
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে লঞ্চ এমভি অভিযান-১০ এ আগুনের ঘটনায় নিহতের এক স্বজন ঝালকাঠি থানায় আরও একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ডেমরা এলাকার মনির হোসেন সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে মামলাটি করেন। মামলায় লঞ্চের মালিক, চালকসহ ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন, লঞ্চের মালিক হামজালাল শেখ, লঞ্চে থাকা দুই মাস্টার রিয়াজ সিকদার ও খলিল, দুই ড্রাইভার মাসুম ও কালাম, সুপারভাইজার আনোয়ার, সুকানী আহসান ও কেরানি কামরুল।
এজাহারে বলা হয়েছে, লঞ্চের ইঞ্জিনে যখন ত্রুটি দেখা দেয়। তখনও লঞ্চের স্টাফরা যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া তুলতে থাকেন। লঞ্চটির নিচতলার পেছনের অংশে থাকা ইঞ্জিন রুমে যখন আগুন ধরে যায় তখন চালক ও স্টাফরা যাত্রীদের বাঁচাতে লঞ্চ তীরে ভেড়ানো বা নোঙর করার চেষ্টাটুকুও করেননি। বরং নিজেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে পালিয়েছেন।
এদিকে গত ২৫ ডিসেম্বর লঞ্চ দুর্ঘটনায় ঝালকাঠি সদর থানায় অপমৃত্যু মামলা করেন সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের গ্রামপুলিশ জাহাঙ্গীর হোসেন। এ ছাড়া নৌ-আদালতে একটি ও বরগুনায় আরও একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ফলে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৪টি মামলা হলো।
মনির হোসেন জানিয়েছেন, লঞ্চ কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে এত প্রাণহানি হয়েছে। এতে তার বোন তাসলিমা আক্তার, দুই ভাগনি সুমাইয়া আক্তার মীম ও সুমনা আক্তার তানিশা এবং ভাতিজা জোনায়েদ ইসলাম বায়জিদ নিখোঁজ আছেন।
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান জানান, এর আগে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছিল। যেহেতু এখন মূল মামলা দায়ের হয়েছে তাই অপমৃত্যু মামলার কার্যক্রম এখন আর এই ঘটনায় চলমান থাকবে না।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ নামের লঞ্চে আগুন লাগে। এতে এখন পর্যন্ত ৪২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ ৫১ জনের তালিকা দিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
জিএম/এসকে




