
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পার্শ্ববর্তী শেখপাড়া এলাকার এক মেসে স্থানীয়দের দ্বারা হামলার শিকার হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৫ শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী ত্রিবেণী এলাকার রবিউল ইসলাম মেসে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জন এ হামলা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের কামাল উদ্দিন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সুলতান মাহমুদ, ভূগোল বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের জুয়েল রানা, সমাজকল্যাণ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাজহারুল ইসলাম নাঈম ও দাওয়াহ বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের আব্দুর রহমান।
আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে প্রক্টরিয়াল বডির উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় দেড় ঘন্টা পর পরিবেশ শান্ত হলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় সহকারী প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলাম।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) রাতে এ ঘটনা শুনে পার্শ্ববর্তী মেসের শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়রা তাদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় স্থানীয়রা জড়ো হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ করার জন্য এগিয়ে আসে। এমনকি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলা করার প্রস্তুতি নেয়।
পরে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনার দেড় ঘণ্টা পর শৈলকুপা থানার পুলিশ উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন। পাশাপাশি পুলিশ বুধবার (৮ডিসেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বিষয়টি সুরাহা করার আশ্বাস দেন। আহত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী কামাল উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) রাতে খাওয়া শেষে আমরা রুমে বসে গল্প করার সময় জাহিদ ভাই এসে আমাকে ডাকে। আমি বের হওয়ার পর মেসের সামনে উনি আচমকা আমার ওপরে চড়াও হয়।
উনি অভিযোগ করেন, গত রাতে আমাদের চেঁচামেচিতে ওনাদের ঘুম ভেঙে গেছে। আমি তখন বলি গত রাতে তো আমরা তেমন চেঁচামেচি করিনি। তবে যদি হয়েও থাকে আমরা পরবর্তীতে সতর্ক থাকব। তখন তিনি আবারও রেগে যান।
তখন আমার পাশে থাকা এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা এমন চেঁচামেচি করিনি। তিনি ওই শিক্ষার্থীর ওপরেও চড়াও হন। এ সময় তিনি বলতে থাকেন, বুঝেছি তোমাদের এভাবে বললে হবে না। উনি হুমকি দিয়ে বাসায় চলে যায়। পরে মেস মালিককে জানাই। কিছুক্ষণ পর উনি অনেক লোকজন নিয়ে আসে। এদিকে এ ঘটনার কিছুক্ষণ পরে মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শতাধিক শিক্ষার্থী। পরে তারা উপাচার্যের বাস ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে কারা এসে তাদের ওপরে হামলা করেছে। এই দায়ভার আমি নেব কী করে? যে কেউ আমার নাম বলতে পারে। প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন আরটিভি নিউজকে বলেন, ঘটনা শোনার পরপরই আমি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলি এবং তাদের ঘটনাস্থলে যাওয়ার অনুরোধ জানাই। পাশাপাশি সহকারী প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে যেতে বলি।
জিএম/এসকে




