়।
.jpg)
এ দুই ঘটনার জের ধরে তথ্য প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িত আসামিদের ঢাকার মিরপুর, মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর, গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় পৃথক পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে ডাকাত সরদার নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ থানার তেঁতুলিয়া গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে সোহেল রানা (৩৬), ডাকাত দলের সদস্য ভোলা জেলার ইলিশা গ্রামের মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. মিজান (৩৩), মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার বাসাইল উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত সুলতান ব্যাপারীর ছেলে সাবাস (৩২) এবং নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার বান্নানাল গ্রামের মৃত হযরত আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩২) কে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় ডাকাত করার কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার এবং লুট করা মোবাইল ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। সেই সাথে গ্রেপ্তারকৃত ডাকাত দলের সদস্যরা জানায় তারা দীর্ঘ দিন ধরে
গাবতলী থেকে পাবনা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এ কাজ করে আসছিলো। এ পর্যন্ত তাদের কেউ আটক করতে পারেনি। তারা বিভিন্ন কোড নাম ও কৌশল ব্যবহার করায় তাদের নামে কোন মামলাও হয়নি বলে জানান পুলিশ সুপার।
জিএম/জিএ




