
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন নির্বাচনের মেম্বার পদে পরাজিত প্রার্থীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বিজয়ী প্রার্থীর বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের হরিরামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে তার মৃত্যু নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। শাহারুলের পরিবারের দাবি, ওই ওয়ার্ডের বিজয়ী ইউপি সদস্য ফিরোজ কবীরের সমর্থকদের হামলায় তিনি মারা গেছেন। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনাটি তদন্ত চলছে। তদন্ত কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।
নিহত ব্যক্তির নাম শাহারুল ইসলাম। তিনি চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হরিরামপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদে নির্বাচনে অংশ নেন। এ ছাড়া তিনি একই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদেও ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনরা জানান, হরিরামপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য পদে ফুটবল প্রতীকে ৯৮৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন ফিরোজ কবীর। তিনি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শাহারুল ইসলাম টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে ভোট পেলেন ৮৩৮।
এদিকে মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফিরোজ কবীরের একটি বিজয় মিছিল বের হয়। মিছিলের নেতৃত্ব দেন ফিরোজ নিজেই। মিছিলটি পরাজিত প্রার্থী শাহারুলের বাড়ির অদূরে পৌঁছালে তার এক সমর্থককে মারধর করেন মিছিলকারীরা। এ সময় মিছিল থেকে শাহারুলের ওপর অতর্কিত হামলা করে তাকে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক সারওয়ার জাহান বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই রোগীর মৃত হয়েছে। তবে তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফিরোজ কবীরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে আরটিভি নিউজকে জানান, শাহারুল একজনের মোটরসাইকেলে করে দাওয়াত খেতে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি ওই গ্রামের রফিকের দোকানের সামনে গেলে হঠাৎ করে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে হাসপাতালে পাঠায়।
তিনি আরও জানান, এর আগে কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট করে মৃত্যুর বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।
জিএম/এসকে




