
আজ ৮ ডিসেম্বর চাঁদপুর হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ৭ এপ্রিল হানাদার বাহিনীর সদস্যরা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দুটি বিমানে চাঁদপুর শহরের ওপর দিয়ে পর পর প্রায় ২ ঘন্টাব্যাপী শেলিং করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় দুজন পথচারী মারা যায় এবং ৩৭ জন নারী-পুরুষ ও শিশু আহত হয়।
এদিকে পরদিন ৮ এপ্রিল বিকেলে ৫শ’ খানসেনাদের একটি বিরাট গাড়ির বহর কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে চাঁদপুর এসে পৌঁছায়।
পাক সেনারা মেঘনা, পদ্মা ও ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় রেল স্টেশনের অগ্রভাগে দুটি টর্চার সেল এবং আক্কাছ আলী স্কুল, পুরান বাজার শ্রম অধিদপ্তর কার্যালয়, টেকনিক্যাল স্কুল ইত্যাদি স্থানে ৮টি টর্চার সেল স্থাপন করে। দীর্ঘ ৯ মাস এই টর্চার সেলগুলোতে কত নারী-পুরুষকে হত্যা করা হয়েছে। নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে, তার হয়তো সঠিক তথ্য কেউ না জানলেও পাশেই বহমান পদ্মা, মেঘনা নদী নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অবশেষে ৭ ডিসেম্বর ভোর থেকেই মুক্তিবাহিনী ও মিত্র বাহিনী হাজীগঞ্জ, মোদাফ্রগঞ্জ ,বলাখাল, ফরিদগঞ্জ, বাবুরহাট ইত্যাদি স্থান দিয়ে পাকসেনাদের চতুরমুখী আক্রমণ চালায়। মিত্র বাহিনীর এই সম্মিলিত আক্রমণের মুখে সেনারা দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং গভীর রাতে মেঘনা নদী দিয়ে ঢাকার উদ্দেশে চাঁদপুর ত্যাগ করে। ৮ ডিসেম্বর ট্যাংকসহ মিত্র বাহিনী চাঁদপুর এসে শত্রুদের ধরতে শুরু করে এবং ট্যাংক থেকে মেঘনা নদীতে কামান আর বিমান থেকে গুলি করে পালিয়ে যাওয়া ৬ শতাধিক পাক সেনার একটি বিশাল বাহিনীকে মেঘনা নদীতে কবর রচনা করে। ফলে চাঁদপুর হয় মুক্ত।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণে বিএলএফ কামান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. হানিফ পাটোয়ারি আরটিভি নিউজকে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ শুনে আমরা যুদ্ধে গিয়েছি। চাঁদপুর কলেজে ট্রেনিং ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করেছি। ৪ তারিখ মিলিটারি যখন চাঁদপুর আসল, আমরা তখন চলে যাই। প্রথমত কয়দিন ফরিদগঞ্জে অবস্থান করেছিলাম। পরে ওখান থেকে ভারতে গিয়েছিলাম। ভারতে আমাকে স্পেশাল ট্রেনিংয়ের জন্য দেলাদুনে পাঠানো হয়েছিল।
জিএম




