
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এক প্রবাসী হাতিতে চড়ে বিয়ে করতে গিয়ে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন। সঙ্গে নিয়ে গেছেন ২ হাজার ৫০০ বরযাত্রী। হাতিসহ লাটবহর নিয়ে এমন জমকালো বিয়ের আয়োজন করায় এলাকায় দিনভর ছিলো প্রধান আলোচনার বিষয়। এই রাজকীয় বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে গত বৃহস্পতিবার (০৯ ডিসেম্বর) উপজেলার পৌর এলাকার কোহিত মহল্লায়।
বিয়েতে অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আজিজ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুরসহ জাতীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
জানা গেছে, মহল্লার বাসিন্দা তাড়াশ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মো. রব্বেল প্রমাণিক। প্রায় ২৫ বছর আগে তারই বড় ভাই মো. একদিল প্রমাণিকের স্ত্রী সন্তান প্রসব করতে গিয়ে মারা যান। এ সময় রব্বেল প্রমাণিক ও তার স্ত্রী কমেলা খাতুন মা হারা সন্তানকে বাড়িতে নিয়ে যান। ছেলেকে কোলে নিয়ে তার নাম রাখেন মো. রতন প্রমাণিক। পাশাপাশি পাড়া প্রতিবেশীদেরও সামনে ঘোষণা দেন ছেলে বড় হলে তাকে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করাতে যাবেন এবং হাতির পিঠে চড়িয়ে নতুন বউমাকে বাড়িতে নিয়ে আসবেন।
সেই থেকেই রতন ওই বাড়িতে লালিত পালিত হয়েছেন। পরবর্তীতে রতন ভিসা নিয়ে ইরাকে চলে যান। তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসী হিসেবে কাজ করে সম্প্রতি দেশে ফিরে আসেন।
বৃহস্পতিবার (০৯ ডিসেম্বর) তাকে ধুমধাম করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কনে একই উপজেলার মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের দিঘিসগুনা গ্রামের রইচ উদ্দিনের মেয়ে জোসনা খাতুন (২০)।
এদিকে, রব্বেল প্রামাণিক শখ মেটাতে ছেলের বিয়েতে বগুড়া থেকে একটি হাতি ভাড়ায় নিয়ে আসেন। ১৫ হাজার টাকায় সার্কাসের হাতি আনেন তিনি।
সকাল থেকেই বিয়ে বাড়িতে ভিড় করে এলাকাবাসী। উদ্দেশ্য এক নজর বরকে হাতির পিঠে দেখা। উৎসুক জনতাকে সামাল দিতে হিমশিম খায় পরিবারের সদস্যরা।
গত বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে হাতির শরীরে লেখা হয় বর ও কনের নাম। দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে বর যাত্রীরা বরকে হাতির পিঠে চড়িয়ে নিয়ে যান কনের বাড়িতে। এ সময় বর ও কনের বাড়ি এলাকার চার-পাঁচটি গ্রামের শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী লোকজন কনে ও বরের বাড়িতে হাতি, বউ ও জামাইকে দেখতে ভিড় জমায়।
বর রতন আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, বাবার শখ পূরণ করতেই হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে এসেছি।
বরযাত্রী জামান উদ্দিন, শামীম হোসেন, গিয়াস উদ্দিন আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, এ অঞ্চলে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করার ঘটনাটি সচরাচর ঘটে না। তাই বিষয়টি উপভোগের বিষয় ছিল বটে।
এমআই




