
বিক্রি হবে ‘রাজা’। তবে এ রাজা কোনো রাজ্যের নয়। আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য লালন-পালন করা একটি ষাঁড়ের নাম ‘রাজা’। কালো ও সাদা রঙের সুঠাম স্বাস্থ্যের ষাঁড়টির দৈর্ঘ্য সাড়ে ৭ ফুট, উচ্চতা ৪ ফুট। ওজন ২৫ মণ। ষাঁড়টির মালিকের আশা, রাজাকে বিক্রি করবেন ১৪ লাখ টাকায়।
ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটি দেশিয় পদ্ধতিতে নিজের বাড়িতে মোটাতাজা করেছেন নওগাঁর ধামইরহাট পৌরসভার চকময়রাম এলাকার বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম। তিনি পেশায় স্কুলশিক্ষক। ধামইরহাট চকময়রাম মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তিনি। শহীদুলের লালন-পালন করা বিশাল আকৃতির ষাঁড়টি দেখার জন্য প্রতিদিন মানুষ ভিড় করছে তার বাড়িতে।
২০১৭ সালের ৮৫ হাজার টাকায় হলেস্টাইন ফ্রিজিয়ান জাতের একটি গাভী কিনে পালন শুরু করেন শহীদুল। একই জাতের একটি ষাঁড়ের সিমেন ব্যবহার করে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ২০১৮ সালে ষাঁড়টির জন্ম হয়। জন্মের পর দেশিয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করার প্রক্রিয়া শুরু করেন তিনি। প্রয়োজন মতো খাবার ও পরিচর্যা করায় গরুটির আকৃতি বাড়তে থাকে। দিনে দিনে গরুটির ওজন বেড়ে ২৫ মণের (১ হাজার ২৪ কেজি) ওপরে এসে দাঁড়ায়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার ডিজিটাল স্কেলের মাধ্যমে গরুটির ওজন মাপা হয়েছে। এবার কোরবানি উপলক্ষে গৃহপালিত রাজাকে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শৌখিন খামারি শহীদুল।
শহীদুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে বলেন, আমার বাবা একজন মধ্যবিত্ত কৃষক ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই বাড়ির গোয়ালে সব সময় গরু দেখে আসছি। লেখাপড়ার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই গরু লালন-পালনে মা-বাবাকে আমি সহায়তা করতাম। আমার মনে আছে, ছোটবেলায় বাবা আমাকে ছাগল কিনে দিতেন। ওটা লালন-পালন করে বিক্রি করে যে লাভ থাকত, সেটা আমাকে দিয়ে দিতেন। এভাবে দুই-এক বছর পরপরই বাবা আমাকে ছাগল কিনে দিতেন, আর আমি সেটা লালন-পালন করতাম।
শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হওয়ার পর বাড়িতে গরু ও ছাগল লালন-পালন করার শখটা তার থেকেই যায়। শহীদুলের বাড়িতে চার থেকে পাঁচটি গরু প্রায় সব সময় থাকে। এসব গরু লালন-পালন করে বাড়ির দুধের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিক্রি করে ভালো টাকা আয় করেন তিনি।
রাজার লালন-পালনের বিষয়ে শহীদুল ইসলাম বলেন, কাঁচা ঘাস, খড়, গমের ভুসি, চালের কুঁড়া, ভুট্টা, ডালের গুঁড়া, তৈলবীজের খৈল, ছোলা ও খুদের ভাত। সব মিলে দিনে ৩৫-৪০ কেজি খাবার খায় রাজা। শুরুর দিকে খাবার কম খেলেও দিনে দিনে তার খাবারের চাহিদার পরিমাণ বেড়ে যায়। রাজার পাশাপাশি বর্তমানে তার পারিবারিক খামারে আরও পাঁচটি গরু আছে। এসব গরুর মধ্যে ফ্রিজিয়ান ও দেশি জাতের দুটি গাভী এবং দেশি জাতের তিনটি ষাঁড় আছে। দেশি জাতের ষাঁড় আগামী বছর কোরবানির ঈদে বিক্রি করার জন্য লালন-পালন করা হচ্ছে।
তিনি আরটিভি নিউজকে আরও বলেন, পরিবারের একজন সদস্যের মতো করে গরু লালন-পালন করতে হয়। পরিবারের সবাই মিলে যত্ন করে ষাঁড়টি বড় করা হয়েছে। এর চালচলন ও সুঠাম স্বাস্থ্য দেখে ষাঁড়টিকে তারা ‘রাজা’ বলে ডাকেন। রাজার পেছনে তিন বছরে অনেক শ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে তাদের।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এমরান আলী প্রামানিক আরটিভি নিউজকে বলেন, শহীদুল ইসলামের ষাঁড়টি জার্মানির হলেস্টাইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরু। এ জাতের গরুর ওজন প্রায় ৩০ মণ পর্যন্ত হতে পারে। এসব ষাঁড় থেকে মাংস পাওয়া যায় মোট ওজনের ৭০-৭৫ শতাংশ। ষাঁড়টিকে দেশিয় খাদ্য খাওয়ানোর ফলে এর মাংস সুস্বাদু হওয়ার কথা।
এমআই




