
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন হচ্ছে এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম। তার (তানিম) বাড়ি নীলফামারী সৈয়দপুর শহরের মুন্সীপাড়া নিয়ামতপুর কোফফার রোডে। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে। তার অনুপস্থিতিতে গত বুধবার (৮ ডিসেম্বর) ওই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। আবু মো. কায়সার ওরফে পিন্টু ও সারাবন তহুরা দম্পতির দুই ছেলেমেয়ের মধ্যে এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম বড়।
তানিমের বাবা আবু মো. কায়সার ওরফে পিন্টু পেশায় একজন ওষুধ ব্যবসায়ী। শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে (রংপুর রোড) জিনাত ফার্মেসি নামে তাদের একটি ওষুধের দোকান রয়েছে।
তানিম সৈয়দপুর সরকারি কারিগরী মহাবিদ্যালয় (বর্তমান নাম সৈয়দপুর বিজ্ঞান কলেজ) থেকে ২০১৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ২০১৭ সালে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে সে বুয়েটে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হয়েছেন। নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদসহ এক কক্ষে সে থাকত বলে জানা যায়।
বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার চার থেকে পাঁচ দিন আগে সে সৈয়দপুরের বাসা থেকে ঢাকা যায়। আর আবরার ফাহাদ হত্যা ঘটনার পর থেকে তার কোনো হদিস নেই। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও তার কোনো রকম যোগাযোগ নেই বলে পরিবারের দাবি।
তানিমের সৈয়দপুর শহরের বাসায় খোঁজ নিয়ে জানা যায় সুনশান নীরবতা। বাড়ির প্রধান ফটকে অনেকসময় ধরে আওয়াজ দেওয়ার পর প্রথমে বেরিয়ে আসেন তানিমের চাচা। পরে প্রধান ফটকে এসে দাঁড়ান তার বাবা আবু মো. কায়সার ওরফে পিন্টু। তিনি ঠিকভাবে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারছিলেন না। বাড়ির প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা হয়।
এ সময় তিনি আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার পর থেকে তার পরিবারের সব সদস্যরা ভেঙে পড়েছেন। কতদিন হলো ছেলেটার মুখটি দেখি না। ছেলে আমার কোথায় কী অবস্থায় দিনাতিপাত করছে, তারও কোনো খবর নেই।
তিনি বলেন, ছেলের চিন্তায় তার মা সারাবান তহুরা ঘটনার পর থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে শয্যাশায়ী অবস্থা। ছেলের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে টেলিভিশনে এ খবর শুনে তিনি আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে কোনোভাবেই সান্ত্বনা দিয়ে রাখা যাচ্ছে না। এসব কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তানিমের বাবা পিন্টু।
তিনি বলেন, একমাত্র ছেলে না থাকায় আমরা তো মরে গেছি। মরা মানুষের আর কী খবর নেবেন? ছেলের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল কববেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন এ নিয়ে কোনো কিছুই বলতে পারছি না।
তানিমের সৈয়দপুরের বাড়ির প্রতিবেশী ষাটোর্ধ্ব মোছা. মালেক বেগম বলেন, তানিম একজন অত্যন্ত শান্তশিষ্ট স্বভাবে ছেলে। শিশুকাল থেকে আমি তাকে দেখে আসছি। সে লেখাপড়ার বাইরে কোনো কিছুতেই কখনও ছিল না। তার মতো নম্র, ভদ্র, বিনয়ী ছেলে একটি হত্যা ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে না। আমরা প্রতিবেশীরা এটি বিশ্বাস করতে পারছি না। ঘটনার পর প্রশাসনের অনেক লোকজন এসেছেন তাদের বাড়িতে। আমরা প্রতিবেশীরা তাদেরকে একই কথা বলেছি বার বার।
উল্লেখ্য, তানিম তার বন্ধু আবরার ফাহাদকে খুনিদের কাছে নিয়ে যায় এবং হত্যার পর তার মরদেহ নিয়ে সিঁড়িতে ফেলা দেওয়ার দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে বলে তার সহপাঠীরা সে সময় ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিল।
এমআই/টিআই




