
বিকাশে জমা হওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন একটি প্রতারকচক্র। এই চক্রের মূল টার্গেট প্রত্যন্ত গ্রামের শিক্ষার্থীরা। যা ইতোমধ্যে পাবনার বেড়া উপজেলার শিক্ষার্থীরা প্রতারকচক্রের ফাঁদে পড়ে উপবৃত্তির টাকা হারিয়েছেন।
জানা গেছে, প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ কিছুটা অসচেতন হওয়ায় প্রতারকরা সহজেই বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বরসহ নিয়ে নিচ্ছেন। গত এক সপ্তাহে পাবনার বেড়া উপজেলার প্রায় ৩২ জন শিক্ষার্থীর টাকা চক্রের হাতে চলে গেছে।
শিক্ষার্থী ও বিকাশ এজেন্টরা বলেন, সপ্তাহ খানেক হলো সপ্তম, অষ্টম, নবম ও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে উপবৃত্তির টাকা এসেছে। এর মধ্যে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি ও করোনাকালীন সহায়তা মিলিয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা করে পেয়েছে। কিন্তু প্রতারক চক্ররা বেশ কিছু শিক্ষার্থীর টাকা উত্তোলন করেছেন।
জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা বিকাশ অ্যাকাউন্টে আসার পর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে প্রতারকরা ফোন দেন। পরে অ্যাকউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলে বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর হাতিয়ে নেয়।
বৃহস্পতিবার (০১ জুলাই) উপজেলার কাশিনাথপুর ফুলবাগান মোড়ে বিকাশের কাস্টমার কেয়ারের সামনে দাঁড়ানো একাদশ শ্রেণির তিন শিক্ষার্থী জানায়, বিকাশের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি কৌশলে তাদের কাছ থেকে পিন নম্বর নিয়ে উপবৃত্তির সব টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ কারণে তারা এখন বিকাশের কাস্টমার কেয়ারে এসেছে। কিন্তু এখানে এসে কোনো লাভ হচ্ছে না। এ রকম অনেক শিক্ষার্থী প্রতারণার ফাঁদে পড়ে উপবৃত্তির টাকা নিজে আর উত্তোলন করতে পারেনি।
বিকাশ কাস্টমার কেয়ারের কাশিনাথপুর শাখার ইনচার্জ মো. অপু হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা প্রতারকরা উত্তোলন করছেন এমন অভিযোগ আসছে। কিন্তু এখানে তো আমাদের কিছু করার নেই। এসব অভিযোগ আমরা লিখে রাখছি।
এব্যাপারে আমিনপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী বলেন, থানায় এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই কথা বলেন বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সবুর আলী।
এফএ




