
বয়স-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ৮৭ জন শিক্ষার্থীর ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর বয়স কমপক্ষে ১১ বছর হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ভর্তির ফরম তুলতে না পেরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।
অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষককে আল্টিমেটাম দিয়েছে এবং জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করে তাদের দাবি জানান।
অভিভাবক কামরুল হাসান সুমন বলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। গত ১৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত লটারিতে আমার সন্তান ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছে। জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় আমরা খুশি হয়েছি। ছেলেকে নিয়ে ভর্তি করাতে বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু ফরম দিল না। তারা বলছেন, আমার ছেলের বয়স কম। তাহলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির সময় কেউ বলেননি কেন? এখন আমার ছেলের লেখাপড়া কি বন্ধ হয়ে যাবে?
নাসরিন আক্তার বলেন, ‘আমার সন্তান ভর্তির সুযোগ পেয়েও বয়সের জটিলতার কারণে ভর্তি করতে পারছি না। এখানে আমার কিংবা আমার ছেলের তো কোনো দোষ নেই। তাহলে আমার ছেলের এখন কী হবে? বয়স যদি কম থাকে, তাহলে লটারির আগে কেনো বলেননি, অনলাইনে ওকে হলো কেনো?
কামরুল হাসান, নাসরিন আক্তারের মতো অন্যরাও একই ধরনের অভিযোগ করেন।
মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী মাকসুদা ইয়াসমিন বলেন, ‘জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির বয়স হতে হবে কমপক্ষে ছয় বছর। সেই হিসেবে দ্বিতীয় হতে নবম শ্রেণির ভর্তির বয়স নির্ধারিত হবে এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সময় তার বয়স হতে হবে কমপক্ষে ১১ বছর। ১৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য লটারিতে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৩৫৮ জন ভর্তির জন্য মনোনীত হয়। প্রভাতী শাখায় ১৮০ জন এবং দিবা শাখায় ১৭৮ জন। ভর্তির ফরম বিতরণ ও জমা নেওয়া শুরু হয়েছে ২০ ডিসেম্বর থেকে। ভর্তির শেষ তারিখ ২৩ ডিসেম্বর। ভর্তির নীতিমালা অনুযায়ী, এবার ষষ্ঠ শ্রেণিতে বয়স ১১ বছরের নিচে থাকায় ৮৭ জনকে আমরা ভর্তির ফরম দিতে পারিনি। চলমান সমস্যার বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি।’
জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল লতিফ বলেন, ভর্তির নীতিমালা অনুযায়ী ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীর বয়স কমপক্ষে ১১ হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ কারণে মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের সৃষ্ট সমস্যা শুধুমাত্র মানিকগঞ্জের নয়। দেশের অন্যান্য যায়গাতেও সমস্যা হচ্ছে। আমি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। নিশ্চয়ই এ ব্যাপারে আমরা নির্দেশনা পাব।
এমএন/টিআই




