
ফেনীতে পাখা না ঘোরা ও চুক্তি নবায়ন না করার অজুহাতে ফের বন্ধ হয়ে গেছে ফেনীর সোনাগাজীতে নির্মিত দেশের প্রথম বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প। এতে করে প্রায় ৬ মাস বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম। এ নিয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবিসহ সংশ্লিষ্ট কারও ভ্রুক্ষেপ নেই।
জানা গেছে, ২০০৪ সালে সোনাগাজী উপজেলার মুহুরি সেচ প্রকল্পের অদূরে থাক খোয়াজের লামছি মৌজায় দেশের প্রথম বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মিত হয় । যার উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ছিল ঘণ্টায় নয়শ কিলোওয়াট (০.৯ মেঘা)। প্রকল্প নির্মাণে খরচ হয় প্রায় ৭ কোটি টাকা। নির্মাণ করেন ভারতের নেবুলা টেকনো. সল্যুশন কোম্পানি।
নির্মাণের কয়েক মাস পরেই অচল হয়ে যায় প্রকল্পটি। গত ২০০১ সালের ১/১১ এর সময় প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকেরা দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় কিছু যন্ত্রাংশ বিক্রি করে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর এই পাইলট প্রকল্পটি ফের চালুর উদ্যোগ নেয়। প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি মেরামত করে, প্যানএশিয়া পাওয়ার সার্ভিস কোম্পানির সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রায় ৬ বছর উৎপাদন কার্যক্রম চলে।
মিটারের তথ্যমতে, শুরু থেকে এ পর্যন্ত এই প্রকল্পে উৎপাদিত ৮ লাখ ৮৮ হাজার কিলোওয়াট বা ৮৮৮ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রকল্পটির চারটি চাকা দীর্ঘদিন ঘুরেনি। এখানে গাজী কেফায়েত উল্যাহ নামে একজন কর্মচারি প্রকল্পটি দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি আরটিভি নিউজের কাছে অভিযোগ করেন, প্রায় সাতমাস তার বেতন বন্ধ। বেতন বন্ধ থাকায় তিনি ভবঘুরে জীবন অতিবাহিত করছেন।
প্যানএশিয়া পাওয়ার সার্ভিস কোম্পানির পরিচালক ফজলুর রহমান আরটিভি নিউজকে বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ৬ বছর উৎপাদন সঠিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছিলো। গতবছর নভেম্বর মাসে চুক্তি শেষ হয়। চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে বারবার জানানোর পরও পিডিবি চুক্তি নবায়ন করতে রাজি হয়নি।
এভাবে বন্ধ থাকলে নষ্ট হতে পারে দেশের প্রথম বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পের অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ।
এ ব্যাপারে পিডিবি ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম বলেন, এ অঞ্চলে বাতাস কম। বাতাস ছাড়া পাখা ঘোরে না। আর পাখা না ঘুরলে লক্ষমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন হয় না। উৎপাদনের তুলনায় খরচ অনেক বেশি। তাই পিডিবি উৎপাদন সংস্থার চুক্তির নবায়ন করছে না।
তবে সোনাগাজীর উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন করে আরও একটি একশত পাখা সম্পন্ন একশ মেঘাওয়াট ক্ষমতার বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।
এমআই/পি




