
শরীয়তপুরে রাতে হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ করোনা আক্রান্ত এক রোগীর লাশ ৫ দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২১ আগস্ট) বেলা ১১টায় জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পূর্ব পাশের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ব্যক্তি জাজিরা উপজেলার পূর্ব আড়াচন্ডি ঠাণ্ডার মোড় এলাকার মৃত আমির ফকিরের ছেলে সোনামিয়া ফকির (৭০)। তিনি পেশায় একজন রিকশা চালক ছিলেন।
জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জাজিরা থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট সোনামিয়া করোনা এন্টিজেন পরীক্ষা করলে পজেটিভ হয়। পরে করোনা আক্রান্ত হলে ওই দিনই চিকিৎসার জন্য জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ আগস্ট গভীর রাতে সোনামিয়া সেখান থেকে নিখোঁজ হন।
এদিকে শনিবার (২১ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পূর্ব পাশের একটি পরিত্যক্ত ডোবায় স্থানীয়রা লাশটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়।
নিহত সোনামিয়া ফকিরের ছেলে আ. রহমান ফকির আরটিভি নিউজকে বলেন, গত ১০ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে আমার বাবাকে জাজিরা হাসপাতালের তৃতীয় তলার করোনা কেবিনে ভর্তি করি। এছাড়া ১৬ আগস্ট রাত ১১টার দিকে বাবাকে ওয়ার্ডে দেখে আসি। তারপর থেকে বাবা নিখোঁজ। হাসপাতাল থেকে কিভাবে রোগী নিখোঁজ হয়?
তিনি আরও বলেন, আজ শনিবার বাবার লাশ পাওয়া গেছে। বাবার গায়ে কয়েকটি কোপের দাগ দেখা গেছে। তার মানে বাবাকে খুন করা হয়েছে। আমরা বাবার খুনের বিচার চাই।
জাজিরা থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শামসুল হক আরটিভি নিউজকে বলেন, আমরা সোনামিয়ার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। লাশের গায়ে বেশ কয়েকটি দাগ পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বলা যাবে তার সঙ্গে কি হয়েছিল।
জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রোমান বাদশাহ্ আরটিভি নিউজকে বলেন, সোনামিয়া করোনা পজেটিভ ছিল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা তার কোন খবর নেননি। তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। পরে কি হয়েছিল জানা নেই। আজ শনিবার লাশ পাওয়া গেছে।
জিএম




