
নাগেশ্বরীতে নির্বাচনী কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা সেই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীকে পৃথক দুটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়ে তাকে এ নোটিশ প্রদান করা হয়।
আগামী ২৮ নভেম্বর তৃতীয় দফা অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনে কেদার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটরসাইকেল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কচাকাটা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান। শনিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে বিষ্ণুপুর নয়আনা গ্রামে তিনি তার বাড়িতে শিক্ষার্থীদের ডাকেন। পরে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে মাদারগঞ্জ-ভূরুঙ্গামারী সড়কের কচাকাটা বাজার, কেদার ইউনিয়ন পরিষদ মোড় হয়ে দীর্ঘ ৪ কিলোমিটার পথ হেটে তার বাড়িতে যায়। সেখানে তাদের নিয়ে নির্বাচনী বৈঠক করেন প্রধান শিক্ষক। বৈঠকে ওই স্বতন্ত্র প্রার্থী শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে মোটরসাইকেল প্রতীকে তাদের বাবা-মা ও আত্মীয় স্বজনের ভোট চান। এ বিষয়টি প্রকাশ পায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে।
রোববার (১৪ নভেম্বর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর আহমেদ মাছুম বিষয়টি অবগত হয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেদার ও কচাকাটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ২০২১ এর রিটার্নিং কর্মকর্তা সিনিয়র মৎস্য অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে দুটি পৃথক পত্র দেন। ওই দিনেই মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুর রহমানকে ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা ২০১৬ বিধি ১১(২) ভঙ্গের দায়ে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। এতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে তার লিখিতভাবে ব্যাখ্যা চেয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়।
অপরদিকে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম তাকে আরও একটি নোটিশ প্রদান করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয় চলাকালীন ছাত্রীদের নিজ বাড়িতে আপ্যায়ন, তাদেরকে নির্বাচনী মিছিল ও প্রচারণার কাজে সম্পৃক্ত করা বিদ্যালয় পরিচালনার সম্পূর্ণ বিধি-লঙ্ঘন। এ বিষয়ে নোটিশ প্রাপ্তির ৩ কর্ম-দিবসের তা লিখিতভাবে জানাতে নির্দেশ দেয় হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রার্থী ও প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর আহমেদ মাছুম আরটিভি নিউজকে বলেন, বিষয়টি অবগত হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা সিনিয়র মৎস্য অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা সিনিয়র মৎস্য অফিসার শাহাদৎ হোসেন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কামরুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে জানান, চিঠি প্রাপ্তির পরে ওই প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
জিএম/এসকে




