
কক্সবাজারে স্বামী-সন্তান নিয়ে বেড়াতে আসা নারী পর্যটক ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার জিয়া গেস্ট ইন হোটেল ম্যানেজার রিয়াজুদ্দিন ছোটনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক রুহুল আমিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে একই দিন সন্ধ্যায় কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ রিয়াজুদ্দিনকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজিনের আদালতে তুলে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি জিল্লুর রহমান জানান, নারী পর্যটককে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার হোটেল ম্য্যনেজার রিয়াজুদ্দিনকে এ মামলার তদন্তের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। তাই তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
তিনি জানান, মামলাটির তদন্ত গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হচ্ছে। ধর্ষণের ঘটনায় শনাক্ত মুল আসামি আশিক বাবু জয়সহ আরও যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, কক্সবাজারে আলোচিত নারী পর্যটকের ধর্ষণ মামলাটি থানায় রুজু হওয়ার পর তদন্ত করার জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশকে দেওয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ভিকটিম নারীকে মেডিকেল রিপোর্টসহ নানা প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ‘মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পুলিশের হাতে এসেছে। আমরা চাই মামলাটি তদন্ত সাপেক্ষে আসল ঘটনা উৎঘাটিত হোক এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিত হোক।
এর আগে ভুক্তভোগী নারী পর্যটকের জবানবন্দি গ্রহণ করেছে আদালত। শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের জ্যৈষ্ঠ বিচারিক হাকিম হামীমুন তানজীনের আদালতে হাজির করে জবানবন্দি গ্রহন করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২২ ডিসেম্বর রাতে স্বামী-সন্তান নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার হন নারী পর্যটক। ধর্ষণের শিকার ওই নারীর ভাষ্য, ‘স্বামী-সন্তান নিয়ে ওইদিন সকালে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে পৌঁছান। ওঠেন শহরের হলিডে সি-ল্যান্ডের ২০১নং কক্ষে। ওই দিন বিকেলে স্বামী-সন্তানকে নিয়ে লাবণি বিচে যান। রাতে হোটেলে ফেরার পথে এক যুবকের সঙ্গে তার স্বামীর ধাক্কা লাগে। এতে স্বামীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে ওই যুবক। বাধা দিলে তার সঙ্গেও তর্কে জড়ায় যুবক। ওই সময় আরও দুই যুবক ঘটনাস্থলে এসে হাজির হয়। তারা স্বামী-সন্তানকে ইজিবাইকে তুলে দিয়ে ওই নারীকে আলাদা করে ফেলে। পরে ওই এলাকার একটি ঘরে নিয়ে তিন জন পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এরপর স্বামী-সন্তানকে হত্যার ভয় দেখিয়ে শহরের জিয়া গেস্ট ইন নামের একটি হোটেলে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় ধর্ষিতা নারীর স্বামী মামুন মিয়া বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় আশিক বাবু জয় রিয়াজুদ্দিনের নাম উল্লেখ করে আরও দুই তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখানো হয়েছে।
জিএম/এসকে




