
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসক ও ব্রাদারের বিরুদ্ধে চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মৃত রোগীর স্বজনরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শহরের পশ্চিম ঝালকাঠি এলাকার বাসিন্দা ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী ফরিদ হোসেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে তার বড়ভাই কাঁচামাল ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন শহরের বড় বাজারে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজন তাকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তমাল হালদার ও ব্রাদার সমর চক্রবর্তী ফারুক হোসেনের প্রেসার মেপে উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন বলে জানায়।
ওই চিকিৎসক ও ব্রাদার তাকে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে অনেকক্ষণ হাসপাতালে বসিয়ে রাখেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার অনুরোধ করা হলে ডাক্তার ও ব্রাদার তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। ফারুককে চিকিৎসার জন্য বরিশালে রেফার্ড করেন ওই চিকিৎসক। বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরে তার মৃত্যু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মৃতের পরিবার অভিযোগ করেন, ফারুক হোসেনকে দ্রুত ঝালকাঠি হাসপাতালে নিয়ে আসলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ও ব্রাদার চিকিৎসায় কোনো গুরুত্ব দেয়নি। এমনকি প্রাথমিক চিকিৎসাও তারা করেনি। উল্টো তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে। চিকিৎসা অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। তাই ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের ওই চিকিৎসক ও ব্রাদারের বিচার দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
মৃতের বোন জোসনা বেগম বলেন, আমার ভাই ফারুক হোসেনের স্ত্রী চার বছর আগে দুটি কন্যাসন্তান রেখে মারা যান। মেয়েদের দেখাশোনা করতেন ওদের বাবা। চিকিৎসকের অবহেলায় ওদের বাবারও মৃত্যু হলো। এখন মেয়ে দুটি এতিম হয়ে গেল। এ মৃত্যুর জন্য দায়ি সদর হাসপাতালের চিকিৎসক তমাল হালদার ও ব্রাদার সমর চক্রবর্তী। আমি তাদের শাস্তি দাবি করছি।
এ ব্যাপারে ডা. তমাল হালদারের বক্তব্য জানার জন্য তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার কর্তৃপক্ষ ছাড়া কারও কাছে কোনো বক্তব্য দেব না।
এমআই/এসকে




