
নড়াইলে মুক্তিযোদ্ধা মোয়াজ্জেম হোসেনের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের নেয়া চুরি মামলাটি অবশেষে প্রতিবাদের মুখে ডাকাতি মামলায় নেয়া হলো।
কালিয়া নড়াগাতি থানার কলাবাড়িয়া গ্রামের এই ঘটনাটিতে প্রাথমিক তদন্তের নামে পুলিশ চুরির অভিযোগ লিখে মুক্তিযোদ্ধাকে দিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে ডাকাতির ঘটনায় চুরি মামলাটি দায়ের করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, গেলো ২০ নভেম্বর রাত আড়াইটার দিকে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ৮-১০ জনের একদল ডাকাত তার বসতঘরের কলাপসিপল গেটের তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে স্ত্রীসহ তাকে বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও মারপিট করে। পরে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ আট লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেয়।
পরদিন ২১ নভেম্বর তিনি তার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ডাকাতদের আসামি করে নড়াগাতি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু তাতে পুলিশের কোনও সাড়া না মেলায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটি নড়াইল জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানালে পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে এবং তাকে আবার লিখিত অভিযোগ থানায় জমা দিতে বলেন। তিনি ২৩ নভেম্বর সকাল ১০টার দিকে ওই থানায় অজ্ঞাতনামা ডাকাতদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দিলে ওসি সেটিকে সংশোধনের জন্য অধিনস্তদের হাতে তুলে দেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ওই মুক্তিযোদ্ধাকে বসিয়ে রেখে তার দেয়া ডাকাতির ঘটনার অভিযোগটি পরিবর্তন করে‘ডাকাতির স্থলে ৮-১০ জন আসামি আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চুরি করার উদ্দেশ্যে বসত ঘরের কলাপসিপল গেটের তালা ভেঙে সংগোপনে ঘরে প্রবেশ করে এবং জোর করে নগদ টাকাসহ মালামাল নিয়ে যায়।
এইভাবে পুলিশ তাদের ইচ্ছেমত লিখে বাদীর আপত্তি সত্ত্বেও থানায় বসে ওসি ২৬ নভেম্বর স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে ৪৫৮/৩৮০ ও ৩৮২ ধারায় নড়াগাতি থানার একটি চুরির মামলা করেন।
পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই খান মাহাবুবুর রহমান সম্প্রতি আদালতে ধারা পরিবর্তনের আবেদনের মাধ্যমে ওই মামলার ধারা পরিবর্তন করে ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারা বসিয়ে সেটিকে ডাকাতি মামলায় রুপান্তরিত করা হয়েছে বলে ওই থানা সূত্রে জানা গেছে।
মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা নড়াগাতি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বলেন, চুরি থেকে ডাকাতিতে রুপান্তরিত মামলাটির তদন্ত আমি নিজে শুরু করেছি। ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন দুই ডাকাতকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তাদের কাছ থেকে দরজার তালা ভাঙার কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
উপজেলার নড়াগাতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকসানা খাতুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা মোয়াজ্জেমের দায়েরকৃত মামলাটি চুরির ঘটনা হিসেবে রেকর্ড করা হলেও তদন্তকালে ঘটনাটি ডাকাতি হিসেবে প্রতীয়মান হওয়ায় সেটিকে ডাকাতি মামলায় রুপান্তরিত করা হয়েছে।
জেবি




