
রাজশাহী মহানগরীতে মৃত ছাগলের মাংস ও রুগ্ন-অসুস্থ ছাগলের মাংস সরবরাহের অভিযোগে ৪ জনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রোববার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. আরেফিন জুয়েল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন, রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার দরগাপাড়ার মো. মশিউর রহমান আপেল, মো. ফাইসাল, সহযোগী মো. কায়েস ও মো. ফয়সাল হোসেন।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ডিবির একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে পিকআপযোগে মৃত ছাগলের মাংস রাজশাহী শহরে নিয়ে আসছে। এসব মাংস বিভিন্ন খাবার হোটেলে সরবরাহ করা হবে। এমন খবরে শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের বালিয়ার মোড়ে পিকআপ আটকে তল্লাশি করা হয়। এ সময় ১৫০ কেজি মৃত ছাগলের মাংস, ৪টি জবাই করা মৃত ছাগল ও ২৭টি রোগাক্রান্ত ছাগল জব্দ করা হয়। এর সঙ্গে জড়িত থাকায় নগরীর দরগাপাড়া এলাকার মো. মশিউর রহমান আপেল, মো. ফাইসাল, মো. কায়েস ও মো. ফয়সাল হোসেনকে আটক করা হয়।
রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. আরেফিন জুয়েল জানান, আটককৃতদের কাছে মাংস সরবরাহের বৈধ কাগজপত্র চাইলে তারা দিতে ব্যর্থ হন। এছাড়া জবাইকৃত পশু কীভাবে কিনে এনেছে জানতে চাইলে তারা কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি। পরে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তারা দীর্ঘদিন যাবত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ এলাকা থেকে মৃত ছাগলের মাংস ও মৃত ছাগল এবং রুগ্ন-অসুস্থ ছাগল স্বল্প মূল্যে ক্রয় করে রাজশাহী মহানগরের বিভিন্ন খাবার হোটেল-রেস্তোরাঁ, ফাস্টফুড ও চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, বিরিয়ানি হাউজ ও বাজারে সরবরাহ করে আসছে।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে ডিবি পুলিশ বস্তা ভর্তি মাংস ও জবাইকৃত মৃত ছাগলগুলো পরীক্ষার জন্য রাজশাহী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়ে যায়। সেখানে জেলা সেনেটারি ইন্সপেক্টর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ছাগলগুলো মৃত অবস্থায় জবাই করা হয়েছে ও মাংসগুলোও মৃত ছাগলের মাংস এবং জীবিত ছাগলগুলো রুগ্ন-অসুস্থ ও স্বাস্থ্যসম্মত নয় বলে জানান।
এদিকে বিষয়টি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়। আটককৃতরা সাহেব বাজারের মাংসপট্টি সমিতির সভাপতি-সেক্রেটারি, গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা, সাধারণ জনগণ ও জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সামনে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ করবে না মর্মে ক্ষমা চান। পরে জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর পাঁচজনকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরবর্তীতে তারা জেনো এমন অপরাধ না করেন সেই শর্তে ক্ষমা পান। এছাড়া জবাইকৃত মৃত ছাগল ও মৃত ছাগলের মাংস রাসিক ভাগাড়ে নিয়ে মাটিতে পুতে ধ্বংস করা হয়।
জিএম




