
জামালপুরের ইসলামপুরে পিটিয়ে এক যুবককে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জিজ্ঞেসবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (২৫ জুলাই) সকালে জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের চতলাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে বেলা ১২টার দিকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তি উপজেলার চতলা পাড়া গ্রামের মো. খলিল মিয়ার ছেলে আবদুল আওয়াল (১৮)। তিনি ড্রেজার শ্রমিক ছিল। আটককৃত ব্যক্তি একই গ্রামের শরাফত আলীর ছেলে ফারুক।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আওয়াল শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাজারে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে। কোনো সন্ধান না পাওয়ায় সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। আজ সকালে বাড়ির পাশে স্থানীয় লোকজন ওই যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে দেন। নিহতের শরীরে বালু লেগে থাকায় শরাফত আলীর বাড়ির পাশে বালুর একটি মাঠে ৩টি জায়গায় ধস্তাধস্তির ছাপ ও রক্তের দাগ লেগে আছে বলে বৃত্তাকার চিহ্ন দিয়ে রাখেন স্থানীয় লোকজন।
নিহতের মা ও আত্মীয়রা জানান, প্রায় ২ মাস আগে তাদের বাড়ির পাশে পাট চাষ করে শরাফত আলী। পাট ক্ষেতে দেশি পাটের চাষ করায় স্থানীয় লোকজন শাক হিসেবে তা তুলে আনে। পরে পাট শাক তুলাকে কেন্দ্র করে শরাফত আলীর ছোট ছেলে ইকরামুলের সঙ্গে আওয়ালের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। সেই সময় আওয়ালকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয় ইকরামুল। সে ঘটনায় আওয়ালকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। তারা হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানান।
এ ঘটনায় ইকরামুল আরটিভি নিউজকে জানান, গতকাল রাতে ৮টার দিকে ঘুমিয়ে পড়ছি। সকালে ঘুম থেকে উঠে আওয়ালের মারা যাওয়ার ঘটনা শুনে দেখতে যায়। আমার সঙ্গে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা।
ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজেদুর রহমান আরটিভি নিউজকে জানান, নিহত আওয়ালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন করা হয়েছে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে যেখান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে হামলা-স্থল এখানে না। অন্য কোথাও তার ওপর হামলা করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
জিএম




