
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী লঞ্চ এমভি অভিযান এ আগুন লেগে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। লাফিয়ে পড়া মানুষের সন্ধানে রোববার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল থেকে অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা। তবে এখন পর্যন্ত কোন মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের স্বজনদের দাবি কমপক্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ নদীতে লাফিয়ে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
তাদের সন্ধানে সুগন্ধার তীরে অপেক্ষায় আছেন স্বজন ও সহকর্মীরা। কেউ আবার ট্রলার নিয়ে নদীর বিভিন্ন প্রান্তে খুঁজে বেড়াচ্ছেন প্রিয়জনকে। তাদের অভিযোগ লঞ্চ কর্তৃপক্ষ যদি আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে লঞ্চটি কোথাও ভেড়াতে পারতো। তাহলে এতো প্রাণহানি ঘটতো না। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এ মৃত্যু হয়েছে। তাই লঞ্চ কর্তৃপক্ষের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিখোঁজদের স্বজনরা।
এদিকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহে পুলিশের পক্ষ থেকে লঞ্চঘাট এলাকায় একটি কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। সেখানে স্বজনরা এসে তথ্য দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সদর থানার ওসি মো. খলিলুর রহমান।
পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নিখোঁজের ৪১ জনের তালিকা করা হয়েছে। পাশাপাশি রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে ৫১ জনের তালিকা করা হয়েছে।
এছাড়া আগুনের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান সুগন্ধা নদীর বিভিন্ন স্থান স্পীডবোট নিয়ে পরিদর্শন করেন।
তিনি বলেন, অনুসন্ধান করে দুর্ঘটনার কিছু কারণ তুলে ধরেন তিনি। দুর্ঘটনার জন্য লঞ্চের স্টাফদের দায়ী করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, লঞ্চটিতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকলে হতাহতের সংখ্যা এত বাড়ত না। জাহাজের চালক বা স্টাফরা দ্রুত লঞ্চটি কিনারায় ভিড়িয়ে নোঙর করতেন, এতে বহুযাত্রী মাটিতে নামার সুযোগ পেতেন। কিন্তু সে কাজটিও লঞ্চের চালক ও স্টাফরা করেননি।
তিনি আরও বলেন, নদীর পানি ব্যবহার করেই পাম্প মেশিনের মাধ্যমে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা যেত, সেটিও করেননি তারা। আমাদের তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তদন্ত শেষ হলে আগুনের সূত্রপাতের কারণ জানানো হবে।
এমআই




